সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১১ পি.এম
এ মাসে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে এই ভোটটি কোনো জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং দেশের ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ বা বর্ষসেরা পাখি নির্বাচনের জন্য। এবারের প্রতিযোগিতায় ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির ব্ল্যাক রবিন পাখি। এই তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি।
ছোট আকারের এই স্থানীয় পাখিটির আবাস নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দূরে অবস্থিত দুর্গম চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জে।
১৯৮০ সালে পৃথিবীতে ব্ল্যাক রবিনের সংখ্যা মাত্র পাঁচটিতে নেমে এসেছিল। তাদের মধ্যে প্রজননক্ষম স্ত্রী পাখি ছিল মাত্র একটি। বর্তমানে এ পাখির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৫০টিতে দাঁড়িয়েছে।
এবারের প্রতিযোগিতায় কালো রবিন পাখিটি শীর্ষস্থান দখল করেছে। এর পরবর্তী স্থানে রয়েছে বিখ্যাত উড়তে না-পারা তোতাপাখি কাকাপো। তৃতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় শিকারি পাখি ক্যারিয়ারিয়া ফ্যালকন।
প্রতি বছর ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে স্বাধীন সংরক্ষণবাদী সংগঠন ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড। গত এক দশকে এই প্রতিযোগিতা বেশ কয়েকবার বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
২০১৯ সালে প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। সে সময় রাশিয়াভিত্তিক আইপি ঠিকানা থেকে শত শত ভোট জমা পড়েছিল। তবে ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড জানায়, বেশিরভাগ ভোটই বৈধ ছিল এবং এসব ভোটের কারণে বিজয়ী হইহো বা ইয়েলো-আইড পেঙ্গুইনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি।
২০২৩ সালে ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয় পুটেকেটেকে। জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও ‘লাস্ট উইক টুনাইট’-এর উপস্থাপক জন অলিভার প্রকাশ্যে পুটেকেটেকের পক্ষে প্রচারণা চালান এবং তার দর্শকদের এই হ্রদে বসবাসকারী পাখিটির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ডের রেবেকা হ্যাচ জানিয়েছেন, এ বছর ভোটারের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। তবে এর পেছনে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছিল না।
হ্যাচ বলেন, এ বছর রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে। ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ তাদের পছন্দের পাখিকে ভোট দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের মানুষ প্রকৃতির প্রতি তাদের সমর্থন দেখিয়েছেন। দেশটির প্রায় প্রতি ৫০ জন মানুষের একজন ভোট দিয়েছেন। ব্ল্যাক রবিন পেয়েছে ২৬ হাজারের বেশি ভোট।
ব্ল্যাক রবিনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে চ্যাথাম আইল্যান্ডস ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন ট্রাস্ট। পাখিটির আবাসস্থল বাড়ানো ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে তারা একটি তৃতীয় আবাসস্থল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব চিরকাল অবিচল থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত আদান-প্রদানের মাধ্যমেই দুই দেশের এই ঐতিহাসিক সংযোগকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব।"
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড চায়না-বাংলাদেশ রাউন্ডটেবল অন গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই কথা বলেন।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সুনীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে।
শিক্ষামন্ত্রী ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশই কর্মক্ষম তরুণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কারিগরি শিক্ষায় (টিভিইটি) দক্ষ করে আন্তর্জাতিকমানের মানবসম্পদে রূপান্তর করাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
সম্প্রতি চীন সফরকালে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়ার গভীর সম্পর্ক দেখে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার দেশের কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানের করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি চীনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ সময় আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বাজেট জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার বড় অংশ ব্যয় হবে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে।
এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্পদকে কাজে লাগাতে একটি বিশেষায়িত ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা সুনীল অর্থনীতিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওপেং ও সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. লি কাইশেং বক্তব্য রাখেন।
সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর বদলগাছীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটক করে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পুরোনো ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় এবং থানায় পাঠানো হয়। একই রাতে পুলিশের একটি পৃথক অভিযানে উপজেলা যুবলীগের এক নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আটককৃত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন— উপজেলার হঠাৎপাড়া এলাকার এমরান হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (২১) এবং সদর ইউনিয়নের জিধিরপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরিফ হোসেন (২৩)। উভয়েই উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে বদলগাছী থানার অদূরে ছোট যমুনা নদীর নতুন ব্রিজ এলাকায় ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য মশাল মিছিল বের করেন। পরবর্তীতে সেই মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুরোনো ব্রিজ এলাকায় ইমরান ও আরিফকে দেখতে পেয়ে ছাত্রদলের কর্মীরা তাদের আটক করেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ঘটনার বিষয়ে মথুরাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. মুনসুর আলী জানান, আটক ব্যক্তিরা বেশ কিছু দিন ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থনে মশাল মিছিলসহ নানা তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি তাদের মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং তারা এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিসহ অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে আটকের সময় মারধরের বিষয়ে ছাত্রদল নেতারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ইমরান ও আরিফ নামে দুই যুবককে থানায় সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, একই রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম সাজুকে আটক করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজু হত্যা মামলায় আদালত দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, এবং জরিমানার অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাট অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক হাসিবুল হক এই রায় প্রদান করেন।
দণ্ডিতদের মধ্যে একজন হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার খনজনপুর এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বী হোসেন এবং অপরজন আনিছুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজু জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তার ছোট মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্বামী সিলেটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন, ফলে সাজেদা একাই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। স্থানীয় একটি স্কুলের কম্পিউটার অপারেটর আবু সাঈদের সঙ্গে সাজেদার পরিচয় ঘটে। ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, যখন তার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যায়, আসামিরা গৃহবধূর বাড়িতে এসে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। সাজেদা বাধা দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার মুখে কস্টেপ লাগিয়ে, হাত বেঁধে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে, পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরে মেয়েটি মেঝেতে তার মায়ের মরদেহ দেখতে পায়। পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এই ঘটনায় নিহতের স্বামী হাফিজুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর বিজ্ঞ আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।
জয়পুরহাট জজ আদালতের সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং তিনি এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাউফলে 'মরিচ মিজানকে' ঘিরে চাঞ্চল্যকর ইয়াবা কারবারের অভিযোগ:
মোটরসাইকেল নেটওয়ার্ক, পাচারের গোপন রুট ও জনমনে নানা প্রশ্ন
পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় মো. মিজানুর রহমান ওরফে ‘মরিচ মিজান’ নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ঘিরে উঠে এসেছে মাদক কারবার ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে ইয়াবা পাচারের নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মোটরসাইকেলে যাতায়াতের আড়ালে তিনি বাউফল উপজেলাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ইয়াবার একটি বিস্তৃত সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলেও জোর গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের আইনগত সত্যতা এবং মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও পটুয়াখালী জেলা আদালতের অফিসিয়াল নথি যাচাইয়ের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কীভাবে চলে ইয়াবা ব্যবসা: অভিযোগ ও গোপন নেটওয়ার্ক:
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমান বাউফল উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবার নাম সোবাহান চৌকিদার এবং মায়ের নাম বকুলি বেগম। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘মরিচ মিজান’ নামে অধিক পরিচিত। স্থানীয় সূত্র ও অধিবাসীদের দাবি অনুযায়ী, মিজানুর রহমানের ইয়াবা পাচার ও বিপণন কৌশল অত্যন্ত সুচতুর। নিচে তার কথিত অপরাধ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো:
মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক মুভমেন্ট: দ্রুতগতির একাধিক মোটরসাইকেল ব্যবহার করে তিনি সার্বক্ষণিক বাউফল উপজেলা সদর, বাণিজ্যিক এলাকা এবং দূরবর্তী গ্রামগুলোতে ঘুরে বেড়ান। অভিযোগ রয়েছে, এই বাহন ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্রুত স্থান পরিবর্তন করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বা নজরদারি এড়িয়ে ইয়াবার চালান নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া।
গোপন চেইন ও ক্যারিয়ার নিয়োগ: তিনি সরাসরি খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রি না করে বেশ কয়েকজন স্থানীয় 'ক্যারিয়ার' বা খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ইয়াবার চালান তিনি মোটরসাইকেলের গোপন স্থান (যেমন: সিটের নিচে বা ফুয়েল ট্যাংকের ভেতরে) বা নিজের পোশাকে লুকিয়ে নির্দিষ্ট স্পটে নিয়ে যান এবং তা সাব-এজেন্টদের হাতে হস্তান্তর করেন।
তরুণদের টার্গেট: এলাকায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, উঠতি বয়সী বেকার তরুণ এবং মোটরসাইকেল চালকদের বড় অংশকে ইয়াবার কাস্টমার হিসেবে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে করে এলাকার তরুণ সমাজ মাদকের নীল দংশনে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র মোটরসাইকেলে চলাচল বা কারও মৌখিক অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আইনগতভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। মাদক আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণের জন্য সুনির্দিষ্ট আলামত (উদ্ধারকৃত ইয়াবা), নিরপেক্ষ সাক্ষী, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতের রায় আবশ্যক।
একাধিক মামলার দাবি ও আইনি তদন্তের আবশ্যকতা: বাউফলের স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ধারায় একাধিক মামলা হয়েছে। কোনো কোনো মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতেও ছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব দাবির বিপরীতে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো মামলার নম্বর, দায়েরের তারিখ, সংশ্লিষ্ট থানার নাম কিংবা কোন ধারায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে-সেসব তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। আইনি নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা ঝুলন্ত থাকলেও যতক্ষণ না আদালতে তা প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে নিরপরাধ বলেই গণ্য করা হয়। তাই প্রকৃত সত্য উন্মোচনে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের স্পেশাল ব্রাঞ্চের নথি পর্যালোচনার জোরালো দাবি উঠেছে।
মাদকের বিস্তার ও এলাকা জুড়ে তীব্র অসন্তোষ: পটুয়াখালীর উপকূলাঞ্চলীয় বাউফল উপজেলায় বিগত কয়েক বছরে মাদকের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইয়াবার সহজলভ্যতার কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান এবং পারিবারিক অশান্তির মতো সামাজিক ব্যাধি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি:
উৎস ও রুট বন্ধ করা: যেসব পয়েন্ট ও রুট দিয়ে বাউফলে ইয়াবার চালান প্রবেশ করে, সেগুলো শনাক্ত করে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। গডফাদার ও ক্যারিয়ারদের গ্রেপ্তার: কেবল খুচরা সেবীদের গ্রেপ্তার না করে মাদক সরবরাহের মূল হোতা, বহনকারী (ক্যারিয়ার) ও তাদের নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
নিরীহদের সুরক্ষা: অভিযান বা তদন্তের নামে যেন কোনো সাধারণ বা নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে প্রশাসনকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
পুলিশ প্রশাসন ও অভিযুক্তের বক্তব্য:
উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে বাউফল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পটুয়াখালী জেলার উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত জরুরি। মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বর্তমান কোনো অভিযোগ বা তদন্ত চলমান আছে কি না, কিংবা তার অতীত মামলাগুলোর হালনাগাদ অবস্থান কী-পুলিশের পক্ষ থেকে এসবের তথ্য মেলা প্রয়োজন। একইসঙ্গে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করে অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানা আবশ্যক। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সত্য নাকি এটি স্থানীয় কোনো শত্রুতামূলক ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক চক্রান্ত-তা তার নিজস্ব বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সকল তথ্য স্থানীয় অধিবাসীদের মৌখিক দাবি ও জনশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে সংকলিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ