বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৩৬ পি.এম
শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, জলবায়ু সহনশীলতা, যুব উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে ইউনেস্কোর অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশের ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে শামা ওবায়েদ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি এবং ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ-ইউনেস্কো অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও যুব ক্ষমতায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি), ভাষা প্রশিক্ষণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানান। তিনি ইউনেস্কোর মহাপরিচালককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান সুবিধাজনক সময়ে।
জবাবে ড. সুসান ভাইজ বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের জন্য ইউনেস্কোর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব সম্পৃক্ততা এবং টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদারকরণের এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একসময় মোবারক হোসেন ইমন হাতে ক্রিকেট বল নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর। চট্টগ্রামের ক্রিকেটাঙ্গনে তিনি ছিলেন সম্ভাবনাময় বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে পরিচিত। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ক্রিকেটারই চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ হয়ে ওঠেন। খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা এই ব্যক্তিকে অবশেষে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কোতোয়ালি মডেল থানা এবং যশোর জেলা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত ঐ অভিযানে দীর্ঘদিন নজরদারির পর তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। এলাকার মাঠে খেলা শুরু করে, ২০১৯ সালের দিকে তিনি চট্টগ্রামের ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমিতে যোগ দেন এবং নিয়মিত অনুশীলন করতেন বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও কাজীর দেউড়ি এলাকার মাঠে। বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে তিনি দ্রুত পরিচিতি পান এবং ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের বোলিং অনুসরণ করতেন। ক্রিকেট নিয়েই ছিল তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমির কোচ আমিনুল হক বলেন, ইমন ছিল খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে। সে নিয়মিত অনুশীলন করত। তবে করোনার পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। পরে গণমাধ্যমে ‘ডেভিড ইমন’ নামটি শুনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর ইমন অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। ওই সময় থেকেই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’এর গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সাহসী ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্যে পরিণত হন। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, চান্দগাঁওসহ চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে এই গ্রুপের কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ ছিলেন এবং তাদের দাবি, ডেভিড ইমনের ১৫ থেকে ২০টি অস্ত্র বহনের ছবিও সংগ্রহে রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, বড় সাজ্জাদের সহযোগী ছোট সাজ্জাদ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন কারাগারে যাওয়ার পর ডেভিড ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান আলম মাঠপর্যায়ে গ্রুপটির কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামে আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো ডেভিড ইমনের নাম আসে। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ নগরের চন্দনপুরা এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার সঙ্গেও তিনি আলোচনায় আসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমন এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অপরাধচক্রের আরও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নতুন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যা বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন ও পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত করেছে। এই পরিকল্পনাটি ফুটবলবিশ্বে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও এই পরিকল্পনাকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপ একটি বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, বরং এটি এমন কিছু, যা কয়েকজন নির্বাহীর মালিকানায় থাকতে পারে না।
বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ফিফার অষ্টম সভাপতি ব্ল্যাটার বলেন, 'ফুটবল কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়। এটি মানুষের।'
তিনি আরও বলেন, 'যদি ফিফাকে মুনাফাকেন্দ্রিক করপোরেট কাঠামোয় রূপান্তর করা হয়, তবে সংস্থাটি তার আত্মা হারাবে।' ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ব্ল্যাটার।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ফিফা ঘোষণা করে, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্ট পরিচালনার জন্য তারা একটি নতুন সাবসিডিয়ারি গঠন করবে এবং এর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করবে। এই পরিকল্পনাটি ইউরোপীয় ফুটবল মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উয়েফা অভিযোগ করেছে, ফিফা কার্যত বিশ্ব ফুটবলকে বিক্রির জন্য তুলে দিচ্ছে।
ব্ল্যাটারের মতে, বিশ্বকাপকে কখনোই এমন একটি বিনিয়োগপণ্যে পরিণত করা উচিত নয়, যেখানে প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র লাভের আশায় বিনিয়োগ করবে।
তিনি বলেন, 'ফিফা বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, যা কয়েকজন নির্বাহীর মালিকানাধীন। এটি বিশ্ব ফুটবলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'ফিফা বিশ্বকাপের মালিক নয়, বরং এর অভিভাবক।'
ব্ল্যাটার জানান, এই পরিকল্পনার কথা শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন এবং নিজের সভাপতিত্বকালে এমন কিছু করার কথা কখনো ভাবেননি। তার মতে, যেসব বিনিয়োগকারী প্রভাব বিস্তার ও মুনাফার লক্ষ্য নিয়ে আসে, তাদের স্বার্থ সদস্যভিত্তিক ক্রীড়া সংগঠনগুলোর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ব্ল্যাটারের ভাষায়, 'আধুনিক ফুটবল এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে, কারণ এটি মানুষের খেলা।'
তিনি বলেন, 'এই মূলনীতির কখনোই পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়।'
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের মারধরে একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছে এমন খবর পাওয়া গেছে। এই সময় ডাকাত দল নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সুধারাম মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সায়মা সুলতানা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত প্রায় সোয়া ৩টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামের তাজু মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে সোয়া ৩টার দিকে একদল ডাকাত বাড়ির প্রধান গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে সোনাপুরের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন ফরহাদের ঘরের দরজা কোরাবাড়ি দিয়ে খুলে সেখানে ঢুকে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মারধর করে, হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ঘরে থাকা নগদ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং আড়াই থেকে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসআই সায়মা সুলতানা আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এখানে পরকীয়ার জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীর স্পর্শকাতর অঙ্গ কেটে দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর ৬টায়, উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় ভয়াবহ ঘটনার সম্মুখীন হয়। এর ফলে আহত রাসেলের স্ত্রী, যিনি মনির নামেই পরিচিত, ওই ঘটনার তদন্তে পুলিশ হেফাজতে নেয়। রাসেলের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, সোনাপাহাড় এলাকায় বাস করা পিকআপ চালক মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী মনির মধ্যে পরকীয়া সংক্রান্ত কারণে পারিবারিক কলহ চলছিল। বুধবার রাতে, স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই একসঙ্গে ঘুমাতে যান। এক সময়ে, যখন রাসেল গভীর ঘুমে ছিল, তখন তার স্ত্রী মনির কৌশলে তার হাত-পা বেঁধে দেয়। এরপর, দা দিয়ে তার পা ও বিশেষ অঙ্গে এলোপাতাড়ি কোপ দেয়, যার ফলে গুরুতর ধরনের জখম হয়। আহত রাসেলকে প্রথমে স্থানীয় মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, "পরকীয়ার জের ধরে পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী স্বামীকে বিশেষ অঙ্গ এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে জখম করেছে।" তিনি আরও জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং অভিযুক্ত মনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ