০৩:৩৫ পি.এম
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর ওলেশকিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করা হয়েছে।
তিনি শুক্রবার আকস্মিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
শহরটিতে বহু মানুষ আটকা পড়েছে এবং খাদ্যসংকট ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। এই তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি।
আরও পড়ুন: এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের আরও অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা
মেলানিয়ার এই ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক উদ্যোগটি এমন এক সময় এসেছে, যখন তার স্বামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। তবে সম্প্রতি মস্কোর প্রতি তার নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কিয়েভের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ৫৬ বছর বয়সী মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ‘ওলেশকির পরিস্থিতি ভয়াবহ। শহরটি যুদ্ধের সম্মুখসারিতে অবস্থিত ও বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ যে কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ত, তা স্পষ্ট ছিল।’
বিবৃতির মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়ার দখলে থাকা শহরটির বাসিন্দারা যুদ্ধবিরতির আওতায় ইউক্রেন অথবা রাশিয়া— যেকোনো দেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন: ইতালির রোম ও মিলানে বিক্ষোভের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই যুদ্ধবিরতি আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
স্লোভেনিয়ায় জন্ম নেওয়া সাবেক মডেল মেলানিয়া ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজস্ব কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে আসছেন। ওই সময় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের একটি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মেলানিয়ার দপ্তরের দাবি, যুদ্ধের কারণে মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৩০টিরও বেশি শিশুকে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করতে তিনি সহায়তা করেছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘যুদ্ধবিরতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে আমরা স্বাগত জানাই।’
আরও পড়ুন: ওলেশকিতে মঙ্গলবার রাত ১টা থেকে যুদ্ধবিরতি পালন করবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী
তবে রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। অর্থাৎ মেলানিয়ার দপ্তরের ঘোষণার দুই দিন আগেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা।
গেরাসিমভ খেরসন অঞ্চলে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার স্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগটি মেলানিয়ার নিজের এবং তিনি ‘শিশুদেরকে বাঁচাতে’ চান।
আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি আশা টোকিওর
এসব আলোচনায় মেলানিয়া অংশ নিতে পারেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না। তবে এটিকে আমার শোনা সবচেয়ে খারাপ ধারণাও বলা যাবে না।’
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের ওঠানামার বিষয়টিও তার এই মন্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আবারও বিরোধে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারলিংক যোগাযোগসেবার সংস্করণ ব্যবহারে ইউক্রেন এখনও সমস্যার মুখে রয়েছে।
এর এক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ওই সেবায় ইউক্রেনের প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করেছেন।
আরও পড়ুন: ক্রিপ্টোকারেন্সি কেলেঙ্কারির অভিযোগে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের মামলা খারিজ
হাডসন ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের গতিসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এখনও বহাল রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করার কথা থাকা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ।
এদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংক ব্যবহারের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন বলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, সমস্যা থেকে গেলে তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার কিছু পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার ট্রাম্পের
তার ভাষায়, ‘কোনো সমস্যা থাকলে আমি তা ঠিক করে দেব।’
গত দুই সপ্তাহে ট্রাম্পের নীতিতে আবারও মস্কোর প্রতি ঝোঁকের ইঙ্গিত দেখা গেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম কমানোর আশায় তিনি ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন।
পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনাও স্থগিত করেছেন।
এর বিনিময়ে মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের আটক এক নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে। এখন মেলানিয়ার উদ্যোগের ক্ষেত্রেও রাশিয়ার সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
মেলানিয়া জানিয়েছেন, ওলেশকি পরিকল্পনা নিয়ে তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করেছেন। মানবিক সহায়তার প্রয়োজন নিরূপণে দুই দেশের বেসামরিক কর্মকর্তারা শহরটি পরিদর্শন করবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব বাসিন্দা শহর ছেড়ে যেতে চান, তাদের পছন্দের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সমন্বিত সহায়তা ও পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে। আমার ধারণা, কেউ কেউ রাশিয়ায় যেতে চাইবেন, আবার কেউ ইউক্রেনে যেতে চাইবেন।’
বাসিন্দাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানানো হচ্ছে কি না— তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি ‘নিরপেক্ষ মার্কিন সংবাদমাধ্যম’ও থাকবে বলে জানান তিনি।
তবে ওই সংবাদমাধ্যমের নাম প্রকাশ করেননি মেলানিয়া।
দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে দিনিপ্রো নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ২০২২ সালে রুশ সেনাদের দখলে যায়। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজার। বর্তমানে তা কমে আনুমানিক দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে শহরটির সাবেক বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে পড়ে শহরটির মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। তাদের খাদ্য ও ওষুধের সংকটও দিন দিন বাড়ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন