ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংসদে নতুন দায়িত্ব পেলেন হাফিজ ইব্রাহিম


সংসদে নতুন দায়িত্ব পেলেন হাফিজ ইব্রাহিম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদ্যস নির্বাচিত হলেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম। বুধবার (৮ জুলাই) সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতার পক্ষে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে গৃহীত হয় প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে।

এই সংসদীয় কমিটি মূলত সরকারি হিসাব-নিকাশ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা তদারকির দায়িত্ব পালন করবে বলে কার্যপ্রণালী বিধিতে উল্লেখ রয়েছে। ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদ্যস নির্বাচিত হওয়ায় দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা জানান।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা ৮ দিনের বর্ষণে ভোলার মনপুরায় পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ এম


টানা ৮ দিনের বর্ষণে ভোলার মনপুরায় পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় টানা আট দিনের বর্ষণের কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন হয়ে পড়ায় নিম্ন আয়ের বহু পরিবারের মধ্যে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকার ফলে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপকূলজুড়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুথেকে কোমর সমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

ঘর থেকে বের হতে না পারায় দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাসহ দৈনন্দিন কাজকর্মেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। কাজ করতে না পারায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে, আর অনেক পরিবারের চুলায় হাঁড়ি উঠছে না। খাদ্যসংকটে পড়া পরিবারগুলো দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তা চেয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক পরিবারের ঘরের ভেতর ও উঠানে পানি জমে গেছে। কিছু পরিবার ঘরের ভেতরে উঁচুমাটির চুলা তৈরি করে রান্না করছেন, আবার অনেকে প্রতিবেশীর বাড়ি বা উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালীর পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক হয়ে পড়েছে। বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জরুরি প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম ও দক্ষিণ সাকুচিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশেও পানি জমে রয়েছে। মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়েছে। হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার, আল-আমিন ও আক্তার হোসেন; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ডা. কামাল ও শ্রীকৃষ্ণ; উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের রিপন ও হাসান; এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্রদাস ও শুভ্র জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই চারপাশে বেড়িবাঁধের কাজ চলায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাঁদের অভিযোগ, উপজেলার বেশ কয়েকটি স্লুইসগেট অকেজো হয়ে আছে। বিভিন্ন খাল স্থানীয়ভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি লোকালয়ে আটকে যাচ্ছে।

দ্রুত স্লুইসগেট মেরামত, খাল পুনঃখনন ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক নলকূপের আশপাশ ডুবে গেছে। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়া, জ্বর, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত জরুরি ত্রাণ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইসগেট সংস্কার, খাল দখলমুক্ত করা এবং পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা আজ দুপুরে বলেন, 'গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের কারণে জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ার কমে গেলে সেই পানি আবার নেমে যাবে। তবে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলমান রয়েছে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ এম


টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা

টানা বৃষ্টির ফলে ও জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চলে জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের কারণে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়ে গেছে এবং কৃষিজমি, আমনের বীজতলা, গ্রামীণ সড়ক এবং নিচু এলাকার বসতভিটায় পানি ঢুকে পড়েছে। এর ফলে কৃষক, নিম্ন আয়ের মানুষ ও নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। একসঙ্গে বিষখালী নদীর কয়েকটি এলাকায় নতুন করে নদীভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে ফসলি জমি, আমনের বীজতলা এবং গ্রামীণ সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বসতবাড়ির আঙিনায়ও পানি উঠেছে। টানা বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে জেলার নদ-নদীর পানির স্তরও স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে।

ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছেন। সকালে জেলার বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা সড়ক পানিতে তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে। পানির নিচে ডুবে থাকা আমনের বীজতলার পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষতির হিসাব কষতে দেখা গেছে কৃষকদের। শহর এলাকাতেও টানা বৃষ্টির কারণে মানুষের চলাচল কমে গেছে। দীর্ঘ সময় যাত্রীর অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে রিকশাচালকদের। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন আমন চাষিরা। পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক বীজতলা। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি না নামলে রোপণের জন্য প্রস্তুত করা চারা নষ্ট হয়ে যাবে এবং চলতি মৌসুমে আমনের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নলছিটি উপজেলার শীতলপাড়া এলাকার কৃষক মামুন হোসেন বলেন, 'অনেক কষ্ট করে বীজতলা তৈরি করেছি। এখন সব পানির নিচে। আর কয়েক দিন পানি থাকলে পুরো বীজতলাই নষ্ট হয়ে যাবে।' টানা বৃষ্টির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের পথও সংকুচিত হয়েছে। ঝালকাঠি শহরের রিকশাচালক মো. আক্কাস ফরাজী বলেন, '৫ তারিখ থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যাত্রীও আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। সারাদিন রিকশা চালিয়েও সংসার চালানোর মতো আয় হচ্ছে না।' জলাবদ্ধতার ফলে শিক্ষার কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের সৈয়দ জামিলা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, 'ভারী বর্ষণের ফলে ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।' এদিকে বিষখালী নদীতীরবর্তী চর ভাটারকান্দা এলাকায় আবারও নদীভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষা ব্লক স্থাপন করা হলেও নদীর তীব্র স্রোতে অন্য অংশে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী পরিবারের উদ্বেগ বাড়ছে। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, 'নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এভাবে টানা বৃষ্টি চলতে থাকলে আমনের কিছু বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের জমি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে এবং পানি নেমে গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।' ঝালকাঠী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ. কে. এম. নিলয় পাশা বলেন, 'টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে জেলার নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে।' নদীতীরের বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বাড়লেই ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধের অভাবে বছরের পর বছর আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। তাই দ্রুত কার্যকর নদীতীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ এম


ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, রুমা বেগম নামের একজন নারীর কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন যে, তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫ জন জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের মেসার্স এইচ আর কে জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, নিয়োগ কার্যক্রম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা। অভিযোগকারী রুমা বেগম বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আয়ার কাজ করে আসছেন এবং নতুন নিয়োগের খবর পেয়ে এক্স-রে বিভাগের টেকনোলজিস্ট দিলীপ কুমারের সহযোগিতা চান। তাঁর অভিযোগ, পরে প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে বিষয়টি যায়। প্রথমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলে পরে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার জন্য তারা সমঝোতা করেন। গত জুন মাসে তিনি জেলা ঝালকাঠির মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারে ওই টাকা সিরাজুল ইসলামের হাতে দিয়েছেন। তিনি দাবী করেন যে, টাকা লেনদেনের প্রমাণ মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারের সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যাবে। এই বিষয়ে তাঁর একটি ভিডিও বক্তব্যও আজকের পত্রিকার ব্যবহারে রয়েছে। তবে ১ জুলাই নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫ জনের তালিকায় রুমা বেগমের নাম পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, মো. সিরাজুল ইসলাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারে খণ্ডকালীন জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বও রেখেছেন। দিলীপ কুমার জানিয়েছেন, ‘আমি কোনো অর্থলেনদেনে জড়িত নই।

মানবিক কারণে রুমা বেগমকে সহায়তা করতাম। চাকরির বিষয়টি সিরাজুল ভাইকে জানিয়েছিলাম মাত্র।’ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম ইফতেখার বলেন, জনবল নিয়োগ সম্পূর্ণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হয়, এবং হাসপাতালের কেউ যদি অনিয়মে জড়িত থাকে তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, আউটসোর্সিং নিয়োগে সিভিল সার্জন কার্যালয় বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। যদিও অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

তিনি জানান, চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়েছে এমন কোনও বিষয় নেই। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এইচ আর কের স্বত্বাধিকারী হামিদুর রহমান তুহিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সভাপতি সত্যবান সেনগুপ্ত আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থলেনদেনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তিনি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠিতে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ এম


ঝালকাঠিতে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

ঝালকাঠির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতের কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকের মুখোমুখি হচ্ছেন। ঝালকাঠি শহরের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা জানান, তিনি মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করছেন। পাশে তার বাবা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। গত দুই মাস ধরে দিনে ও রাতে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের কারণে তার মতো শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, জেলার সাধারণ গ্রাহকরাও তীব্র গরমে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। গ্রাহকরা লোডশেডিং বন্ধ, গ্রাহক হয়রানি ও বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছেন প্রতিবাদে। তবে দাবি করেছেন যে এতে কোনো প্রতিকার মিলছে না। লোডশেডিংয়ের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী রাতের বেলা মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে দোকান চালাচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস-আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। কলকারখানার উৎপাদন কমে যাচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে ছোট জেলা শহরটি প্রায় মোটামুটি অন্ধকারে ডুবে যায়। গ্রাহকদের অভিযোগ, ঝালকাঠি জেলাজুড়ে দিন-রাত ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ অকালে চলে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতেও সমস্যা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি এবং ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝালকাঠি জেলায় ওজোপাডিকোর আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট।

এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। গ্রাহকরা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ঝালকাঠি শহরের কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান মন্তব্য করেন, “দিন ও রাতে মিলিয়ে ছয় থেকে সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এই তীব্র গরমে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়েছি।” নলছিটি শহরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না।

ঘুমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুম ভেঙে যায়। এইভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে।” নলছিটি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা বলেন, ‘পরীক্ষার সময় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে খুব সমস্যায় পড়ছি। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। গরমে সঠিকভাবে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না। এতে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ ঝালকাঠি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি হচ্ছে। আমাদের জেলায় চাহিদা ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ৬ মেগাওয়াট। বেশি বিদ্যুৎ বরাদ্দ পেলে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%