০৮:০৯ পি.এম
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় সিগারেট বাকিতে না দেওয়ার কারণে সুমন মিয়া নামের এক যুবক দোকানির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এই ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত দোকানি ইব্রাহিম খলিল, যিনি চেংজানা গ্রামের সুলতান উদ্দিনের ছেলে, গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে তার পরিবার জানিয়েছে, আগুনে খলিলের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অভিযুক্ত সুমন মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পুলিশ তাকে আটক করেছে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিল সাহিতপুর বাজারে ‘ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে একটি মুদিদোকান পরিচালনা করেন। দোকানে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি বোতলে করে পেট্রলও বিক্রি করা হয়। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুমন মিয়া দোকানে এসে বাকিতে একটি সিগারেট চান। দোকানদার বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য রাখা বোতল থেকে পেট্রল নিয়ে দোকানের সামনে ও ভেতরে ছিটিয়ে দেন। পরে গ্যাসলাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে বোতলটি ইব্রাহিমের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বিষয়টি টের পেয়ে ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
ইব্রাহিমের ভাই লাদেন মিয়া জানিয়েছেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ইব্রাহিম চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার শরীরের ৭০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
এদিকে ঘটনার ২৬ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সুমন মিয়া বোতল হাতে দোকানের সামনে পেট্রল ছিটাচ্ছেন এবং একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দৌড়ে যাচ্ছেন। এ সময় ইব্রাহিমের শরীরে আগুন ধরে গেলে তিনি দোকান থেকে বের হয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেছেন, ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে উপজেলার সহিলাটি গ্রাম থেকে সুমন মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন