০৬:৪৩ পি.এম
মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. কলিম উদ্দিন, যিনি কালু নামে পরিচিত, তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় শোনার পর তিনি ইজলাস থেকে নেমে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২টায় মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এই রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে, আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালু মেহেরপুর জেলার পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
মামলা সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, ফলে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। পরে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের মাস্টার নোটিশ জারি করেছে। জরিমানার অর্থ যদি তিনি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। যদি আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দাবিটি অন্য যেকোনো দাবির চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।
এ ছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে নিলাম থেকে আসা অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ওই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা মামলার ভুক্তভোগীকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আসামি চাইলে রায়ের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। বিচারাধীন সময়ে আসামির হাজতবাসের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৫এ ধারার বিধান অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, রায় ঘোষণার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় কার্যার্থে মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য রায়ের অনুলিপি মেহেরপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছেও পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা কালুর অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন