১১:৩৫ এম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট সমাধানে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ঘরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে পানির ট্যাংক পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে সরকারি পুকুরগুলোকে সংস্কার করা হবে, যাতে তা সংরক্ষিত মিঠা পানির আধার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এর ফলে উপকূলের মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চত্বরে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্যোগে এবং রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘উপকূলীয় রামপাল ও মোংলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট বিরাজমান। এই সংকট সমাধানে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রাথমিকভাবে তিন হাজার পানির ট্যাংক বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ ৮২টি ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘এই অঞ্চলের অধিকাংশ পানির উৎস লবণাক্ত হয়ে গেছে। এমনকি অনেক টিউবওয়েলের পানিও ব্যবহার উপযোগী নয়। তাই, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা নিরাপদ সুপেয় পানির অন্যতম কার্যকর উপায় বলে জানা যায়। এবং এই উদ্দেশ্যে পরিবারের হাতে পানির ট্যাংক তুলে দেওয়া হচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, ‘সরকার উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ পানির স্থায়ী সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া, সরকারি পুকুরগুলোকে সংস্কার করে মিঠা পানির আধারে রূপান্তরিত করা হবে। এসব পুকুরে মাছ চাষের অনুমতি দেয়া হবে না, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা পেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিপরীত প্রভাব মোকাবিলা করতে, উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌসী, বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, রামপাল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাজীব আল রশিদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রামপালে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে অতি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন, নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ট্যাংক বিতরণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন