প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাউফলে 'মরিচ মিজানকে' ঘিরে চাঞ্চল্যকর ইয়াবা কারবারের অভিযোগ:
মোটরসাইকেল নেটওয়ার্ক, পাচারের গোপন রুট ও জনমনে নানা প্রশ্ন
পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় মো. মিজানুর রহমান ওরফে ‘মরিচ মিজান’ নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ঘিরে উঠে এসেছে মাদক কারবার ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে ইয়াবা পাচারের নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মোটরসাইকেলে যাতায়াতের আড়ালে তিনি বাউফল উপজেলাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ইয়াবার একটি বিস্তৃত সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলেও জোর গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের আইনগত সত্যতা এবং মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও পটুয়াখালী জেলা আদালতের অফিসিয়াল নথি যাচাইয়ের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
কীভাবে চলে ইয়াবা ব্যবসা: অভিযোগ ও গোপন নেটওয়ার্ক:
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমান বাউফল উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবার নাম সোবাহান চৌকিদার এবং মায়ের নাম বকুলি বেগম। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘মরিচ মিজান’ নামে অধিক পরিচিত। স্থানীয় সূত্র ও অধিবাসীদের দাবি অনুযায়ী, মিজানুর রহমানের ইয়াবা পাচার ও বিপণন কৌশল অত্যন্ত সুচতুর। নিচে তার কথিত অপরাধ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো:
মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক মুভমেন্ট: দ্রুতগতির একাধিক মোটরসাইকেল ব্যবহার করে তিনি সার্বক্ষণিক বাউফল উপজেলা সদর, বাণিজ্যিক এলাকা এবং দূরবর্তী গ্রামগুলোতে ঘুরে বেড়ান। অভিযোগ রয়েছে, এই বাহন ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো দ্রুত স্থান পরিবর্তন করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বা নজরদারি এড়িয়ে ইয়াবার চালান নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া।
গোপন চেইন ও ক্যারিয়ার নিয়োগ: তিনি সরাসরি খুচরা পর্যায়ে মাদক বিক্রি না করে বেশ কয়েকজন স্থানীয় 'ক্যারিয়ার' বা খুচরা বিক্রেতা নিয়োগ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ইয়াবার চালান তিনি মোটরসাইকেলের গোপন স্থান (যেমন: সিটের নিচে বা ফুয়েল ট্যাংকের ভেতরে) বা নিজের পোশাকে লুকিয়ে নির্দিষ্ট স্পটে নিয়ে যান এবং তা সাব-এজেন্টদের হাতে হস্তান্তর করেন।
তরুণদের টার্গেট: এলাকায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, উঠতি বয়সী বেকার তরুণ এবং মোটরসাইকেল চালকদের বড় অংশকে ইয়াবার কাস্টমার হিসেবে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে করে এলাকার তরুণ সমাজ মাদকের নীল দংশনে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র মোটরসাইকেলে চলাচল বা কারও মৌখিক অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আইনগতভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। মাদক আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণের জন্য সুনির্দিষ্ট আলামত (উদ্ধারকৃত ইয়াবা), নিরপেক্ষ সাক্ষী, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতের রায় আবশ্যক।
একাধিক মামলার দাবি ও আইনি তদন্তের আবশ্যকতা: বাউফলের স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ধারায় একাধিক মামলা হয়েছে। কোনো কোনো মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতেও ছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব দাবির বিপরীতে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো মামলার নম্বর, দায়েরের তারিখ, সংশ্লিষ্ট থানার নাম কিংবা কোন ধারায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে-সেসব তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। আইনি নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা ঝুলন্ত থাকলেও যতক্ষণ না আদালতে তা প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে নিরপরাধ বলেই গণ্য করা হয়। তাই প্রকৃত সত্য উন্মোচনে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের স্পেশাল ব্রাঞ্চের নথি পর্যালোচনার জোরালো দাবি উঠেছে।
মাদকের বিস্তার ও এলাকা জুড়ে তীব্র অসন্তোষ: পটুয়াখালীর উপকূলাঞ্চলীয় বাউফল উপজেলায় বিগত কয়েক বছরে মাদকের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইয়াবার সহজলভ্যতার কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান এবং পারিবারিক অশান্তির মতো সামাজিক ব্যাধি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি:
উৎস ও রুট বন্ধ করা: যেসব পয়েন্ট ও রুট দিয়ে বাউফলে ইয়াবার চালান প্রবেশ করে, সেগুলো শনাক্ত করে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। গডফাদার ও ক্যারিয়ারদের গ্রেপ্তার: কেবল খুচরা সেবীদের গ্রেপ্তার না করে মাদক সরবরাহের মূল হোতা, বহনকারী (ক্যারিয়ার) ও তাদের নেপথ্যের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
নিরীহদের সুরক্ষা: অভিযান বা তদন্তের নামে যেন কোনো সাধারণ বা নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে প্রশাসনকে কঠোর নজর রাখতে হবে।
পুলিশ প্রশাসন ও অভিযুক্তের বক্তব্য:
উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে বাউফল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পটুয়াখালী জেলার উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ও তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত জরুরি। মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বর্তমান কোনো অভিযোগ বা তদন্ত চলমান আছে কি না, কিংবা তার অতীত মামলাগুলোর হালনাগাদ অবস্থান কী-পুলিশের পক্ষ থেকে এসবের তথ্য মেলা প্রয়োজন। একইসঙ্গে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করে অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানা আবশ্যক। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সত্য নাকি এটি স্থানীয় কোনো শত্রুতামূলক ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক চক্রান্ত-তা তার নিজস্ব বক্তব্যের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সকল তথ্য স্থানীয় অধিবাসীদের মৌখিক দাবি ও জনশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে সংকলিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন