০৮:৩৩ পি.এম
গাজায় দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং একের পর এক সংঘাতের প্রভাবে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগে একের পর এক আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সেনা বহরের অন্তত ১৬ জন সদস্য নিজেদের জীবন শেষ করে দিয়েছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেৎস’-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, চলতি বছর আত্মহত্যা করা ১৬ জনের মধ্যে সম্প্রতি মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুজন নারী সেনা নিজেদের জীবন শেষ করে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নিহতদের মধ্যে একজন মিসর সীমান্তের কাছে ‘বারদেলাস ব্যাটালিয়নে’ কর্মরত ছিলেন। অন্যজন তেল আবিবের কাছে অবস্থিত ‘গ্লিলট’ ঘাঁটির সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন।
হারেৎসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ওই সেনাসদস্য তীব্র মানসিক অবসাদের কারণে আগেই সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি অথবা দায়িত্বের চাপ কমানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সামরিক কর্তৃপক্ষ তার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
এই দুটি আত্মহত্যার ঘটনার পর পৃথক তদন্ত শুরু করেছে ইসরায়েলের মিলিটারি পুলিশ।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সৈন্যদের আত্মহত্যার এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে গাজায় চালানো দীর্ঘ সামরিক অভিযান, লেবাননের যুদ্ধক্ষেত্র এবং পশ্চিম তীরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতিজনিত মনস্তাত্ত্বিক চাপ বড় ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এর আগে ২০২৫ সালেও কর্মরত সেনাদের মধ্যে অন্তত ২২টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, যা ছিল বিগত ১৫ বছরের মধ্যে দেশটির সেনাবাহিনীতে সর্বোচ্চ।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা এবং যুদ্ধের নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করার ফলে সেনাসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যে চরম ধস নামছে, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যা বা মারাত্মক মানসিক ব্যাধিতে রূপ নিচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন