প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তির মালিকানা সম্পর্কে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরব। নতুন আইনের মাধ্যমে ডিসক্লোজার নীতি কঠোর করা হয়েছে এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। খবর গালফ নিউজের।
বিদেশিদের আবাসন মালিকানা আইনের আওতায় বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি এবং অলাভজনক সংস্থাগুলো কীভাবে দেশটির সম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি সমন্বিত ইলেকট্রনিক পোর্টাল, যা রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং জাতীয় রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির সাথে সরাসরি যুক্ত থাকবে। বিদেশি নাগরিক, কোম্পানি এবং বিদেশি অংশীদারিত্বে থাকা সৌদি কোম্পানিরা সম্পত্তি মালিকানার আবেদন জমা, রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ এবং সকল লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে একত্রিত হবে।
বিধিমালার আওতায়, বিদেশি নাগরিকরা সম্পত্তি কেনা বা আবাসনের অধিকার পাওয়ার জন্য সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য একটি ডিজিটাল আইডি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তাদের একটি সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলারও শর্ত আছে এবং সেই ডিজিটাল আইডির সঙ্গে যুক্ত একটি সৌদি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন করতে হবে।
বিদেশি কোম্পনিগুলোর জন্য কিছু আলাদা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাদের বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত হতে হবে এবং সব সুবিধাভোগী মালিকদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও, একটি অনুমোদিত সৌদি পরিচয়পত্রধারী প্রতিনিধি নিয়োগ এবং কোম্পানির নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
শর্তগুলো পূর্ণ হলে বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় একটি নিবন্ধন নম্বর ইস্যু করবে। একক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে যদি কোম্পানির ৫ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা পরিবর্তিত হয়, তবে কোম্পানিকে ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। মূল দেশের শাসন প্রক্রিয়ার কারণে অন্য কোনও পক্ষ কোম্পানির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করলে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
বিদেশি অলাভজনক সংস্থাগুলোও এই কাঠামোর আওতায় আসবে। তাদের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর নন-প্রফিট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট’-এ নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। অনুমোদিত সৌদি পরিচয়ধারী প্রতিনিধি ও সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কোন পরিবর্তন হলে ১৫ দিনের মধ্যে তা রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
এই নীতিমালায় বিদেশি পরিবারের সম্পত্তি মালিকানার বিষয়েও নতুন নিয়ম যোগ করা হয়েছে। সৌদি আরবে সম্পত্তি কেনার সময় বিদেশি স্ত্রী ও সন্তানদের নির্ভরশীল হিসেবে বিবেচিত করা হবে, যাতে এক পরিবারের সদস্যরা আলাদাভাবে কোনো বাড়ির মালিক হতে না পারে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অথবা সন্তানদের বয়স ২৫ বছর হওয়ার পর নিয়মের ব্যতিক্রম হবে।
আইনের মধ্যে দুটি পবিত্র নগরীর ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষা করা হয়েছে। পূর্বের বিধান অনুযায়ী, মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তির মালিকানা কেবল মুসলিম নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে, কোম্পানি বা বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর জন্য বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বিদেশিদের দ্বারা অর্জিত রিয়েল এস্টেটে লেনদেনের জন্য ২ শতাংশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে উত্তরাধিকার বণ্টন, আদালতের চূড়ান্ত রায়, জনস্বার্থে অধিগ্রহণ, ওয়াকফ ও সরকারি সংস্থায় অনুদান, পারস্পরিক চুক্তির অধীনে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার লেনদেন এবং শতভাগ মালিকানাধীন কোম্পানি বা বিনিয়োগ তহবিলকে এই ফির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সম্পত্তির দলিল স্থানান্তরের আগে সব আর্থিক লেনদেন সৌদি সেন্ট্রাল ব্যাংকের বিধিমালা অনুযায়ী ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধিত সৌদি মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে পাঠানো আইনি নোটিশকে বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
নতুন বিধিমালার অধীনে, রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি নিযুক্ত পরিদর্শকরা নিয়ম লঙ্ঘন তদন্ত এবং নথিবদ্ধ করার এখতিয়ার পাবেন। তবে লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি আরোপের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ১০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।
যদি বিদেশি ক্রেতা সম্পত্তির মালিকানা অধিকার পাওয়ার জন্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেয়, তাহলে তাদের সম্পত্তির মূল্যের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ জরিমানা করা হতে পারে, যা ১ কোটি রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন