০১:৪৪ পি.এম
জীবনে বিপদ, দুশ্চিন্তা ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। কখনো আর্থিক সংকট, কখনো পারিবারিক সমস্যা, আবার কখনো অসুস্থতা কিংবা অনিশ্চয়তা মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই ধরনের অবস্থায় একজন মুমিনের প্রধান আশ্রয় হল আল্লাহ তাআলা। তাঁর ওপর ভরসা রাখা, ধৈর্য ধারণ করা এবং দোয়া ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে,
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ অর্থ: ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই তা বিনয়ীদের ছাড়া অন্যদের জন্য কঠিন।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৫)
আরও পড়ুন: আগামীকাল লক্ষ্মীপূজা, ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্যের দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে
বিপদে পড়লে রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতেন। হজরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবিজি (সা.) কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজে দাঁড়াতেন। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)
ধৈর্য ও নামাজের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো কিছু দোয়া নিয়মিত পড়া যেতে পারে। কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার জন্য এমন তিনটি দোয়া তুলে ধরা হলো।
১. কঠিন কাজ সহজ হওয়ার দোয়া
যখন কোনো কাজ কঠিন মনে হয়, সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে না পাওয়া যায় কিংবা কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তায় পড়া যায়, তখন আল্লাহর কাছে সহজতা চাওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া হলো,
আরও পড়ুন: শাহজালাল মাজারের দানবাক্স ৪ দিন পর খুলে গণনা শুরু
اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করেন, তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়। আপনি চাইলে কঠিন বিষয়কেও সহজ করে দিতে পারেন। সূত্র: সহিহ ইবনে হিব্বান।
জীবনের কঠিন মুহূর্তে এ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কাজ সহজ করে দেওয়ার প্রার্থনা করা যায়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চেষ্টা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করাও জরুরি।
২. আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার দোয়া
বিপদে পড়লে অনেক সময় মানুষ দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় ভোগে। এ অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর সাহায্যের আশা করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দোয়াটি হলো,
আরও পড়ুন: নেক কাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি। আর তিনি মহান আরশের রব। সূত্র: সুরা আত-তাওবা, আয়াত: ১২৯।
এ আয়াতে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা ও তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থার শিক্ষা রয়েছে। এ দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যায় সাতবার পড়ার ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনাও পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসের মান ও সূত্র যাচাই করে উদ্ধৃত করা উচিত।
৩. আল্লাহর রহমতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার দোয়া
বিপদে পড়ে অসহায় বোধ করলে কিংবা নিজের সামর্থ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে না পারলে আল্লাহর রহমত কামনা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া হলো,
আরও পড়ুন: ১৯০ দেশে মুসলিমদের তৈরি আলফাফা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয়তা
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক ও রক্ষক! আমি আপনার রহমতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমার সব বিষয় সংশোধন করে দিন এবং এক পলকের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। সূত্র: আন-নাসাঈর আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহসহ হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে এ দোয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়।
এ দোয়ায় আল্লাহর রহমত কামনা, জীবনের সব বিষয়ে সংশোধন এবং নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করে তাঁর সাহায্য চাওয়ার শিক্ষা রয়েছে।
বিপদ-আপদ মুমিনের জীবনের পরীক্ষা। তাই কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে, নামাজ আদায় করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলো পড়ার পাশাপাশি বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য বৈধ উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
মনে রাখতে হবে, দোয়া শুধু বিপদের সময়ের আমল নয়; বরং প্রতিদিনের জীবনে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম। তাঁর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করলে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি আসে এবং কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার শক্তি অর্জিত হয়।
আরও পড়ুন: যে ৩ আমলে বিয়ে হয় সহজে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন