ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’, এক লাখ টাকার পুরস্কার


পুন্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’, এক লাখ টাকার পুরস্কার

বগুড়ার পুন্ড্র ইউনিভার্সিটিতে তরুণদের জন্য ‘ইনোভেশন অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ চ্যালেঞ্জ’ নামে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার আয়োজন ওপেন ল্যাব বাংলাদেশের উদ্যোগে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য ছিল এই বিশেষ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।

এই অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিল্ডিং এ ট্রিলিয়ন-ডলার ইকোনমি বাই-২০৩৪’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইন জুমের মাধ্যমে যোগদান করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, এছাড়াও গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) চেয়ারম্যান এবং টিএমএসএস এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. হোসনে-আরা বেগম।

এ সময় পিইউবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্রের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিওটি’র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মো. মতিউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. রফিকুল আহসান, ট্রেজারার ও পরিচালক মো. আফসার আলী, রেজিস্ট্রার গৌতম কুমারসহ আরো কিছু উপস্থিত ব্যক্তি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

অনুষ্ঠানের মধ্যে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন সেমিনার, স্টার্টআপ বিষয়ক আলোচনা, হ্যাকাথন, পিচিং সেশন, মেন্টরশিপ এবং তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য সম্ভাব্য সিড ফান্ডিংয়ের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, অনুষ্ঠানটি ওপেন ল্যাব-এর আয়োজনের পাশাপাশি সহযোগিতা করেছে ইডিজিই, এটুআই, বাংলাদেশ হাই টেক পার্ক অথরিটি এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে বগুড়া এবং উত্তরাঞ্চলের তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে তাদের মতে, একটি টেকসই উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠান শেষে চ্যাম্পিয়ন দলকে দুই লাখ টাকা এবং রানার্সআপ দলকে এক লাখ টাকার প্রাইজমানি প্রদান করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধুনটে যমুনার ভাঙনে শহড়াবাড়ি স্পারের ৩০ মিটার নদীগর্ভে চলে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৬ পি.এম


ধুনটে যমুনার ভাঙনে শহড়াবাড়ি স্পারের ৩০ মিটার নদীগর্ভে চলে গেছে

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে।

এই অবস্থা চলাকালীন, বগুড়ার ধুনট উপজেলায় নদীভাঙন আবারও শুরু হয়েছে।

উপজেলার শহড়াবাড়ি স্পারের সামনের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এ ভাঙনটি ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, যমুনার প্রবল স্রোত শহড়াবাড়ি স্পারের সামনের অংশকে ধসে নদীতে নিয়ে যায়। তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় আরও বড় পরিসরে ভাঙন দেখা দিতে পারে।

ভাঙন ধীরে ধীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। এ কারণে তাঁরা স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসেও ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি এলাকায় যমুনার আকস্মিক ভাঙনে ভূমিসহ নয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

পরে, এই ভাঙন ঠেকাতে নদীতীরজুড়ে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হয়েছিল।

সম্প্রতি যমুনার পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।

নদীর প্রবল স্রোতে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত নদীতীরে আঘাত হানায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের ভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না।

ফলে বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

ভাঙনের খবর পেয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বর্তমানে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, ভাঙন ঠেকাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জিওব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


টাঙ্গাইলে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু হয়েছে

‘বৃক্ষ দিয়ে সাজাই দেশ, সমৃদ্ধ করি বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বেলুন উড়িয়ে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

এসময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অন্যন্য কর্মকর্তাবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সবাইকে বলেন, গাছের যত্ন নিলে দেশের পরিবেশ সবুজে রূপান্তরিত হবে। বক্তারা সকলকে বৃক্ষরোপনের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ মেলার স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় মোট ৩৬টি স্টল বসেছে। সপ্তাহব্যাপী এই মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক রাতেই শেয়ালের কামড়ে ১৪ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


এক রাতেই শেয়ালের কামড়ে ১৪ জন আহত

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক রাতের মধ্যে শেয়ালের কামড়ে নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। আক্রমণের ফলে যারা আহত হয়েছেন, তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার(১১ জুলাই) রাতে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা এবং শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি এলাকায় শেয়াল আক্রমণের ঘটনা ঘটে।

শেয়ালের কামড়ে আহতদের মধ্যে মো. আকাশ(১৩), নাঈম(১১), মাজেদা(৪৫), রোজিনা(৩৬), হেলেনা আক্তার (৪০), আশরাফুল ইসলাম (২৬), শেফালী(৩৪), সাইফুন্নাহার(২৩) এবং আরাফ (১৪) উল্লেখযোগ্য। তবে আহত অন্যান্যদের নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভাংনাহাটি গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল মিয়া জানিয়েছেন, শ্রীপুর উপজেলার আশপাশের এলাকায় শাল-গজারি বনে ঘেরা অবস্থায় রয়েছে। ওই বনগুলোতে বিভিন্ন পশু, প্রাণী ও পাখির বসবাসের অযোগ্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায়ই শেয়াল বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে। গতকাল রাতে শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি কামিল মাদ্রাসার পাশে একটি বসতঘরে ঢুকে শেয়াল দুই নারীকে কামড়িয়ে আহত করেছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল রাতে শেয়ালের কামড়ে আহত ১৪ জন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা, ক্ষত পরিষ্কার করা এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফ হোসেন বলেছেন, সম্প্রতি বেশ কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির ফলে বনের শেয়ালের গর্তে পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় শেয়াল স্থানীয় এলাকায় চলে আসছে। তিনি জানান, লোকালয়ে আসা বন্য প্রাণীর আচরণ অস্বাভাবিক মনে হলে, প্রাণীকে উত্ত্যক্ত না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। শেয়ালের কামড় বা আঁচড়ের পর অবশ্যই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করার বিষয়ে পরামর্শ দেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মিয়ানমার-চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৩ পি.এম


‘মিয়ানমার-চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর থেকেই ঢাকা এবং বেইজিংয়ের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ (সিএমবিসি) সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই করিডোরটি চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, এই প্রকল্পে চূড়ান্ত সম্মতি দেওয়ার আগে বাংলাদেশকে এর অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করতে হবে।

গেল জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’-এর প্রস্তাবটি নতুন করে আলোচনায় আসে। ১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ওই সফরেই ঢাকা ও নিজেদের তৃতীয় যৌথ ইশতেহার জারি করে বেইজিং। সেই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল এই অর্থনৈতিক করিডোর। প্রকল্পটির মূল পরিকল্পনা হলো— সড়ক ও রেলযোগাযোগের মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরের সাথে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের বন্দরগুলোর সংযোগ স্থাপন করা।

চীনের জন্য এই করিডোর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল মালাক্কা প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর একটি সংক্ষিপ্ত পথ প্রদান করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও এই করিডোরের মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বর্ধিত বিনিয়োগ, বাণিজ্যের প্রসার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

তবে এই উদ্যোগটি একেবারেই নতুন নয়। এটি ১৯৯৯ সালে প্রস্তাবিত 'বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার' (বিসিআইএম) করিডোরের পরিবর্তিত রূপ। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) এবং অঞ্চলে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে পরবর্তী সময়ে এই প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। ফলে ভারতকে ছাড়াই এখন মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে নিয়ে এই করিডোর এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে চীন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই করিডোরের প্রস্তাব বাংলাদেশে বড় সুযোগ এনেছে। আবার একটি কঠিন সমীকরণের মুখোমুখিও দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশকে একই সাথে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হচ্ছে।

এদিকে, চীন এই প্রকল্প এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে বেশ তৎপর। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, চীনা কর্মকর্তারা এই করিডোরের একটি কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) তৈরি করছেন। পাশাপাশি, মিয়ানমারে নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দেশটির বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বেইজিং।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশ শক্তিশালী। তবে দুদেশের বাণিজ্য চিত্র মারাত্মকভাবে ভারসাম্যহীন। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, চীন থেকে প্রায় ২২.৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এর বিপরীতে চীনে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২১.৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সক্ষম হবে না। যদি বাংলাদেশ নিজের শিল্প সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি পণ্য বাড়াতে না পারে; তবে এই করিডোর ব্যবহার করে বাংলাদেশ উল্টো আরও বেশি চীনা পণ্যের বাজারে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রফতানি আয় এখনো তৈরি পোশাক ও শ্রমঘন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, উন্নত প্রযুক্তি, সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) এবং বৃহৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে আধিপত্য ধরে রেখেছে চীন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগ অবকাঠামো অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অংশ। বাংলাদেশ পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি করেছে। তবে পণ্য পরিবহন, লজিস্টিকস সাপোর্ট, গুদামজাতকরণ, কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টের মতো খাতগুলোয় বড় ঘাটতি রয়েছে। এসব অভ্যন্তরীণ প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা না হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক উৎপাদন বা বাণিজ্য কেন্দ্র হওয়ার বদলে কেবল একটি ‘ট্রানজিট রুট’ হিসেবেই রয়ে যাবে।

এছাড়া, বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বিপুল বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়া জরুরি। অর্থনীতিবিদদের মতে, যেকোনো বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বন্দর আধুনিকীকরণ, রফতানি অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শিল্প উন্নয়নের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোকে আগে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

করিডোরের বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। প্রস্তাবিত রুটটি মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যের ওপর দিয়ে যাবে। যদিও সেখানে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। বর্তমানে করিডোরের প্রস্তাবিত অঞ্চলের একটি বড় অংশ আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে বা প্রভাবে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি কোনো অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকটও যোগ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক যোগাযোগের যেকোনো উদ্যোগে যেন রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটি কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত বা উপেক্ষিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিয়েছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে অবকাঠামো তৈরি হলে তা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের পরোক্ষভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তাই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি ব্যাপকভিত্তিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন আবশ্যক।

করিডোরটিকে ঘিরে জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণ বিদ্যমান। কারণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সংবেদনশীল সীমান্ত এবং কৌশলগত ‘শিলিগুড়ি করিডোর’-এর কাছাকাছি চীনের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি ঢাকাকে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

তবে বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো, কোনও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ না হয়ে বাংলাদেশের উচিত কেবল নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এই প্রস্তাবের লাভ-ক্ষতি বিচার করা। লাওস-চীন রেলওয়ে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপেক) অথবা শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের মতো প্রকল্পগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। কারণ এসব উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই অর্থনৈতিক সফলতা আসবে না। এর জন্য স্বচ্ছ অর্থায়ন, নিখুঁত সম্ভাব্যতা যাচাই, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি থাকা সমভাবেই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভালো পথ হবে একবারে বড় ঝুঁকিতে না গিয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া। আপাতত ছোট ও বাস্তবসম্মত যোগাযোগ প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে চীনের প্রস্তাবিত এই করিডোরটিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে রাখা যেতে পারে। একই সময়ে কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশে রফতানিমুখী চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি, ঋণের স্থায়িত্ব (ডেট সাসটেইনেবিলিটি), পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমের মান এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের একটি স্পষ্ট জাতীয় নীতিমালা থাকা উচিত, যাতে ভবিষ্যতের যেকোনো যোগাযোগ প্রকল্প দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।

সব মিলিয়ে, এই করিডোর আঞ্চলিক যোগাযোগে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রাখলেও, এর চূড়ান্ত সাফল্য কেবল সড়ক বা রেললাইনের ওপরই নির্ভর করছে না। বরং এটি নির্ভর করছে বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতিকে কতটা শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক এবং স্থিতিস্থাপক হিসেবে গড়ে তুলতে পারছে, তার ওপর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%