ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মজুত বাড়াতে আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার


মজুত বাড়াতে আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

ধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে সরকারের তরফ থেকে জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখতে এবং জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে ৯০ দিনের মজুত সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (গ্যাস অয়েল) এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল (উড়োজাহাজের জ্বালানি) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’, যার জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানাচ্ছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় এই জ্বালানি তেল ক্রয় করতে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিপিসির এ প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সরকার প্রতি ছয় মাসে দেশের চাহিদার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেল এবং জেট ফুয়েল আমদানি করে। এ কারণে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের চাহিদার বিপরীতে বিপিসি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। সেটি পরে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য পাঠাচ্ছে। ইতোমধ্যেই কমিটি শব্দকৃতভাবে অনুমোদন দিয়েছে।’

মনির হোসেন চৌধুরী আরও জানান, ‘আমরা প্রশাসনিক ছাড়পত্র দিয়ে এটি বিপিসির কাছে পাঠিয়েছি। পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য বিপিসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোয়া (নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড) দেবে এবং এরপর সরবরাহ শুরু হবে।’

বিপিসির কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটের সময়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কৃষিকাজ যথার্থভাবে চলতে পারে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ১০ জুন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার চিঠি ১৭ জুন পাওয়া গেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘নোয়া’ দেওয়ার পর দ্রুতই তেল সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মিজানুর রহমান আরও জানান, ‘সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে—যেকোনো মূল্যে দেশে ৯০ দিনের জ্বালানি তেল মজুদ রাখতে হবে। বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের মজুত রয়েছে এবং প্রতি ছয় মাস পর পর নিয়মিত তেল আমদানি করা হবে।’

এদিকে, গত ২৪ মে জ্বালানি বিভাগে পাঠানো বিপিসির এক প্রস্তাবে জানানো হয়েছে, জুন-আগস্ট সময়সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানি করা হবে। দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দরপত্রে পরিমাণের কিছুটা কম-বেশি রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের গত ১৩ মে তারিখের ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী এই আমদানিতে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার।

বৈশ্বিক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি এবং বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে বিপিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও জটিল।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

বিপিসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী ৬০ দিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং এলসি খোলার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে, তাই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণে একটি স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলা বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা ভোক্তাদের স্বস্তি দেবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি মজুত ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে এবং শিল্প ও কৃষিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে বিদেশিদের সম্পত্তি ক্রয়ে নতুন আইন, অমান্য করলে কোটি রিয়াল জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ এম


সৌদিতে বিদেশিদের সম্পত্তি ক্রয়ে নতুন আইন, অমান্য করলে কোটি রিয়াল জরিমানা

বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তির মালিকানা সম্পর্কে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরব। নতুন আইনের মাধ্যমে ডিসক্লোজার নীতি কঠোর করা হয়েছে এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। খবর গালফ নিউজের।

বিদেশিদের আবাসন মালিকানা আইনের আওতায় বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি এবং অলাভজনক সংস্থাগুলো কীভাবে দেশটির সম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি সমন্বিত ইলেকট্রনিক পোর্টাল, যা রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং জাতীয় রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির সাথে সরাসরি যুক্ত থাকবে। বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি এবং বিদেশি অংশীদারিত্বে থাকা সৌদি কোম্পানিরা সম্পত্তি মালিকানার আবেদন জমা, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ এবং সকল লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে একত্রিত হবে।

বিধিমালার আওতায়, বিদেশি নাগরিকরা সম্পত্তি কেনা বা আবাসনের অধিকার পাওয়ার জন্য সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তাদের একটি সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলারও শর্ত আছে এবং সেই ডিজিটাল আইডির সঙ্গে যুক্ত একটি সৌদি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে।

বিদেশি কোম্পনিগুলোর জন্য কিছু আলাদা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাদের বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হতে হবে এবং সব সুবিধাভোগী মালিকদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও, একটি অনুমোদিত সৌদি পরিচয়পত্রধারী প্রতিনিধি নিয়োগ এবং কোম্পানির নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

শর্তগুলো পূর্ণ হলে বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় একটি নিবন্ধন নম্বর ইস্যু করবে। একক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে যদি কোম্পানির ৫ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা পরিবর্তিত হয়, তবে কোম্পানিকে ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। মূল দেশের শাসন প্রক্রিয়ার কারণে অন্য কোনও পক্ষ কোম্পানির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করলে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

বিদেশি অলাভজনক সংস্থাগুলোও এই কাঠামোর আওতায় আসবে। তাদের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর নন-প্রফিট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট’-এ নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। অনুমোদিত সৌদি পরিচয়ধারী প্রতিনিধি ও সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কোন পরিবর্তন হলে ১৫ দিনের মধ্যে তা রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

এই নীতিমালায় বিদেশি পরিবারের সম্পত্তি মালিকানার বিষয়েও নতুন নিয়ম যোগ করা হয়েছে। সৌদি আরবে সম্পত্তি কেনার সময় বিদেশি স্ত্রী ও সন্তানদের নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচিত করা হবে, যাতে এক পরিবারের সদস্যরা আলাদাভাবে কোনো বাড়ির মালিক হতে না পারে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অথবা সন্তানদের বয়স ২৫ বছর হওয়ার পর নিয়মের ব্যতিক্রম হবে।

আইনের মধ্যে দুটি পবিত্র নগরীর ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষা করা হয়েছে। পূর্বের বিধান অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তির মালিকানা কেবল মুসলিম নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে, কোম্পানি বা বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর জন্য বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হবে।

রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বিদেশিদের দ্বারা অর্জিত রিয়েল এস্টেটে লেনদেনের জন্য ২ শতাংশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উত্তরাধিকার বণ্টন, আদালতের চূড়ান্ত রায়, জনস্বার্থে অধিগ্রহণ, ওয়াকফ ও সরকারি সংস্থায় অনুদান, পারস্পরিক চুক্তির অধীনে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার লেনদেন এবং শতভাগ মালিকানাধীন কোম্পানি বা বিনিয়োগ তহবিলকে এই ফির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সম্পত্তির দলিল স্থানান্তরের আগে সব আর্থিক লেনদেন সৌদি সেন্ট্রাল ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধিত সৌদি মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে পাঠানো আইনি নোটিশকে বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

নতুন বিধিমালার অধীনে, রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি নিযুক্ত পরিদর্শকরা নিয়ম লঙ্ঘন তদন্ত এবং নথিবদ্ধ করার এখতিয়ার পাবেন। তবে লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি আরোপের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ১০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।

যদি বিদেশি ক্রেতা সম্পত্তির মালিকানা অধিকার পাওয়ার জন্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেয়, তাহলে তাদের সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ জরিমানা করা হতে পারে, যা ১ কোটি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:২১ এম


ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন ভোররাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজার এলাকায় একটি কনফেকশনারি দোকানের সামনে ফুটপাতে এই ঘটনা ঘটে। কিন্তু শনিবার (৪ জুলাই) সিসিটিবি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টা ৮ মিনিটের সময় ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা এক মাঝবয়সী নারীর কাছে সাদা শার্ট ও লুঙ্গি পরিহিত একজন ব্যক্তি এসে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে। কয়েক মিনিট পরে বাজারের একজন পাহারাদার ঘটনাস্থলে এসে ওই নারীকে দেখতে পান।

পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত হিসেবে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর বাজারসংলগ্ন দুর্গাপুর এলাকার দুলা মিয়ার ছেলে খোকনকে (৫০) শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, খোকন এলাকায় জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এবং একজন চিহ্নিত জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত।

একই বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইরাল ভিডিও ফুটেজ আমাদের নজরে এসেছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপের ‘খুনের রাজধানী’ স্কটল্যান্ড কীভাবে একটি নিরাপদ শহরে পরিণত হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩০ এম


ইউরোপের ‘খুনের রাজধানী’ স্কটল্যান্ড কীভাবে একটি নিরাপদ শহরে পরিণত হলো

২০০০-এর দশকের শুরুতে, আমেরিকার তুলনায় স্কটল্যান্ডে আপনার ওপর হামলা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তিন গুণ বেশি। কিন্তু যখন স্কটিশ কর্তৃপক্ষ সহিংস অপরাধকে একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখতে শুরু করে, তখন অপরাধের মাত্রা নাটকীয়ভাবে কমে যায় এবং দেশটি এখন বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

আদালতের জন্য এটি ছিল কোন সাধারণ দিন নয়। ২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবর গ্লাসগো শেরিফ কোর্টে কোনো জুরি, সাক্ষী বা আসামি ছিল না। এর পরিবর্তে, পূর্ণ পোশাক পরিহিত বিচারকের সামনে উপস্থিত ছিলেন গ্লাসগোর পূর্ব প্রান্তের ৮৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং সদস্য।

কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলটি আঞ্চলিক যুব গ্যাং, সংগঠিত অপরাধ এবং মাদক ও অস্ত্র নিয়ে মারামারির কারণে ভোগান্তিতে ছিল, যেখানে ছুরিকাঘাত ছিল প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা।

নিজেদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও, সমবেত গ্যাং সদস্যরা শান্ত হয়ে শুনছিল যখন বিভিন্ন বক্তা একে একে তাদের উদ্দেশ্যে কথা বলছিলেন। একজন মা বর্ণনা করেন, কীভাবে তার ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে একটি গ্যাং-সম্পর্কিত হামলার পর চেনা যাচ্ছিল না। একজন আমেরিকান বাস্কেটবল খেলোয়াড় মনে করিয়ে দেন বন্দুক সহিংসতায় তার ভাইকে হারানোর কথা। ডাক্তার এবং সার্জনরা মারাত্মক ক্ষত ও স্থায়ী বিকৃতির কথাও বর্ণনা করেন।

বার্তাটি ছিল স্পষ্ট: সহিংসতা বন্ধ করা আবশ্যক।

স্কটিশ ভায়োলেন্স রিডাকশন ইউনিট (SVRU)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক পরিচালক ক্যারিন ম্যাকক্লাস্কি সেই দিনের অস্বাভাবিক দৃশ্যটির কথা স্মরণ করে বলেন, “আমি যদি স্ট্রাথক্লাইড পুলিশের চিফ কনস্টেবল হতাম, তবে সম্ভবত আমাদের এটি করতে দিতাম না।” এই বিশেষ ইউনিটটি ২০০৫ সালে পুলিশ দ্বারা গঠিত হয়েছিল এবং পরের বছর স্কটিশ সরকার এটিকে দেশব্যাপী উদ্যোগে সম্প্রসারিত করে।

তিনি উল্লেখ করেন, “তিনি নিশ্চয়ই ভেবেছিলেন আমরা পাগল হয়ে গেছি। সেই দিন আদালতে আমাদের পুলিশ ঘোড়া ছিল, ক্লাইড নদীতে বোট টহল দিচ্ছিল, কারণ এটি করা সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে নতুন কিছু চেষ্টা করার ব্যাপারে এক ধরনের অনুমতি বা স্বাধীনতা ছিল।”

সেই ‘কিছু একটা’ কাজ করেছে বলেই মনে হয়েছে। উপস্থিত গ্যাং সদস্যদের একটি নম্বর দেওয়া হয়েছিল যাতে তারা সহিংসতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে চাইলে পরবর্তীতে সহায়তার জন্য যোগাযোগ করতে পারে; ৪৭৩ জন যুবকের উপস্থিতিতে এই ধরণের ১০টি সেশনের পর প্রায় ৪০০ জনই সেই নম্বরে কল করেছিল।

আদালতের এই হস্তক্ষেপটি ছিল স্কটল্যান্ডের প্রথম “স্ব-রেফারেল সেশন”, যা দেশটিতে, বিশেষ করে গ্লাসগোতে রেকর্ড হারের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ ছিল।

বর্তমানে স্কটল্যান্ডে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে এই শহরের হত্যার হার ছিল ইউরোপের যেকোনো শহরের চেয়ে বেশি। জাতিসংঘ স্কটল্যান্ডকে উন্নত বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যেখানে আমেরিকানদের তুলনায় স্কটিশদের ওপর হামলার সম্ভাবনা ছিল প্রায় তিন গুণ বেশি। সংবাদপত্রগুলো নিয়মিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড এবং রক্তাক্ত গ্যাং ফাইট বা মারামারির খবর দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল।

পরবর্তী এক দশকে, হত্যাকাণ্ডের হার গ্লাসগোতে ৫৬% এবং সামগ্রিকভাবে স্কটল্যান্ডে ৩৮% কমে যায়। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশজুড়ে সহিংস অপরাধ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পায়। বর্তমানে স্কটল্যান্ডে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। মারাত্মক হামলা এবং খুনের চেষ্টার সংখ্যাও তাই হ্রাস পেয়েছে।

পরিসংখ্যানের আড়ালে প্রতিটি সহিংস অপরাধের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি এবং ভয়াবহতার গল্প লুকিয়ে থাকলেও, এটি একটি অসাধারণ পরিবর্তন।

হত্যাকাণ্ডের দিক থেকে স্কটল্যান্ড এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে সুইডেন, ফ্রান্স বা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের চেয়ে মাথাপিছু অপরাধের হার কম। একসময় ছুরি, গ্যাং এবং হত্যাকাণ্ডে জর্জরিত একটি জাতি কীভাবে এমন একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনল? সারমর্মে, তারা সহিংসতাকে সমস্যা হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলেছে – এটিকে কেবল একটি ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে না দেখে, একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে।

ইউনিভার্সিটি অফ গ্লাসগোর ক্রিমিনোলজির অধ্যাপক অ্যালিস্টেয়ার ফ্রেজার বলেন, “২০০০-এর দশকের শুরুতে স্কটল্যান্ডের ভাবমূর্তি ছিল মাতাল, উগ্র পুরুষদের এবং গ্যাং কার্যক্রম ও ছুরিকাঘাতের জন্য তাদের একটি বিশেষ কुख্যাতি ছিল যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছিল, এমনকি অষ্টাদশ শতাব্দীর ‘রেজার গ্যাং’ পর্যন্ত এর ইতিহাস ছিল।” ২০০৩ সালে উইল লিন্ডেন স্ট্রাথক্লাইড পুলিশের গোয়েন্দা বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ম্যাকক্লাস্কির অধীনে একজন পুলিশ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছিলেন, যখন তাদের বিভাগকে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়।

লিন্ডেন বলেন, “যখন আমরা ডেটা বা তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করলাম, তখন উপলব্ধি হলো যে বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ডই আকস্মিক বা ঘটনাচক্রে ঘটে যাওয়া। সেগুলো পূর্বপরিকল্পিত বা সংগঠিত অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল না, সাধারণত এটি ছিল কেবল দুজন মানুষের মধ্যে মারামারি যেখানে একজন ছুরি বের করে অন্যজনকে আঘাত করেছে। আমরা বুঝতে পারলাম যে সহিংসতাকে সামগ্রিকভাবে না দেখে কেবল পুলিশিং দিয়ে হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধের কৌশল তৈরি করা সম্ভব নয়।”

গ্লাসগোর সংকট এতটাই তীব্র ছিল যে তৎকালীন চিফ কনস্টেবল উইলিয়াম রে, ম্যাকক্লাস্কি এবং তার সহকর্মী জন কার্নোচানকে সমস্যাটি সমাধানের জন্য প্রায় সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। রে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কিন্তু কিছুটা স্বাধীনভাবে একটি দল গঠন করেন যা পরবর্তীতে ভায়োলেন্স রিডাকশন ইউনিটে পরিণত হয়, যার ফলে পুলিশ বাহিনী এর সাফল্যের কৃতিত্ব যেমন নিতে পারত, তেমনি ব্যর্থতার দায় থেকেও নিজেদের দূরে রাখতে পারত।

ম্যাকক্লাস্কি বলেন, “আমরা কিছুটা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম এবং আমাদের ব্যর্থ হওয়ার অনুমতি ছিল। সেখানে একটি স্বীকৃতি ছিল যে যখন কোনো কিছু এতটা ভয়াবহ রূপ নেয়, তখন আপনাকে সবকিছু নতুন করে উদ্ভাবন করতে হবে।”

শুরু থেকেই SVRU সহিংসতা দমনে একটি জনস্বাস্থ্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, এটিকে অপরাধের চেয়ে একটি রোগের মতো করে চিহ্নিত করে। তারা ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক হস্তক্ষেপের ওপর ফোকাস বা দৃষ্টি নিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ম্যাকক্লাস্কি এই পদ্ধতিটিকে হাম মোকাবেলার সাথে তুলনা করেন: যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত তাদের চিকিৎসা করা, উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা গোষ্ঠীগুলোকে টিকা দেওয়া এবং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মধ্যে এর সংক্রমণ রোধ করতে কাজ করা।

এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত ছিল যা পরবর্তী সফলতার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছিল।

সহিংসতা মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যমূলক পদ্ধতির সহজ অর্থ হলো, সমস্যাটি চিহ্নিত ও বোঝার জন্য প্রথমে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা, তারপর কোন বিষয়গুলো মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এবং কোন বিষয়গুলো তাদের রক্ষা করে তা পরীক্ষা করা।

স্কটল্যান্ডের মাত্র ১% জনসংখ্যার সাথে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সহিংসতা ঘটে। ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সামাজিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত এলাকার তরুণ হওয়া, সেইসাথে বেকারত্ব, দারিদ্র্য এবং একটি অস্থির পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা। অন্যদিকে শিক্ষায় টিকে থাকা এবং দৃঢ় পারিবারিক সম্পর্ক সহিংসতা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে মনে হয়।

ঝুঁকি কমাতে এবং সুরক্ষা বাড়াতে শেরিফ কোর্টের মতো উদ্যোগ থেকে শুরু করে পিয়ার সাপোর্ট গ্রুপ, শিক্ষামূলক কর্মসূচি এবং সমাজকর্মী, ডাক্তার ও শিক্ষকদের সাথে অংশীদারিত্বের মতো নানা ধরণের হস্তক্ষেপ বা ইন্টারভেনশন তৈরি করা হয়। এগুলো পরীক্ষা ও প্রয়োগ করা হয় এবং সফল হলে বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় – এবং তারপর এই চক্রটি আবার শুরু হয়।

তবে SVRU-এর বাস্তবায়িত অনেক ধারণাই বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে নেওয়া হয়েছিল। সহিংসতাকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখার ধারণাটি ১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সহিংসতাকে একটি প্রধান বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ঘোষণা করলে এটি বিশ্বজুড়ে গৃহীত হয়।

SVRU-এর পদ্ধতির মূল চাবিকাঠি ছিল অন্য জায়গায় যা শেখা গেছে তা স্কটল্যান্ডের নিজস্ব পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে প্রয়োগ করা।

নিবন্ধের শুরুতে উল্লেখিত স্ব-রেফারেল সেশনগুলো ওহাইওর সিনসিনাটির একটি গ্যাং ভায়োলেন্স প্রোগ্রামের মডেলে তৈরি করা হয়েছিল, যা নিজেই শিকাগো প্রজেক্ট ফর ভায়োলেন্স প্রিভেনশন থেকে এসেছে। শিকাগো শহর যেখানে হত্যাকাণ্ডের নাটকীয় বৃদ্ধি দেখেছিল এবং যার অর্ধেকেরও বেশি গ্যাং অ্যাক্টিভিটির সাথে সম্পর্কিত ছিল, সেখানেও একইভাবে জনস্বাস্থ্যমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল।

লিন্ডেন বলেন, “আমরা যা খুব ভালোভাবে করতে পেরেছিলাম তা হলো, স্কটল্যান্ডের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে অন্য ধারণাগুলোর সফল বাস্তবায়ন। আপনি শিকাগো বা ফিনল্যান্ডে কাজ করে এমন কিছু এনে সরাসরি গ্লাসগোতে বসিয়ে দিতে পারেন না, বা গ্লাসগোর কোনো মডেল এডিনবার্গে হুবহু চালাতে পারেন না। এটি কার্যকর করতে হলে আপনাকে আপনার নিজের সমস্যার পরিধি এবং প্রকৃতি বুঝতে হবে।”

SVRU-এর জন্য এর অর্থ ছিল পুলিশ স্টেশন থেকে বের হয়ে হাসপাতাল, স্কুল, সামাজিক কাজের বিভাগ, যুবকদের কর্মক্ষেত্র এবং সম্প্রদায়গুলোতে প্রবেশ করা। ডেন্টিস্ট বা দন্তচিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল যাতে তারা সহিংসতা-সম্পর্কিত আঘাত সনাক্ত করতে পারেন, সেটিকে নথিবদ্ধ করতে পারেন এবং রোগীরা যখন চেয়ারে বসা অবস্থাতেই আছেন, তখনই তাদের সাহায্যের উৎসের সন্ধান দিতে পারেন। এছাড়া শিক্ষা প্রধানদের বোঝানো হয়েছিল যেন তারা শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বহিষ্কার করা বন্ধ করেন: ২০০৬/০৭ সালে যেখানে স্কুল থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল ৪৫,০০০-এর কাছাকাছি, সেখানে ২০২২/২৩ সালে তা কমে ১২,০০০-এর নিচে নেমে এসেছে।

খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে অন্যান্যরাও এতে যুক্ত হতে শুরু করে। ২০০৮ সালে ক্রিস্টিন গুডঅল নামের একজন ওরাল সার্জন এবং তার দুই সহকর্মী মিলে ‘মেডিকস এগেইনস্ট ভায়োলেন্স’ নামে একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। গুডঅল যখন ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে গ্লাসগোতে ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন, তখন সহিংসতার ফলে মুখে আঘাত পাওয়া রোগীদের ভিড়ে চিকিৎসা পরিষেবাগুলো হিমশিম খাচ্ছিল। কয়েক দশক আগে, এই শহরটি এমনই একটি আঘাতের নাম দিয়েছিল: “গ্লাসগো স্মাইল”, যা ভুক্তভোগীর মুখ থেকে কান পর্যন্ত কেটে ফেলার মাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি ক্ষত।

২০০০-এর দশকের শুরুতে, এনএইচএস ট্রমা ক্লিনিকগুলোর মধ্যে অ্যালকোহল বা মদ আসক্তি সংক্রান্ত সহায়তা প্রদানের মতো উদ্যোগগুলোতে SVRU-এর সাথে কাজ করেছিল। গুডঅল বলেন, সেগুলো ভালো কাজ করেছিল, “তবে আমি ভাবতে শুরু করলাম যে আমাদের সম্ভবত আরও কিছু করার আছে।”

তিনি বলেন, “আপনি যদি কেবল সেই রোগীদের সাথে কথা বলেন যাদের ইতিমধ্যে আঘাত লেগেছে, তবে তা হবে ঘোড়া পালিয়ে যাওয়ার পর আস্তাবলের দরজা বন্ধ করার মতো।” মেডিকস এগেইনস্ট ভায়োলেন্স স্কুলে একটি শিক্ষা প্রকল্প এবং একটি “হসপিটাল নেভিগেটরস” প্রোগ্রাম চালু করে, যেখানে সহিংসতার কারণে আহত কোনো রোগী জরুরি বিভাগে এলে প্রশিক্ষিত কর্মীরা তাদের সহায়তা করেন। উভয় প্রকল্পই আজও বিদ্যমান।

সহিংসতা হ্রাসে স্কটল্যান্ডের সাফল্য এখন এমন একটি উদাহরণ যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। স্কটল্যান্ডের নিকটতম প্রতিবেশীরাও এদিকে নজর দিচ্ছিল।

২০১৯ সাল থেকে, SVRU-এর সহায়তায় ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের ২০টি পুলিশ ফোর্স এলাকায় ভায়োলেন্স রিডাকশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে লন্ডনও রয়েছে, যেখানে গত বছর ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের সমস্ত ছুরি অপরাধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটেছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে যে যেসব এলাকায় VRU কাজ করছে, সেখানে সবচেয়ে মারাত্মক ধরণের সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে।

আজও SVRU পুলিশ স্কটল্যান্ডের অংশ হিসেবে রয়েছে এবং স্কটিশ সরকারের কাছ থেকে প্রতি বছর ১.১ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়ন পায়।

যখন কেলি (৩০) মা হন, তখন তিনি তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ লড়াই করছিলেন। তিনি একটি কঠিন পারিবারিক পরিবেশে বড় হয়েছিলেন এবং মানসিক চাপ ও নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা তার জন্য কঠিন ছিল – যা সহিংসতার অন্যতম ঝুঁকির কারণ। কেলির পরিচয় সুরক্ষার জন্য বিবিসি তার নাম পরিবর্তন করেছে।

২০২৪ সালে, নিজের পারিবারিক পরিবেশকে আরও শান্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, কেলি SVRU দ্বারা পরিচালিত একটি নার্সারি পিয়ার সাপোর্ট গ্রুপে যোগ দেন, যা সহিংসতার আন্তঃপ্রজন্মীয় চক্র কমাতে প্রাথমিক হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “গ্রুপে যোগ দেওয়ার আগে আমি নিজেকে খুব একা মনে করতাম। আমি প্রায়ই বিপর্যস্ত বোধ করতাম। আমার আত্মবিশ্বাস কম ছিল এবং আমি ঘরেই বেশি সময় কাটাতাম, যা আমার সঙ্গী, আমার সন্তান এবং চারপাশের অন্যদের সাথে আমার সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল।”

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে জিনিসগুলো বদলাতে শুরু করে। তিনি স্মরণ করে বলেন, “এই গ্রুপটি আমাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে কীভাবে আমার অতীতের অভিজ্ঞতাগুলো আমার এবং আমার পরিবার উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলছিল… আমি এখন দেখতে পাচ্ছি যে কীভাবে সেই প্যাটার্ন বা অভ্যাসগুলো ভাঙলে আমার বাচ্চাদের জন্য আরও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।”

তিনি বলেন, এই গ্রুপটি তার সঙ্গী এবং নিজের মায়ের সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটিয়েছে। তার ঘর এখন অনেক বেশি সহযোগিতাপূর্ণ মনে হয় এবং অন্য মায়েদের সাথে যোগাযোগ তৈরি হওয়ার পর তিনি একাকীত্ব থেকে বের হয়ে এসেছেন। এখন তিনি আবার কাজে ফিরতে চান এবং তার সম্প্রদায়ের অন্যদের পাশে দাঁড়াতে চান।

তবে এখনও আরও কাজ করার বাকি আছে: ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মারাত্মক সহিংসতা হ্রাসের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে, যার আংশিক কারণ তরুণদের জন্য “নিরাপদ স্থানের” অভাব।

২০২৩ সাল থেকে SVRU-এর পরিচালক জিমি পল সোশ্যাল মিডিয়ার বিপদ, কোভিড-১৯ মহামারীর স্থায়ী প্রভাব এবং স্কটল্যান্ডের প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে প্রায় একজনের দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

পল বলেন, “আমাদের আরও অনেক কিছু করার আছে এবং আমরা বিশ্বাস করি সহিংসতা প্রতিরোধযোগ্য, এটি অনিবার্য নয়। তাই এই নতুন চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সাথে সাথে আমাদের সেই দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।” তিনি স্কুলগুলোতে চলমান দীর্ঘমেয়াদী কাজ, গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব এবং নির্দিষ্ট উদ্বেগের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে হস্তক্ষেপ করার জন্য SVRU-এর তথ্য-উপাত্ত ব্যবহারের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।

ম্যাকক্লাস্কি এখন ‘কমিউনিটি জাস্টিস স্কটল্যান্ড’-এর প্রধান নির্বাহী, যা স্কটিশ সরকার দ্বারা অর্থায়নকৃত কিন্তু একটি স্বাধীন এবং তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক সংস্থা। তিনি একমত পোষণ করেন এবং উল্লেখ করেন যে স্কটল্যান্ডে এখন কিশোর বা তরুণদের চেয়ে ৩০ ও ৪০ বছর বয়সীরাই বেশি খুনের দায়ে অভিযুক্ত হচ্ছে। এটি এমন একটি প্রবণতা যার জন্য নতুন ধরণের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে। তবে তিনি কতটা পরিবর্তন এসেছে তা স্বীকার করতেও আগ্রহী।

এবং তিনি বলেন, সহিংসতার শিকার অনেক মানুষের নাম তার মনে চিরকাল থেকে গেলেও, স্কটল্যান্ডের এই সহিংসতা বিরোধী আন্দোলনের ফলে কত মানুষের জীবন বদলে গেছে তা তিনি গণনা করে শেষ করতে পারবেন না।

ম্যাকক্লাস্কি বলেন, মাঝে মাঝে তিনি গ্লাসগোর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এমন কাউকে দেখতে পান যার সাথে বহু বছর আগে দেখা হয়েছিল যখন তারা সহিংসতায় জড়িয়ে ছিল।

তিনি বলেন, “হয়তো আমাদের চোখাচোখি হয়, কিন্তু তারা সরাসরি কথা বলে না। তারপর তারা রাতে আমাকে টেক্সট করে বলে, ‘দেখুন, আমার এখন একটা অন্যরকম জীবন আছে: আমার নতুন সঙ্গী আছে, বাচ্চা আছে, একটা চাকরি আছে’। তাই আমরা সেই মুহূর্তে মুখে কিছু বলি না। আমরা কেবল একে অপরের দিকে তাকাই এবং স্বীকার করি যে আমরা একসাথে কোনো একটি পরিবর্তনের অংশ ছিলাম।”

তথ্যসূত্রঃ বিবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের টানে দেশে একের পর এক বিদেশি: নেপথ্যে পাচারের ফাঁদ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ এম


প্রেমের টানে দেশে একের পর এক বিদেশি: নেপথ্যে পাচারের ফাঁদ?

বিয়ে এবং প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে পাচারের একটি নতুন কৌশল সামনে এসেছে। গত সাত মাসে একই অভিযোগে ছয় চীনা নাগরিক গ্রেফতার হয়েছেন। একই সঙ্গে ভালো চাকরি এবং উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নারীদের পাচারের ঘটনাও ঘটছে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। গত সাত-আট বছরে নির্যাতন, শোষণ এবং প্রতারণার শিকার হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজারের বেশি নারী।

২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর বিয়ে এবং প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশি দুই নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুই চীনা নাগরিককে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের নাম হলো মে পেনগুই এবং তিয়ান জেংওয়েন। রানী আক্তার ও মালিনা মারাককে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে বিয়ে করে উন্নত জীবনের প্রলোভনে চীনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরে ওই দুই নারী বুঝতে পারেন, তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে চীনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তারা দুই চীনা নাগরিকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং যেতে অস্বীকৃতি জানান। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসলে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।

একই বছরের ৯ ডিসেম্বর একই কৌশলে আরেক নারীকে পাচারের সময় গ্রেফতার হন দুই চীনা নাগরিক ফ্যান গোউয়ে (২৭) ও ইয়াং জিকু (২৫)। চাঁদপুরের এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি প্রথমে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের নজরে আসে। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের ২৮ মে একই অভিযোগে আরও দুই চীনা নাগরিক হু জানজুন (৩০) ও জিয়াং লিজি (৫৪) গ্রেফতার হন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নারীদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রামের সহজ-সরল নারীদের টার্গেট করে একটি চক্র তাদের পাচার করছে। এ ক্ষেত্রে চীনা নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বেশি দেখা যাচ্ছে। একাধিকবার গ্রেফতারের পরও চক্রটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে শুধু প্রেমের ফাঁদই নয়, ভালো চাকরি এবং উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়েও নারীদের মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে। সেখানে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারলে কেউ নানা উপায়ে দেশে ফিরতে পারছেন, আবার কেউ ফিরতেও পারছেন না। সম্প্রতি পাচারের শিকার এক নারী কম্বোডিয়া থেকে ফিরে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। গত প্রায় সাত-আট বছরে ৭০ হাজারের বেশি নারী নির্যাতন এবং শোষণের শিকার হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন।

চীনা নাগরিকদের ফাঁদ

চীনা নাগরিকদের গ্রেফতার এবং ভুক্তভোগী নারীদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মানবপাচারকারী চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশে এসে নিকুঞ্জ, উত্তরা কিংবা বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থান নেন। এরপর স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে গ্রামের মেয়েদের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় গড়ে তোলেন। তিন থেকে ছয় মাস যোগাযোগ রাখার পর তারা বাংলাদেশে এসে ওই তরুণীর গ্রামের বাড়িতে যান। নানা কৌশলে পরিবারের আস্থা অর্জন করে বিয়ের মাধ্যমে মেয়েদের চীনে নিয়ে যান অথবা নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে তাদের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেওয়া।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিতা রানী সূত্রধর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বেশ কিছু দেশের মানবপাচারকারী চক্র স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় নারী পাচারের চেষ্টায় লিপ্ত। তারা মূলত গ্রামের সহজ-সরল নারীদের টার্গেট করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের চেষ্টা করে। তথ্য পেলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।’

ভালো চাকরি এবং উন্নত জীবনের প্রলোভন

কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে কম্বোডিয়ায় পাচার করা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি নানা নির্যাতনের শিকার হন এবং সম্প্রতি দেশে ফিরে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা বেতনে কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে চাকরির প্রলোভন দেখান রাজবাড়ীর খাগজানা এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল। এই চক্রে ছিলেন ফরিদপুরের মধুখালী এলাকার আনিসুর রহমান এবং গাজীপুরের বেলাল হোসেন।

ঋণের ফাঁদে ফেলেই ওই তরুণীকে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়। রুবেল একসময় ফরিদপুরের একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। গ্রামের কিস্তি সংগ্রহ করতে গিয়ে তার সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। পরে ওই তরুণী এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন। কিস্তি বকেয়া পড়লে রুবেল তাকে কম্বোডিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, কম্বোডিয়ায় থাকা আনিসুর রহমানের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা মাসিক বেতনে চাকরি দেওয়া হবে। তবে সেখানে যেতে ৪ লাখ টাকা লাগবে।

প্রথমে রুবেল এনজিও থেকে ওই নারীকে ১ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেন। বাকি টাকা পরে দিতে হবে বলে জানান। এরপর পাসপোর্টসহ ১ লাখ টাকা আনিসুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়। ধারদেনা করে আরও ২ লাখ টাকা আনিসুরের অ্যাকাউন্টে পাঠান ওই নারী। পরে রুবেল তার বাড়ি গিয়ে আরও ১ লাখ টাকা নেন। গত বছরের ১৮ আগস্ট ওই নারী কম্বোডিয়ায় যান।

তার অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর রুবেল বিমানবন্দরে তাকে রিসিভ করেন এবং জোর করে তার পাসপোর্ট এবং ডলার নিয়ে নেন। এরপর নিজের ভাড়া বাসায় ১০ দিন রেখে কলসেন্টারের কাজ শেখান। পরে তাকে একটি চীনা কোম্পানির কাছে ১ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

প্রথম মাসে কিছু ডলার পেলেও পরের মাসের বেতন নিয়ে যান আনিসুর। পরে ওই কোম্পানি থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর আনিসুর তাকে আরেকটি কোম্পানিতে নিয়ে গিয়ে সহযোগী বেলালের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সেখানে তাকে মডেলিং করতে বলা হয়। রাজি না হওয়ায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দেশে ফিরতে চাইলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এজাহারে ওই নারী আরও উল্লেখ করেন, রুবেল এবং আনিসুর তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। পরে তিনি পালিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহায়তায় দেশে ফিরে আসেন।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে আমাদের টিম কাজ করছে।’

সৌদি আরবেও একই চিত্র

কম্বোডিয়া থেকে ফিরে আসা নারীর মতো আরেক নারী সৌদি আরবে ‘টিস্যু কোম্পানিতে’ কাজ দেওয়ার নামে যৌন এবং মানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন।

২০২৫ সালে তিনি সৌদি আরবে যান। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর চাকরি পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। সেই সুযোগে দালাল চক্র তাকে একটি টিস্যু কোম্পানিতে কাজের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারণার মাধ্যমে তাকে যৌন কাজে বাধ্য করা হচ্ছে।

তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হতো। নিয়মিত মারধর, অমানবিক আচরণ এবং খাদ্যবঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়লেও কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন নির্যাতনের মধ্যে থাকার পর তিনি একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং পরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কয়েক মাস কারাভোগের পর দেশে ফিরে সন্তান জন্ম দেন।

অভিবাসন খাতে কাজ করা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২৫ সালে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দুই হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। আর ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ফিরেছেন এক হাজার নারী।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক জানিয়েছে, গত সাত বছরে অন্তত ৭০ হাজার নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতন, শোষণ অথবা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে বিদেশ থেকে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে।

যা বলছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, ‘চীনা নাগরিকরা দেশে এসে বিয়ে বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে নারীদের চীনে নিয়ে যাচ্ছেন। দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশে গিয়ে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে যেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই নিশ্চয়তাও রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নানা উপায়ে নারীরা পাচারের শিকার হচ্ছেন। এক ধরনের কাজের কথা বলে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অন্য কাজে বাধ্য করা হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ফিরছেন। এটি অবশ্যই উদ্বেগজনক।’

তার ভাষ্য, ‘একজন নারী বিদেশে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হলে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারি না। এটাই আমাদের বড় দুর্বলতা। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, দেশে এসে হয়তো বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হয়; কিন্তু যারা নির্যাতন অথবা নিপীড়ন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা বিদেশে অবশ্যই যাবেন। তবে নার্সিংসহ অন্যান্য দক্ষ পেশায় প্রশিক্ষণ নিয়ে গেলে ঝুঁকি কমবে। শুধু গৃহকর্মী হিসেবে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হলে হবে না, যারা এই নির্যাতনের জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা বিদেশে গিয়ে যেন পাচার অথবা নিপীড়নের শিকার না হন, সে জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%