ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণে আহত ২, উদ্ধার ১১টি ককটেল


চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণে আহত ২, উদ্ধার ১১টি ককটেল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের প্রস্তুতির সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ফলে দুইজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১১টি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে। আহতদের মধ্যে একজনের হাতের একাংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শেখটোলা পিয়নপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখটোলা ও কবিরাজপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ওদুদ মহরীল এবং সাবেক ইউপি সদস্য জালাল মেম্বারের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ানোর প্রস্তুতি নেয়। এ সময় তাদের হাতে ককটেলসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে সুমেল এবং আব্দুল হামিদ আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে একজনের হাতের একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একটি ছোট বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা সংঘর্ষে জড়ানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, উল্লেখযোগ্য যে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকার একটি বাড়িতে একসঙ্গে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি চরবাগডাঙ্গায় ককটেল বিস্ফোরণে দুজন নিহত হন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা

গাজীপুর জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মৃধা জর্জ এবং শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম শেখকে বিমানবন্দর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মহানগরীর বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া নাসির উদ্দিন মৃধা জর্জ (৫০) গাজীপুর জেলা শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল হাই মৃধার পুত্র। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর আলম (৪৪) শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন শেখের ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা রয়েছে, যা জানিয়েছেন বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার।

তিনি আরও জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, কক্সবাজার থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা আসামিরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। ওই ফ্লাইটটি শুক্রবার দুপুর দেড়টায় অবতরণ করে। ফ্লাইটটি অবতরণের পর নাসির উদ্দিন মৃধা জর্জ ও জাহাঙ্গীর আলমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা বিমানবন্দর থানায় রয়েছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে জানানো হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, বিমানবন্দর থানার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আনতে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল বিমানবন্দর থানায় পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৪২ জন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, ঢাকা বিভাগে নিশ্চিত হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ১১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ শিশু নিশ্চিত হামে এবং ১ হাজার ১২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

এদিকে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এই সময়ে মোট ২১ হাজার ৬২৩ শিশুর হাম শনাক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোতে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ২১ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩৩ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাউয়াছড়ায় হুক ছিঁড়ে ৬ বগি রেখে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাল ট্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


লাউয়াছড়ায় হুক ছিঁড়ে ৬ বগি রেখে শ্রীমঙ্গল পৌঁছাল ট্রেন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়ায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা করা আন্তঃনগর পাহাড়ি এক্সপ্রেসের (৭২০) হুক ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ছয়টি বগি বনের মধ্যে রেখে, বাকি ছয়টি বগি নিয়ে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছয়টি বগি লাউয়াছড়ার বনের ভেতর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

স্টেশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের মাঝামাঝি ছয়টি বগির পর ক্লিপ (হুক) ভেঙে যায়। এই কারণে ছয়টি বগি রেখে ইঞ্জিনটি বাকি বগি নিয়ে পার্শ্ববর্তী শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে চলে যায়। রেখে যাওয়া বগিগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য বিকল্প ইঞ্জিন নিয়ে আসা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হুসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হুক ছিঁড়ে ফেলে আসা ছয়টি বগি আনার জন্য ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে। কিছু সময়ের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেন-জিদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


জেন-জিদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের কারণে ফ্রান্সে জেন-জি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রাজধানী প্যারিসের আশপাশে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা এবং দীর্ঘ ক্লাস সূচির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমশ সহিংস হয়ে উঠেছে। প্যারিস, মার্সেই, নঁত, স্ট্রাসবার্গ, তুলুজ ও লিলসহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের চেষ্টা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু আন্তঃমন্ত্রণালয় সংকট বৈঠক করেছেন।

চলমান অস্থিরতার কারণে শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশজুড়ে চার শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, ৪০০-এর কিছু বেশি স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং যেখানে সরাসরি পাঠদান সম্ভব নয়, সেখানে দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্যারিস অঞ্চলের কয়েকটি হাইস্কুলে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, অনেক স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এবং ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামোর অবস্থা খারাপ। দীর্ঘ ক্লাস সূচি ও পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ নিয়েও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়েও কিছু শিক্ষার্থীর অসন্তোষ রয়েছে।

প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও কিছু এলাকায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নঁত ও রুয়াঁর স্কুলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। মার্সেইয়ে একটি স্কুলের সামনে পেট্রল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষক আক্রান্ত হন। স্ট্রাসবার্গে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং তুলুজে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। বিভিন্ন শহরে গণপরিবহন চলাচলও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রায় ২ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ১ অক্টোবরেই ১ হাজার ৯৪৯ জনকে আটক করা হয়। ফলে ‘প্রায় তিন হাজার’ আটকের দাবি না করে বর্তমান যাচাই করা হিসাবে ‘প্রায় দুই হাজার’ লেখা বেশি নির্ভুল।

সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও বড় সংখ্যায় আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১ অক্টোবরের সংঘর্ষে ৩০৫ জন পুলিশ ও জেন্ডারম সদস্য আহত হয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর ১৭০ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা খাতের ৬৫ জন কর্মীও আহত হয়েছেন।

আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজ (LFI)-এর কিছু রাজনীতিকের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। দলটির আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার্ড এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। LFI-এর পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের কথা বলা হলেও পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়েছে।

সাঁ-দেনির মেয়র ও LFI নেতা বালি বাগায়োকোর ভূমিকা নিয়েও আলাদা করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। তার বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আগুনের পাশে তাকে উল্লাস করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যম TF1-এর ফ্যাক্ট-চেক এবং ল্য পারিজিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারিত ভিডিওটি খণ্ডিত; পূর্ণ দৃশ্যের ভিত্তিতে তাকে আগুন লাগাতে দেখা যায়নি, বরং তার পক্ষ থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করার দাবি করা হয়েছে।

তবে বাগায়োকোর কিছু বক্তব্য নিয়ে আলাদা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর একটি অবরুদ্ধ হাইস্কুলের সামনে তিনি পুলিশের আচরণের প্রেক্ষাপটে ‘সহিংসতা বৈধ হতে পারে’—এমন মন্তব্য করেন। পরে তিনি ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। এ বক্তব্যের পর ৩০ সেপ্টেম্বর প্যারিসের পুলিশ প্রিফেক্ট তার বিরুদ্ধে ‘অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা’র অভিযোগে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেন। এটি একটি বিচারিক অভিযোগ বা রিপোর্ট; তাকে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ফ্রান্সের বড় জনশৃঙ্খলা সংকটে পরিণত হয়েছে। একদিকে শিক্ষক ও অবকাঠামোসংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ব্যাপক ধরপাকড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শুক্রবারও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%