ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিগারেট বাকিতে না দেওয়ায় দোকানির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগাল যুবক


সিগারেট বাকিতে না দেওয়ায় দোকানির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগাল যুবক

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় সিগারেট বাকিতে না দেওয়ার কারণে সুমন মিয়া নামের এক যুবক দোকানির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এই ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

আহত দোকানি ইব্রাহিম খলিল, যিনি চেংজানা গ্রামের সুলতান উদ্দিনের ছেলে, গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে তার পরিবার জানিয়েছে, আগুনে খলিলের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অভিযুক্ত সুমন মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পুলিশ তাকে আটক করেছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিল সাহিতপুর বাজারে ‘ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে একটি মুদিদোকান পরিচালনা করেন। দোকানে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি বোতলে করে পেট্রলও বিক্রি করা হয়। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুমন মিয়া দোকানে এসে বাকিতে একটি সিগারেট চান। দোকানদার বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা বোতল থেকে পেট্রল নিয়ে দোকানের সামনে ও ভেতরে ছিটিয়ে দেন। পরে গ্যাসলাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে বোতলটি ইব্রাহিমের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বিষয়টি টের পেয়ে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

ইব্রাহিমের ভাই লাদেন মিয়া জানিয়েছেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ইব্রাহিম চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শরীরের ৭০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

এদিকে ঘটনার ২৬ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সুমন মিয়া বোতল হাতে দোকানের সামনে পেট্রল ছিটাচ্ছেন এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দৌড়ে যাচ্ছেন। এ সময় ইব্রাহিমের শরীরে আগুন ধরে গেলে তিনি দোকান থেকে বের হয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেছেন, ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে উপজেলার সহিলাটি গ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মার বাঁধে ২০ মিটার ফাটল, ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


পদ্মার বাঁধে ২০ মিটার ফাটল, ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার ক্ষতি

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শত বছরের পুরোনো সুরেশ্বর মাছবাজার এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর ফলে বাঁধের প্রায় ২০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফাটল ধসে ওই অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। এই ঘটনায় নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কায় সুরেশ্বর মাছবাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট ও মূল্যবান মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছবাজার থেকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ১ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ফাটল দেখা দেওয়া অংশের প্রায় ২০ মিটার নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার না করা হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, এতে সুরেশ্বর মাছবাজারসহ আশপাশের নদীতীরবর্তী স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন বলেন, গতকাল সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় নদীতীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। পরে আজ সন্ধ্যার দিকে ফাটল দেখা দেওয়া অংশের প্রায় ২০ মিটার নদীতে তলিয়ে যায়। খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আগামীকাল সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরের পাঠাগারে ‘জ্ঞানের আলো’, তরুণদের মোবাইলই প্রাধান্য পাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


পিরোজপুরের পাঠাগারে ‘জ্ঞানের আলো’, তরুণদের মোবাইলই প্রাধান্য পাচ্ছে

সারিবদ্ধ আলমারিতে বই রাখা রয়েছে। কিন্তু পাঠকের সংখ্যা বললেই চলে নেই। ভবনের বিভিন্ন অংশে অযত্নের চিহ্ন স্পষ্ট। একসময় যে পাঠাগারটি ছিল জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দখলের ফলে বর্তমানে এটি অনেকটাই পাঠকশূন্য হয়ে পড়েছে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শেরে বাংলা সাধারণ পাঠাগারের চিত্র এমনই।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগারটি একসময় স্থানীয় তরুণ, শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের মিলনস্থল ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়া, ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তার এবং পাঠাগার ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে সেখানে পাঠকের উপস্থিতি কমেছে। বর্তমানে তরুণদের একটি বড় অংশ বইয়ের পরিবর্তে মোবাইল ফোনের পর্দাতেই অধিক সময় কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালের ৮ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মঠবাড়িয়ায় এসে পাঠাগারটির ফলক উন্মোচন করেন। কবি আব্দুল খালেক প্রতিষ্ঠিত ‘শেরে বাংলা স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশনের দান করা জমিতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে পাঠাগার ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাঠাগারের কক্ষ নিজেদের অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। এতে পাঠাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

১৯৯৩ সালে মঠবাড়িয়া পৌরসভা গঠনের পর পাঠাগারটি প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত খোলা রাখার জন্য একজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তখন পাঠাগারে পাঠকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। দীর্ঘদিন বইগুলোও পড়ে ছিল অব্যবহৃত অবস্থায়।

২০১৬ সালে স্থানীয় তরুণ লেখক মেহেদী হাসানের একটি কলাম প্রকাশের পর পাঠাগারটির দুরবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় তরুণ, লেখক ও বইপ্রেমীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘মঠবাড়িয়া পাঠাগার আন্দোলন’।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর হোসাইন মোল্লাসহ স্থানীয় প্রবীণদের পরামর্শে তরুণেরা তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদ উদ্দিন আহমেদের কাছে স্মারকলিপি দেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে পাঠাগারের দুটি কক্ষ দখলমুক্ত করা হয়। একইসাথে সেখানে সাপ্তাহিক পাঠচক্রের কার্যক্রম শুরু হয়।

এরপর প্রতি শুক্রবার পাঠচক্র, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে থাকে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিচারক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বইপ্রেমীদের সহযোগিতায় পাঠাগারে নতুন বইও সংগ্রহ করা হয়। এতে একসময় পাঠাগারটিতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর পাঠাগার ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে কার্যক্রমে আবারও ভাটা পড়ে। বর্তমানে পাঠকের উপস্থিতিও কম।

পাঠাগারটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পর্যালোচনা কমিটির সম্পাদক কবি মেহেদী হাসান বলেন, ২০১৬ সালের পর দীর্ঘদিন স্থানীয় তরুণ লেখক ও বইপ্রেমীরা এখানে পাঠচক্র করে আসছেন। কিন্তু কোভিড-১৯-এর পর ভবনের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাওয়ায় পাঠকের আনাগোনা কমেছে। ফলে পাঠাগারকেন্দ্রিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

পাঠাগারটি টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন জিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর হোসাইন মোল্লা। তার মতে, স্মার্টফোনের আসক্তির এই সময়ে তরুণেরা যখন ক্রমেই বই ও পাঠচর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন তাদের পাঠাগারমুখী করা গেলে এটি সমাজ পরিবর্তনের কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তবে জরাজীর্ণ ভবন ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে পাঠাগারটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত ভবনটি মেরামত করে পাঠাগারের পরিবেশ পাঠবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত হত্যার অভিযোগ, পাকিস্তান সংবাদ সম্মেলনে হাজির করল আসিফকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


ভারত হত্যার অভিযোগ, পাকিস্তান সংবাদ সম্মেলনে হাজির করল আসিফকে

ভারত কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসার নাম উল্লেখ করেছে। তারা এমনকি দাবি করেছে যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানে মূসা নিহত হয়েছেন। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে হাশিম মূসাকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করে ‘জীবিত ও সুস্থ’ বলে জানায়।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতের হাশিম মূসাকে হত্যার দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে উপহাস করেছেন।

ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে অভিযানে হাশিম মূসাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ বা মেরে ফেলার দাবি করলেও বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ শরীফ চৌধুরী মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসাকে সবার সামনে হাজির করে দাবি করেন, ভারতীয় গণমাধ্যমে যাকে নিহত হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, ‘তিনি জীবিত এবং সুস্থ আছেন।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, গত বছরের ২২ এপ্রিল পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরের কোরাগ এলাকায় ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছেন। আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতীয় দাবিকে ‘তথাকথিত সন্ত্রাসী ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক বাহিনীর সাজানো একটি ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অভিযান।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির পাঁচ দফা সময়রেখা তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিন্নার কোর তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, যৌথ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) কোরাগ ও ইউসমার্গের সাধারণ এলাকায় একটি অভিযান শুরু করেছে।

৩০ সেপ্টেম্বর সকালে চিন্নার কোরের আরেকটি পোস্টে দাবি করা হয়, ভারতীয় বাহিনী অভিযানের সময় লস্কর-ই-তৈয়বার এক ‘সন্ত্রাসীর’ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই দাবি করে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় মোহাম্মদ আসিফ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে এবং তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের (এসএসজি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোও (পিআইবি) একই ধরনের দাবি করে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, ‘মুসা ওরফে আসিফ ফৌজি’কে নিষ্ক্রিয় করা মে মাসে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি ‘অপারেশন শেরুওয়ালি’র চলমান অভিযানের অংশ। এ বিষয়ে আহমেদ শরীফ চৌধুরী ব্যঙ্গ করে বলেন, ছয় মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর মুসা ওরফে আসিফ ফৌজিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তাই এ জন্য অভিনন্দন ও করতালি দেওয়া উচিত।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যম আসিফকে কাশ্মীরে একাধিক হামলার সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি করেছিল। এসব হামলার মধ্যে ছিল ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট হালান, ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডিকেজি, ২০২৩ সালের মে মাসে কান্ডি, ২০২৪ সালের মে মাসে শাহ সিতার, ২০২৪ সালের জুনে শিব খোরি, ২০২৪ সালের অক্টোবরে গানগানগীর, একই মাসে বুটা পাহাড়ি এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাসিরা এলাকার হামলা। ভারতীয় সরকার আরও দাবি করেছিল, আসিফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একই গোষ্ঠীর আরও তিন সদস্যকে অভিযানে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, সংবাদ সম্মেলনের পর এসব ‘লজ্জাজনক’ প্রচারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অন্তত নিজেদের প্রচারের বিষয়ে লজ্জা পাওয়া উচিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলো মুছে ফেলা উচিত। তিনি ভারতীয় পিআইবির একটি বিবৃতিও পড়ে শোনান, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে অভিযানে লস্কর-ই-তৈয়বার চারজন ‘জ্যেষ্ঠ কমান্ডার’ নিহত হয়েছেন। এরপর তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন নিয়েও ব্যঙ্গ করেন।

তিনি নিউজ ১৮, দ্য স্টেটসম্যান, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস, এবিপি লাইভ এবং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও স্ক্রিনশট সংবাদ সম্মেলনে দেখান। পরে তিনি মোহাম্মদ আসিফকে মঞ্চে আসতে বলেন এবং জানান, আসিফ পাকিস্তানের আটক জেলার বাসিন্দা। এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে আসিফকে ‘সুপারম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করে তার ‘কৃতিত্ব’ সম্পর্কে জানতে চান।

আসিফ বলেন, আগের দিন তার বন্ধুরা ফোন করে জানিয়েছিল যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে, কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনী তাকে হত্যা করেছে এবং তিনি ‘শহীদ’ হয়েছেন। কিন্তু তিনি জানান, তিনি জীবিত ও সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। ভারতীয় নম্বর থেকে তার কাছে একাধিক ফোন এসেছিল। ফোনকারীরা তার ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয়, অবস্থান এবং ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে তার নাম জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইছিল। পরে এএনআইয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তাকে কাশ্মীরের একটি অভিযানে নিহত বা ‘শহীদ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এতে তিনি বিস্মিত হন, কারণ তখন তিনি নিজের বাড়িতেই বসে ছিলেন। তিনি বিষয়টি তার ইউনিটকে জানান। ইউনিট থেকে তাকে ভারতীয় নম্বর থেকে আসা সব ফোন ব্লক করতে বলা হয় এবং জানানো হয় যে আইএসপিআরের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

আসিফ আরও জানান, তিনি ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ বা এসএসজিতে যোগ দেন এবং সেখানে ১৮ বছর সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। এরপর তিন বছর একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। গত তিন থেকে চার মাস ধরে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে বসবাস করছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের অভিযোগকে আসিফ ‘মিথ্যা, লজ্জাজনক ও অসম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেন এবং এসব দাবির নিন্দা জানিয়ে বলেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তিনি জীবিত এবং সবার সামনে উপস্থিত আছেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি তার দায়িত্ব সাহসের সঙ্গে পালন করেছেন এবং পাকিস্তান সামনাসামনি জবাব দেয়, আড়াল থেকে নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণে আহত ২, উদ্ধার ১১টি ককটেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণে আহত ২, উদ্ধার ১১টি ককটেল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতির সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ফলে দুইজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১১টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে। আহতদের মধ্যে একজনের হাতের একাংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শেখটোলা পিয়নপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখটোলা ও কবিরাজপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ওদুদ মহরীল এবং সাবেক ইউপি সদস্য জালাল মেম্বারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ানোর প্রস্তুতি নেয়। এ সময় তাদের হাতে ককটেলসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে সুমেল এবং আব্দুল হামিদ আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে একজনের হাতের একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একটি ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা সংঘর্ষে জড়ানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, উল্লেখযোগ্য যে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকার একটি বাড়িতে একসঙ্গে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি চরবাগডাঙ্গায় ককটেল বিস্ফোরণে দুজন নিহত হন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%