ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সারাদেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন মনপুরা, পানিবন্দি ১৫ হাজার বাসিন্দা


সারাদেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন মনপুরা, পানিবন্দি ১৫ হাজার বাসিন্দা

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির ফলে সমুদ্র বন্দরের ৩ নাম্বার সতর্ক সংকেত ও নদী বন্দরের ১ নাম্বার সতর্ক সংকেত জারি থাকার কারণে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে মনপুরা সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত ৫ দিনের টানা বর্ষণের ফলে মনপুরার সর্বত্রই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপকূলজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মনপুরার সঙ্গে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর (নদীবন্দর) সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায়। হাজিরহাট সি-ট্রাক ঘাট ও রামনেওয়াজ ঢাকা সার্ভিস ঘাটের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল ১০ টায় ভোলা যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন যাত্রী হাজিরহাট সি-ট্রাক ঘাটে এসেছিল। নৌযান বন্ধ থাকায় তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে, রামনেওয়াজ ঢাকার সার্ভিস ঘাটে ঢাকা যাওয়ার জন্য যাত্রীরা উপস্থিত হয়েছিল, কিন্তু ঢাকা থেকে আজ কোনো লঞ্চ না আসায় ঢাকাগামী যাত্রীরা যেতে পারেননি। ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলাতে ৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। লঘুচাপের কারণে সমুদ্র বন্দরকে ৩ নাম্বার সতর্ক সংকেত ও নদীবন্দরকে ১ নাম্বার সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করার জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ভোলা জেলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (নদীবন্দর) নির্মল কুমার রায় জানিয়েছেন, লঘুচাপ ও সতর্ক সংকেতের কারণে জেলার সব নৌযান বন্ধ রয়েছে। গত ৫ দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ১০ গ্রামের আনুমানিক ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। এখন মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। নিম্ন আয়ের মানুষেরা ঘর থেকে বের হতে না পারায় অনেকেই উপোস রয়েছেন। পানিবন্ধি এলাকাগুলোর বেশিরভাগ ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ার ফলে চুলায় হাড়ি না ওঠায় রান্না করা হয়নি।

এদিকে, মেঘনায় ভাটা থাকার কারণে বিপৎসীমার নিচে ১ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটারের নিচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা। অন্যদিকে, ভোর রাতে জোয়ারের সময় উপজেলার বিচ্ছিন্ন বেড়িবাঁধহীন চর কলাতলী ইউনিয়নের কাজীরচর ও ঢালচরের নিম্নাঞ্চলে ২-৩ ফুট জোয়ারের প্লাবিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

দেখা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন, দাসেরহাট, সোনারচর ও চরজ্ঞান, সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া, মাস্টারহাট, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর ও মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিরপাড় গ্রামে অধিকাংশ এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে রয়েছে। ঘর-বাড়ির ভিতরে ২-৩ ফুট পানি জমে গেছে। এদিকে, হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের দাসের হাট এলাকা সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে না আসলেও সমাজকর্মী ও সংবাদকর্মী মেহেদী হাসান ও আবদুর রহমান সোয়েবের প্রচেষ্টায় ওই অঞ্চলে পানি নিষ্কাশনের কাজ করা হচ্ছে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে। এই এলাকার বাসিন্দা মফিজ মেস্ত্রী জানিয়েছেন, তারা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কেউ তাদের খোঁজ নেননি। কিন্তু সমাজকর্মী আবদুর রহমান সোয়েব ও মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় তারা স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, মনপুরা উপকূলে জলাবদ্ধতা যাতে না সৃষ্টি হয়, সেই লক্ষ্যে খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভোলায় প্রকল্প কর্মকর্তা বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ এম


দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভোলায় প্রকল্প কর্মকর্তা বরখাস্ত

ভোলার মনপুরা উপজেলায় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের উপজেলা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে তিনি ১ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার ৭২৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ভোলা জেলা পল্লী উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজাদুর রহমান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মো. কামরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে তাকে ভোলা জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হলে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লালমোহন উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে মো. কামরুজ্জামান বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দলের ঋণের অর্থ, সদস্যদের জমা দেওয়া কিস্তি এবং প্রকল্পের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ইসলামপুর, দক্ষিণ তারাগঞ্জ, মঙ্গল সিকদার, রায়চাঁদ, মধ্য তারাগঞ্জ খানবাড়ি, রহিমপুর, ধলিগৌরনগর জেবলরাজ, বগিরচর, চরকালাচাঁদ, ভাঙ্গাপুল, দক্ষিণ বালুচর ও পূর্বকিশোরগঞ্জ মৃধাপাড়া বিত্তিহীন মহিলা সমবায় সমিতিসহ বিভিন্ন সমিতি থেকে মোট ৩৭ লাখ ২৮ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরবর্তীতে মনপুরায় যোগদানের পর মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন সমিতি ও পল্লী উন্নয়ন দলের অর্থ থেকে আনুমানিক ৬১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পের প্রকৃত আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে আরও ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তদন্তে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মনপুরায় ২৭ জনের নামে-বেনামে ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৬৫০ টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকারের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে মো. কামরুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাঠকর্মী পবিত্র কুমার সরকার ২০২৫ সালের জুন মাসে মনপুরা থেকে বদলি হয়ে যান। তার দায়িত্বাধীন এলাকায় এখনো বিপুল পরিমাণ ঋণ আদায় বাকি রয়েছে। সেই বিষয়কে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। মনপুরা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) মাহে আলম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। লালমোহন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) রীমা আক্তার জানিয়েছেন, লালমোহনে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদে নতুন দায়িত্ব পেলেন হাফিজ ইব্রাহিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ এম


সংসদে নতুন দায়িত্ব পেলেন হাফিজ ইব্রাহিম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদ্যস নির্বাচিত হলেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম। বুধবার (৮ জুলাই) সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতার পক্ষে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে গৃহীত হয় প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে।

এই সংসদীয় কমিটি মূলত সরকারি হিসাব-নিকাশ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা তদারকির দায়িত্ব পালন করবে বলে কার্যপ্রণালী বিধিতে উল্লেখ রয়েছে। ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদ্যস নির্বাচিত হওয়ায় দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা ৮ দিনের বর্ষণে ভোলার মনপুরায় পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ এম


টানা ৮ দিনের বর্ষণে ভোলার মনপুরায় পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় টানা আট দিনের বর্ষণের কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন হয়ে পড়ায় নিম্ন আয়ের বহু পরিবারের মধ্যে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকার ফলে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপকূলজুড়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুথেকে কোমর সমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

ঘর থেকে বের হতে না পারায় দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাসহ দৈনন্দিন কাজকর্মেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। কাজ করতে না পারায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে, আর অনেক পরিবারের চুলায় হাঁড়ি উঠছে না। খাদ্যসংকটে পড়া পরিবারগুলো দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা চেয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতর ও উঠানে পানি জমে গেছে। কিছু পরিবার ঘরের ভেতরে উঁচুমাটির চুলা তৈরি করে রান্না করছেন, আবার অনেকে প্রতিবেশীর বাড়ি বা উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালীর পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম ও দক্ষিণ সাকুচিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশেও পানি জমে রয়েছে। মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়েছে। হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার, আল-আমিন ও আক্তার হোসেন; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ডা. কামাল ও শ্রীকৃষ্ণ; উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের রিপন ও হাসান; এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্রদাস ও শুভ্র জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই চারপাশে বেড়িবাঁধের কাজ চলায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলার বেশ কয়েকটি স্লুইসগেট অকেজো হয়ে আছে। বিভিন্ন খাল স্থানীয়ভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি লোকালয়ে আটকে যাচ্ছে।

দ্রুত স্লুইসগেট মেরামত, খাল পুনঃখনন ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক নলকূপের আশপাশ ডুবে গেছে। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত জরুরি ত্রাণ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইসগেট সংস্কার, খাল দখলমুক্ত করা এবং পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা আজ দুপুরে বলেন, 'গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের কারণে জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ার কমে গেলে সেই পানি আবার নেমে যাবে। তবে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলমান রয়েছে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ এম


টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা

টানা বৃষ্টির ফলে ও জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চলে জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের কারণে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়ে গেছে এবং কৃষিজমি, আমনের বীজতলা, গ্রামীণ সড়ক এবং নিচু এলাকার বসতভিটায় পানি ঢুকে পড়েছে। এর ফলে কৃষক, নিম্ন আয়ের মানুষ ও নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। একসঙ্গে বিষখালী নদীর কয়েকটি এলাকায় নতুন করে নদীভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে ফসলি জমি, আমনের বীজতলা এবং গ্রামীণ সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বসতবাড়ির আঙিনায়ও পানি উঠেছে। টানা বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে জেলার নদ-নদীর পানির স্তরও স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে।

ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছেন। সকালে জেলার বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা সড়ক পানিতে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে। পানির নিচে ডুবে থাকা আমনের বীজতলার পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষতির হিসাব কষতে দেখা গেছে কৃষকদের। শহর এলাকাতেও টানা বৃষ্টির কারণে মানুষের চলাচল কমে গেছে। দীর্ঘ সময় যাত্রীর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে রিকশাচালকদের। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন আমন চাষিরা। পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক বীজতলা। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে রোপণের জন্য প্রস্তুত করা চারা নষ্ট হয়ে যাবে এবং চলতি মৌসুমে আমনের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নলছিটি উপজেলার শীতলপাড়া এলাকার কৃষক মামুন হোসেন বলেন, 'অনেক কষ্ট করে বীজতলা তৈরি করেছি। এখন সব পানির নিচে। আর কয়েক দিন পানি থাকলে পুরো বীজতলাই নষ্ট হয়ে যাবে।' টানা বৃষ্টির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের পথও সংকুচিত হয়েছে। ঝালকাঠি শহরের রিকশাচালক মো. আক্কাস ফরাজী বলেন, '৫ তারিখ থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যাত্রীও আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। সারাদিন রিকশা চালিয়েও সংসার চালানোর মতো আয় হচ্ছে না।' জলাবদ্ধতার ফলে শিক্ষার কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের সৈয়দ জামিলা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, 'ভারী বর্ষণের ফলে ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।' এদিকে বিষখালী নদীতীরবর্তী চর ভাটারকান্দা এলাকায় আবারও নদীভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষা ব্লক স্থাপন করা হলেও নদীর তীব্র স্রোতে অন্য অংশে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী পরিবারের উদ্বেগ বাড়ছে। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, 'নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এভাবে টানা বৃষ্টি চলতে থাকলে আমনের কিছু বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের জমি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে এবং পানি নেমে গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।' ঝালকাঠী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ. কে. এম. নিলয় পাশা বলেন, 'টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে জেলার নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে।' নদীতীরের বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বাড়লেই ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধের অভাবে বছরের পর বছর আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। তাই দ্রুত কার্যকর নদীতীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%