০৬:৪৪ পি.এম
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বিএনপির গোছানোর দায়িত্ব পেলেন ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান। তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলাতে অনেক চ্যালেঞ্জে পড়েছিলেন। দলের পক্ষ থেকে কঠিন সময়ে তাঁর নেতৃত্বের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয়েছে। যদিও তিনি নির্বাচনে জয়লাভ করেননি, তবুও মানুষের ভালোবাসা এবং দলের বিশ্বাস তাঁর রাজনৈতিক পথচলাকে আরো মসৃণ এবং দৃঢ় করেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কামরুজ্জামান পার্বতীপুর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। এ বছরের আগস্ট মাসে তাঁকে পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দলের নতুন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিএনপির ঘোষিত পার্বতীপুর উপজেলা আহ্বায়ক কমটিতে তার নাম আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, নির্বাচনের পর এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার হাতে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর প্রতি আস্থার প্রকাশ ঘটিয়েছে।
দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও বিএনপির রাজনীতি থেকে কামরুজ্জামান কখনো বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইন উপদেষ্টা হিসেবেও পরিচিত। রাজনৈতিক ও আইনগত কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার কারণে তিনি অনুসারীদের কাছে ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারি’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
কিন্তু পার্বতীপুরের রাজনীতিতে তাঁর পথচলা সহজ ছিল না। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কিছু অংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বিএনপি দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর–ফুলবাড়ী) আসনে দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর ওপর আস্থা রাখে।
নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির তৎকালীন স্থানীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক। তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন, যা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ছিল। ফলে তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। আবশেষে নির্বাচনে রেজওয়ানুল হক জয়ী হন এবং ধানের শীষের প্রার্থী কামরুজ্জামান পরাজিত হন।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একই রাজনৈতিক বলয়ে দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির ভোট ও সাংগঠনিক শক্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করেছিল। এর ফলে ধানের শীষের নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর কামরুজ্জামান রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং, তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করেছেন।
তিনি তৃণমূলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার, নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভক্তি কমানোর এবং দলের নতুন সংগঠন গড়ার কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২০ আগস্ট কেন্দ্রীয় বিএনপি তাঁকে পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে পরাজয়ের পরপরই সাংগঠনিক নেতৃত্ব কামরুজ্জামানের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এখন তাঁর সামনে প্রধান কাজ হবে নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিভক্তি কাটিয়ে পার্বতীপুর বিএনপিকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।
এদিকে কামরুজ্জামানের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলে ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামানকে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অফিসিয়াল ঘোষণা আসেনি এবং বিষয়টি আপাতত দলীয় সূত্রনির্ভর সম্ভাবনা হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিনের বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজের অভিজ্ঞতা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্কের কারণে কামরুজ্জামান এখন কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসছেন বলে মনে করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, 'নির্বাচনে জয়-পরাজয় রাজনীতির অংশ। তবে দল, আদর্শ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমার ওপর যে আস্থা রেখে পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে চাই।'
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
তিনি আরও বলেন, 'অতীতের বিভেদ ভুলে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে পার্বতীপুরে একটি শক্তিশালী ও গণমুখী বিএনপি গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান অঙ্গীকার। আমার কাছে পদ নয়—দায়িত্ব ও মানুষের আস্থাই সবচেয়ে বড়।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন