০২:০৪ পি.এম
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্পর্কিত বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য কোনো বিষয়ে আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, তিনি সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যদি কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তাদের সেই স্বাধীনতা রয়েছে এবং তারা বক্তব্য দিতে পারেন। তবে, মন্ত্রী মনে করেন, তিনি এমন কিছু প্রত্যাশা করেন না যা আমলে নেওয়ার মতো।
রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননার অনুষ্ঠান চলাকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুসারে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, সেগুলো তিনি পাবেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা আছে। যদি তিনি পদত্যাগ করতে চান, তাও সংবিধানে বিধান রয়েছে। স্পিকার সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এগুলো সব আইনি প্রক্রিয়া।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের সেই অধিকার রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার জন্য স্বাধীনতা থাকতে হবে। প্রতিবাদ করার জন্যও স্বাধীনতা থাকা দরকার।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এনসিপি ও অন্যান্যরা সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছে। তারা অভিযোগ করতে পারেন, কিন্তু আমরা সেখানে কিছু গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়ার মতো বক্তব্য দেখতে পাচ্ছি না।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় স্বৈরাচারের শেষাংশ, অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়কাল এবং বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের সময়ে তিনি বিধিবিধান ও সংবিধান অনুসারে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছি। তিনি সংবিধান অনুসারে প্রিভিলেজড, এবং তার ইমিউনিটি রয়েছে। ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব নয়। কেউ যদি বক্তব্য দিয়ে থাকেন, সেই স্বাধীনতা তাদের রয়েছে, তবে তিনি মনে করেন, এর মতো কিছু আমলে নেওয়ার মতো হওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাহাবুদ্দিন ফোনে আলাপ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা আমরা পত্রিকায় দেখেছি। কোনো পত্রিকায় এমন সংবাদ প্রকাশিত হলে, সেই পত্রিকার কাছে কী তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, সেটি জিজ্ঞাসা করতে হবে। আমাদের কাছে সেই অর্থে কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডন যাওয়া কি আবশ্যক? ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন গিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন নেই। কথোপকথন করতে চাইলে এখান থেকেই কথোপকথন করা সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই সময় যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকত, সেটি সেই সময়ের বিষয়। সেটি আইন অনুযায়ী চলবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন