০৩:২৪ পি.এম
আজ ১৮ অক্টোবর, গণতন্ত্রের জন্য বিশ্ব যুব দিবস (World Youth Day for Democracy) উদযাপন করা হচ্ছে। প্রতিবছর এই দিবসটি তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরার জন্য পালন করা হয়, যা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করতে সহায়ক। তরুণদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্ব গণতন্ত্র আন্দোলনের সহযোগী সংগঠন বিশ্ব গণতন্ত্রে যুব আন্দোলনের উদ্যোগের সঙ্গে এই দিবসটি যুক্ত রয়েছে। ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব গণতন্ত্র আন্দোলনের তৃতীয় সম্মেলনে আন্তর্জাতিক তরুণ গণতন্ত্রকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের উদ্যোগে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে আলোচনা সভা, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাট্য পরিবেশনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের নতুন ধারণা, তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং গণতান্ত্রিক চর্চার উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের মতে, তরুণেরা কেবল ভবিষ্যতের নেতা নন, বরং তাঁরা বর্তমানে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তরুণদের সামনে যেসব বাধা
গণতন্ত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পথে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়ার সুযোগের অভাব বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এসব সমস্যা তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
গণতন্ত্রবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিউনিটি অব ডেমোক্রেসিজের মহাসচিব টমাস ই. গ্যারেট এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক তরুণ তাদের সরকার ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত তরুণদের প্রত্যাশা বোঝা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি বলেন, তরুণদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রবেশের বাধা কমানো জরুরি। এর ফলে সহিংস উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার পেছনে থাকা কিছু কারণ মোকাবিলা করাও সহজ হতে পারে।
গণতন্ত্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব দেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের অংশগ্রহণ কম এবং তাদের ক্ষমতায়নে কার্যকর কর্মসূচির অভাব রয়েছে, সেসব দেশে তরুণদের মধ্যে উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। প্রতিবেদনে তরুণদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সর্বজনীন মানবাধিকারের মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনায় তাদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘এখনই তরুণদের সময়’। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, তরুণদের কেবল ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বর্তমানেও গণতন্ত্র ও সমাজের উন্নয়নে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
বিশ্ব গণতন্ত্রে যুব আন্দোলন তরুণ কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও স্বাধীন গণমাধ্যমের মতো মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং শক্তিশালী করতেও কাজ করে সংগঠনটি।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
বিশ্ব গণতন্ত্রে যুব দিবসের মূল বার্তা হলো—গণতন্ত্রকে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে তরুণদের মতামত, অধিকার ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের যুক্ত করা এখনই জরুরি।
সূত্র: কমিউনিটি অফ ডেমোক্রেসি , ইন্টারন্যাশনাল ডেইজ , উইকিপিডিয়া
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন