বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:২৪ পি.এম
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাসের নেতৃত্বে সংঘটিত হামলার পর, অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিক একটি স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। এই তথ্য এক জরিপের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন ইসরাইলির মধ্যে তিনজনই এই হামলার জন্য 'স্বাধীন' তদন্ত চেয়ে আছেন। ইসরাইলিদের মধ্যে এই চাওয়ার পেছনে একটি প্রধান কারণ হলো, তারা ব্যাপক উদ্বেগ বোধ করছেন যে, সংগতিশীল ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে, হয় তা গাজা থেকে অথবা কোনও অন্য এলাকা থেকে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এর ফলে ইসরাইল গাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের ফলে গাজার অবকাঠামো কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখানে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও হামাসের হামলার বিষয়ে কিছু নিরাপত্তা সংস্থা আলাদাভাবে তদন্ত করেছে, তথাপি জনসাধারণ স্পষ্ট জবাবদিহিতা দাবি করে আসছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার এই ধরনের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করছেন।
তিনি যুক্তি দিচ্ছেন যে, তিনি মনে করেন, যেকোনো তদন্তই 'পক্ষপাতদুষ্ট' হবে। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে যাচ্ছেন যে, বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে। তাই, এমন জাতীয় তদন্তের ফলাফল তার জন্য সুবিধাজনক হবে না।
এছাড়া তিনি জানিয়েছেন, অক্টোবর ৭-এর ঘটনার তদন্ত কেবল তখনই উচিত, যখন এই অঞ্চলের যুদ্ধগুলোর অবসান হবে। বাস্তবতা হলো, নেতানিয়াহু একের পর এক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা বর্তমানে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন এবং নিজেদের ভোট বাড়ানোর জন্য জাতীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে, গাজায় বর্তমানে যুদ্ধের পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে এবং আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গাজা যুদ্ধের ১০০০তম দিন অতিক্রম করেছে। সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি হামলা থামছে না। প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গাজার সরকারি ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ৭৩,৬৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১,৭৩,৫১৪ জন।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলার ফলে উপত্যকার ৯০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। স্থল অভিযান, সামরিক অভিযান এবং জোরপূর্বক সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ভূখণ্ড বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) ইসরাইলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন জানান, ইসরাইল গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে এবং এই নিয়ন্ত্রণ '১০০ শতাংশে' আনতে পরিকল্পনা করছে।
এই মন্তব্যের পর, হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম আরব লীগের জরুরি সম্মেলন আহ্বানের দাবি জানান। তাঁর মতে, ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি কেবল ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, বরং বিশেষ করে মিশরসহ অন্যান্য আরব দেশের জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে একটি মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের নগরী জামায়াত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান।
এ সময় জেলা সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্না, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল বাকী, দেওয়ান খোরশেদ আলম, মাওলানা মুজিবুর রহমান মিয়াজী, মুফতি জাহাঙ্গীর আলম এবং বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আমিররা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মমিনুল হক সরকার বলেন, ২০০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দেশব্যাপী গণআন্দোলনে পরিণত হয়। তিনি দাবি করেন, আন্দোলন দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত এবং আহত হন। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন বলেও উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ৪ জুলাই ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ, ৫ থেকে ২০ জুলাই থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে আলোচনা সভা, ১৩ জুলাই ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনার, ২৩ থেকে ২৫ জুলাই উপজেলা এবং থানা ভিত্তিক জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী, ২৯ জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে মতবিনিময় সভা, ১ আগস্ট উপজেলা ভিত্তিক গণমিছিল, ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিকদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ৫ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও মিছিলে অংশগ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফল করতে এবং মাসব্যাপী আয়োজনে অংশ নিতে জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেষ ৩২-এর ম্যাচ খেলতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে লিওনেল মেসিসহ গোটা আর্জেন্টিনা দল। মায়ামি এয়ারপোর্টে আলবিসেলেস্তেদের তল্লাশি করা হয়। একটি ফুটেজে দেখা যায়, বিমান থেকে নামার পরপরই তাদের লাগেজ খুলে দেখা হয় সবকিছু। এরপর মেসির সম্পূর্ণ শরীর তল্লাশি করার জন্য একটি চেয়ারে বসিয়ে দেয়া হয়।
বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগে থেকেই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম নিয়ে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনা চলছিল। ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি না দেওয়া, আফ্রিকার দেশগুলোর ফুটবলারদের অতিমাত্রায় তল্লাশির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়েছিল। এমনকি রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না দেয়ার মতো বিভিন্ন ঘটনায় আয়োজক দেশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার এইভাবে মেসির আর্জেন্টিনা দলও এমন কার্যক্রমের সম্মুখীন হলো।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা কানসাসে ব্যাজক্যাম্প করেছে। সেখান থেকে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলার জন্য আলবিসেলেস্তেরা মায়ামিতে গিয়ে পৌঁছেছিল একদিন আগে। সেখানে গিয়ে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়। মায়ামি এয়ারপোর্টে ঘটে যাওয়া ঘটনা এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
মায়ামি এয়ারপোর্টে মেসিদের বিমান নামার পরেই গোটা দলের ওপর কড়া তল্লাশি করা হয়, অনেকটা অপরাধীদের মতো। বিমান থেকে নেমেই তাদের সিকিউরিটি কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মেটাল ডিটেকটরের মাধ্যমে মেসির গোটা শরীর পরীক্ষা করা হয়। এরপর তার সতীর্থদের তল্লাশি কার্যক্রম দেখে হাসতে থাকেন ৮টি ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। পরবর্তী সময়ে এলএম টেনের লাগেজ খুলে তল্লাশি করেন দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা, যদিও মেসি তাদের কাজে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন।
এমন কার্যক্রমের ভিডিও নেট দুনিয়াতে আসার পর এটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং সমর্থকরা এর কড়া সমালোচনা করেন। সাধারণ যাত্রীদের মতো বিশ্বসেরা একজন ফুটবলারের তল্লাশি করা ঘটনা অনেকের কাছে প্রথম ধারণার ব্যাপার। তাছাড়া আয়োজক দেশ হিসেবে ফুটবলারদের উপর বাড়তি কড়াকড়ি প্রশ্ন তৈরি করেছে। আফ্রিকার কিংবা ইরানের মত পরিস্থিতিতে এবার মেসিদেরও পড়ে যেতে হলো। ফিফা কি এসব বিষয়গুলো ঠিকভাবে দেখছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও দফায় দফায় বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ উঠে আসছে। বিস্ফোরণের শব্দের কারণে এপারের সীমান্ত এলাকা কেঁপে উঠছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর থেকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তের ওপারে রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষ চলছে। এর আগে, বুধবার (১ জুলাই) দিন এবং রাতে মংডু শহরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকা থেকে বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এ ঘটনায় হোয়াইক্যং সীমান্তের বাড়িঘর কেঁপে উঠেছিল। এ পর্যন্ত অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, প্রায় এক বছর আগে হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল। তখন সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে জীবন যাপন করেছে। এখন আবারও নতুন করে হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাখাইনে হামলা ও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হ্নীলা মৌলভীবাজারের বাসিন্দা জেলে রহমত উল্লাহ বলেছেন, সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। দুপুরের দিকে মৌলভীবাজারের ওপারে রাখাইন সীমান্ত থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ করে দ্রুত ফিরে এসেছি। এর আগের দিন বুধবার রাত ৯টার পরে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছিল। সেই সঙ্গে যুদ্ধ বিমানের শব্দও শোনা যাচ্ছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কেঁপে উঠছে সীমান্তবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
টেকনাফের সীমান্ত ঘেঁষা সাবরাং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, রাত ৯টার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে শাহপরীরদ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় শব্দের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ দিলু বলেছেন, কয়েকটি বিকট শব্দ টেকনাফ পর্যন্ত স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। নাফ নদীর দিক থেকে মাঝে মাঝে আগুনের ঝলকানিও দেখা যাচ্ছে। যা কিছুক্ষণ পর আবার নিভে যাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের বলেন, এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই যুদ্ধে उখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত এলাকার খাইংখালী, পালংখালী, রহমতের বিল, আঞ্জুমান পাড়া, হোয়াইক্যং, হ্নীলা, পৌরসভা, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আজ রাত ৯টা থেকে বোমা ও মর্টার হামলার শব্দে কেঁপে ওঠে উখিয়া-টেকনাফের সীমান্তবর্তি বাসিন্দাদের বাড়িঘর।
হ্নীলা মাষ্টার কামাল জানিয়েছেন, আগামী কাল এইচএসসি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে কিন্তু সাড়ে ৯ টায় পর পর ৪টি বিকট শব্দে বাড়িঘর কেঁপে উঠলো এবং পরীক্ষার্থীরা ভয়ে চিৎকার করে কান্না করছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাট্যংপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, মিয়ানমারে দীর্ঘদিন পর বোমার এমন শব্দ শুনিনি। মনে হচ্ছে বাংলাদেশ সীমান্তে এসে সব মর্টারশেল পড়ছে। সীমান্তের একদম কাছে আমার বাড়ি। এত বিকট শব্দে আমার বাড়ি কেঁপে ওঠা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়।
পালংখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন জানান, দীর্ঘদিন মিয়ানমারে যুদ্ধ স্থবির ছিল অথচ রাত সাড়ে ৯টা থেকে আবারও বোমা ও মর্টারশেলের শব্দ শুনে আতঙ্কে রয়েছি। শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের সিনিয়র শিক্ষক জাকারিয়া আলফাজ বলেছেন, ভূমিকম্পের মতো বিকট শব্দ কাঁপছে ঘরবাড়ি।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরে যুদ্ধ বন্ধ থাকার পর আবার বজ্রপাতের মত বিকট শব্দ কাঁপছে হ্নীলার ঘরবাড়ি এবং আমার বাড়িও কাঁপছে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান, রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সেই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা যাচ্ছে। যার ফলে অনেক স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। তিনি জানান, আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি কিন্তু প্রাথমিকভাবে জানি শাহপরীরদ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের ভেতরে গোলাগুলি চলছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। বিজিবিও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২৬) উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক। এতে সভাপতিত্ব করেন ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংছিনু মারমা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদু শুক্কুর, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং উপকারভোগী কৃষকরা।
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বনজ-ফলজ চারা, রোপা আমন ধানের চারা, হাইব্রিড মরিচের বীজ, লেবুর চারা, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা কৃষকদের বিতরণকৃত উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহার করে অধিক উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, কৃষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে আধুনিক ও উন্নত কৃষি উপকরণ পৌঁছে দিয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ