ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লাল প্রোফাইল ঘিরে উত্তাল ছাত্র-জনতা, নড়বড়ে হয়ে পড়ে শেখ হাসিনার মসনদ


লাল প্রোফাইল ঘিরে উত্তাল ছাত্র-জনতা, নড়বড়ে হয়ে পড়ে শেখ হাসিনার মসনদ

২০২৪ সালের এইদিনে রক্তাক্ত রাজপথের প্রতি সহানুভূতি এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের প্রোফাইল লাল রং-এ রঞ্জিত করেন। কোটি কোটি ব্যবহারকারীর এই প্রতিবাদ, শাসকের মসনদকে নাড়িয়ে দেয়। এর আগে, নিহতদের স্মরণে সরকার ৩০ জুলাই রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, শোকের সেই কালো রং এর বিরপীতে মুখ ও চোখে লাল কাপড় বাঁধা ছবি দিয়ে আন্দোলনকারীরা অনলাইনে একটি প্রচার কর্মসূচি পালন করেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, কালোর বিরুদ্ধে লালের এমন আইডিয়া এসেছিলো তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকে। জুলাইয়ের এই রক্তিম দিনটি কেমন ছিল? ৩০ জুলাই, ২০২৪। ইতোমধ্যেই নিহত হয়েছেন শত শত মানুষ। আহতের সংখ্যা অজানা ও অজস্র। এর সকল দায় সরকারের এবং তার পেটোয়া বাহিনীর ওপর বর্তায়। এমন এক সময়ে সরকারের তরফ থেকে রাষ্ট্রীয় শোকের ঘোষণা আসে। এদেশের আপামর জনতা ঘৃণাভরে সে ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন। এদিন কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল রাঙিয়ে তোলে বিপ্লবের লাল রঙে। হত্যার বিচার চেয়ে মুখে লাল কাপড় বেঁধে বেরিয়ে আসে জনতা। শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবকদের পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিকরাও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এদিন জনসম্মুখে হতাহতের জন্য সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেন তারা। রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্ভূত এ কর্মসূচিটি প্রথমদিকে সবাই ইতিবাচকভাবে নেয়নি। কিন্তু কিছুদিন পরেই মজলুমের পক্ষে যারা শামিল হচ্ছেন, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, প্রথমে আমরা প্রোফাইল লাল করার কর্মসূচিটি সাংবাদিক ও ফেসবুক গ্রুপে দিয়েছিলাম। তখন দেখা যায়, মানুষ কটূ ভাষায় বক্তব্য রাখছিল। তারা বলছিল, আমরা নাকি আন্দোলনটাকে নিচে নামিয়ে আনছি এবং অফলাইন থেকে অনলাইনে চলে আসছি। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য ছিল জনমত যাচাই করা। যারা হাসিনার নিপীড়নের পক্ষে তারা প্রোফাইল কালো করেছে এবং যারা ছাত্রদের পক্ষে তারা লাল করেছে। এতে একটা বাইনারি তৈরি হয়েছিল, সুতরাং সবাই বুঝতে পারেন কারা কারা কার পক্ষে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের শোকের কালো রঙের পরিবর্তে লাল রং ধারণ করে অনুষ্ঠানের নির্দেশনা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এসেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান আমাকে ফোন করে বলেন, যেহেতু তারা (তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার) কালো রঙে করছে, তাই লাল রঙ দিয়ে কোনও কর্মসূচি করা যায় কি না। সেটাই আমি ছাত্রদের বলেছি। তারা সকলেই সেটি গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, লাল কাপড় যদি নাও পাওয়া যায়, তবে ফেসবুকে আমরা লাল রঙ পোস্ট করবো। সেটি থেকেই প্রোফাইল লাল করা শুরু হয়। এছাড়াও কারফিউ তুলে নেওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের পদত্যাগের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি, আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত কমিশন করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের করার ১১ দফা দাবি জানানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিবাদ বিরোধী শিক্ষকদের ফোরাম-সাদা দলের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের সহিংস পরিস্থিতি এবং গণগ্রেফতার নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়া ৬ সমন্বয়ককে কোন আইনে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রশ্ন তোলে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এতো সহিংসতায় আদালত লজ্জিত বলেও জানায়। এতকিছুর মাঝে সরকার জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সরকারের তিন মন্ত্রীই জানিয়েছেন, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি একদিনের মধ্যেই নিষিদ্ধ হবে। এদিকে পরদিন ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তারা জানায়, ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস এবং রাজপথে পালিত হবে এ কর্মসূচি। ২৪ জুলাই কিছু মানুষ কত রকমের প্রতিবাদ করতে পারে তার দৃষ্টান্ত। একদিকে রাজপথে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাল কাপড় এবং রাঙানোর মাধ্যমে প্রতিবাদ। সেই আপসহীন প্রতিরোধেই শেখ হাসিনা সরকারের মসনদ তছনছ হয়ে যায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ইউএনইস্কোর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ পি.এম


বাংলাদেশ ইউএনইস্কোর সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায়

শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, জলবায়ু সহনশীলতা, যুব উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে ইউনেস্কোর অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশের ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে শামা ওবায়েদ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি এবং ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ-ইউনেস্কো অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও যুব ক্ষমতায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি), ভাষা প্রশিক্ষণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানান। তিনি ইউনেস্কোর মহাপরিচালককে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান সুবিধাজনক সময়ে।

জবাবে ড. সুসান ভাইজ বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের জন্য ইউনেস্কোর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব সম্পৃক্ততা এবং টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদারকরণের এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞা করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় দলের স্বপ্ন থেকে চট্টগ্রামের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ পি.এম


জাতীয় দলের স্বপ্ন থেকে চট্টগ্রামের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’

একসময় মোবারক হোসেন ইমন হাতে ক্রিকেট বল নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর। চট্টগ্রামের ক্রিকেটাঙ্গনে তিনি ছিলেন সম্ভাবনাময় বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে পরিচিত। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ক্রিকেটারই চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ হয়ে ওঠেন। খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা এই ব্যক্তিকে অবশেষে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কোতোয়ালি মডেল থানা এবং যশোর জেলা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত ঐ অভিযানে দীর্ঘদিন নজরদারির পর তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। এলাকার মাঠে খেলা শুরু করে, ২০১৯ সালের দিকে তিনি চট্টগ্রামের ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমিতে যোগ দেন এবং নিয়মিত অনুশীলন করতেন বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও কাজীর দেউড়ি এলাকার মাঠে। বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে তিনি দ্রুত পরিচিতি পান এবং ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের বোলিং অনুসরণ করতেন। ক্রিকেট নিয়েই ছিল তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমির কোচ আমিনুল হক বলেন, ইমন ছিল খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে। সে নিয়মিত অনুশীলন করত। তবে করোনার পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। পরে গণমাধ্যমে ‘ডেভিড ইমন’ নামটি শুনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর ইমন অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। ওই সময় থেকেই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’এর গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সাহসী ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্যে পরিণত হন। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, চান্দগাঁওসহ চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে এই গ্রুপের কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ ছিলেন এবং তাদের দাবি, ডেভিড ইমনের ১৫ থেকে ২০টি অস্ত্র বহনের ছবিও সংগ্রহে রয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, বড় সাজ্জাদের সহযোগী ছোট সাজ্জাদ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন কারাগারে যাওয়ার পর ডেভিড ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান আলম মাঠপর্যায়ে গ্রুপটির কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামে আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো ডেভিড ইমনের নাম আসে। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ নগরের চন্দনপুরা এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার সঙ্গেও তিনি আলোচনায় আসেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমন এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অপরাধচক্রের আরও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্ল্যাটার–ফিফা বিশ্বকাপের মালিক নয়, অভিভাবক: ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


ব্ল্যাটার–ফিফা বিশ্বকাপের মালিক নয়, অভিভাবক: ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার সমালোচনা

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নতুন একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, যা বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন ও পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত করেছে। এই পরিকল্পনাটি ফুটবলবিশ্বে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও এই পরিকল্পনাকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপ একটি বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, বরং এটি এমন কিছু, যা কয়েকজন নির্বাহীর মালিকানায় থাকতে পারে না।

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ফিফার অষ্টম সভাপতি ব্ল্যাটার বলেন, 'ফুটবল কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়। এটি মানুষের।'

তিনি আরও বলেন, 'যদি ফিফাকে মুনাফাকেন্দ্রিক করপোরেট কাঠামোয় রূপান্তর করা হয়, তবে সংস্থাটি তার আত্মা হারাবে।' ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর ফিফার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ব্ল্যাটার।

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ফিফা ঘোষণা করে, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্ট পরিচালনার জন্য তারা একটি নতুন সাবসিডিয়ারি গঠন করবে এবং এর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করবে। এই পরিকল্পনাটি ইউরোপীয় ফুটবল মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উয়েফা অভিযোগ করেছে, ফিফা কার্যত বিশ্ব ফুটবলকে বিক্রির জন্য তুলে দিচ্ছে।

ব্ল্যাটারের মতে, বিশ্বকাপকে কখনোই এমন একটি বিনিয়োগপণ্যে পরিণত করা উচিত নয়, যেখানে প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র লাভের আশায় বিনিয়োগ করবে।

তিনি বলেন, 'ফিফা বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, যা কয়েকজন নির্বাহীর মালিকানাধীন। এটি বিশ্ব ফুটবলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'ফিফা বিশ্বকাপের মালিক নয়, বরং এর অভিভাবক।'

ব্ল্যাটার জানান, এই পরিকল্পনার কথা শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন এবং নিজের সভাপতিত্বকালে এমন কিছু করার কথা কখনো ভাবেননি। তার মতে, যেসব বিনিয়োগকারী প্রভাব বিস্তার ও মুনাফার লক্ষ্য নিয়ে আসে, তাদের স্বার্থ সদস্যভিত্তিক ক্রীড়া সংগঠনগুলোর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ব্ল্যাটারের ভাষায়, 'আধুনিক ফুটবল এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে, কারণ এটি মানুষের খেলা।'

তিনি বলেন, 'এই মূলনীতির কখনোই পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীর ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি, আ হ ত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪২ পি.এম


নোয়াখালীর ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি, আ হ ত ৫

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের মারধরে একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছে এমন খবর পাওয়া গেছে। এই সময় ডাকাত দল নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সুধারাম মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সায়মা সুলতানা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত প্রায় সোয়া ৩টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামের তাজু মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে সোয়া ৩টার দিকে একদল ডাকাত বাড়ির প্রধান গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে সোনাপুরের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন ফরহাদের ঘরের দরজা কোরাবাড়ি দিয়ে খুলে সেখানে ঢুকে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মারধর করে, হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে ঘরে থাকা নগদ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং আড়াই থেকে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এসআই সায়মা সুলতানা আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%