ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সঠিক নেতৃত্ব ও জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব: অর্থমন্ত্রী


সঠিক নেতৃত্ব ও জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য রাখেন। ছবি: ভিডিও স্ক্রিনশট

সংসদ ভবন, ২৯ জুন, ২০২৬ : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কার্যকর নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনপ্রশাসন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে।

তিনি বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির পথে উন্নীত হচ্ছে, যেখানে বেসরকারি উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান হবে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি ও ভঙ্গুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে, তবে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

অর্থমন্ত্রী জানান, 'আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন, সঠিক নেতৃত্ব, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, দক্ষ প্রশাসন, এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।'

তিনি বলেন, সরকার একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে, মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে, বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বিষয়ে দীর্ঘ, প্রাণবন্ত এবং গঠনমূলক আলোচনার জন্য সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি তাদের মতামত এবং সুপারিশগুলো জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এগুলো বাজেটকে আরো শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকেও স্বাগত জানান এবং বলেন, সরকার এসব মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট কেবল একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি রূপরেখা।

তিনি জানান, সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল '৩আর'—রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন—এই কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা, দুর্নীতি, অর্থপাচার, বিনিময় হার নিয়ে কারসাজি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সরকার একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

তবে কৃষি, শিল্প, সেবা, রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা, সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, সরকার সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প সম্প্রসারণ, সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোত্তম অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার করের হার বাড়াবে না; বরং করের আওতা সম্প্রসারণ করবে।

তিনি জানান, করনীতি ও কর প্রশাসনকে পৃথক করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়েও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

বিদ্যালয় ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জোর দিতে তিনি বলেন, সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রস্তাবিত একক হারের ভ্যাট ব্যবস্থার বাইরে ঐতিহ্যবাহী বাজার ও ছোট মুদি দোকানগুলোকে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদায় ৪ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।

তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বাজেট ব্যয়ের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় কমে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে, যা বর্তমানে ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের কারণে পূর্ববর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি নিম্ন পর্যায় থেকে মধ্যম পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, সরকারকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এই ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।

ঋণনির্ভরতা কমাতে আগামী অর্থবছরে ব্যাংকঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর পরিকল্পনা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি এবং বন্ড, সম্পদ সিকিউরিটাইজেশন ও ইকুইটি ফাইন্যান্সিং সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আলোচনা করেন।

এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশ-বিদেশে মোট ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।

এছাড়া ছয়টি বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ১৫টির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টির বেশি গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের আমানত সুরক্ষা সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি জানান, ব্যক্তিগত আমানতকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাব থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে পরিশোধ করা হবে। গুরুতর অসুস্থ রোগী, হজ সঞ্চয়কারী এবং ডিপিএস হিসাবধারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর সরকার ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের সম্পদ লুটকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, একই সঙ্গে আমানতকারীদের সঞ্চয়ও সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।’

পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে সরকার একাধিক কর প্রণোদনার প্রস্তাব দিয়েছে।

এসবের মধ্যে রয়েছে—জিরো কুপন বন্ডের আয়ে কর অব্যাহতি, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কম করহার, অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার জনসাধারণের কাছে ছাড়লে অতিরিক্ত করছাড়, লভ্যাংশের ওপর কর কমানো এবং মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের কর রেয়াতের ৫ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়া।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে আরও মানসম্মত কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে।

আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের খালি হাতে ফিরেছে—এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন শর্ত থাকায় সরকার আগের কর্মসূচি থেকে স্বেচ্ছায় সরে এসেছে। তবে দেশের স্বার্থের অনুকূল নতুন কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সরকার প্রস্তুত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং উৎপাদন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

তিনি জানান, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে ব্যবসার ব্যয় কমানো, এবং সরকারকে নিয়ন্ত্রক নয়, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), রপ্তানিমুখী শিল্প, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলএনজি আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, দ্বিতীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি নির্মাণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজেটে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান—এই ১০টি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার, বিনিয়োগের প্রতিফল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত টেকসইতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি স্বীকার করেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এসব মোকাবিলায় ফলাফলভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকল্প মূল্যায়ন জোরদার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৮ এম


যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য দেন। ছবি : পিএমও

সংসদভবন, ২৯ জুন, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যে কোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।'

আজ দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তারেক রহমান বলেন, 'বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। '

সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। 

তিনি বলেন, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।'

তিনি আরো বলেন, 'পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পানি প্রবাহ, সেচব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।'

কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।'

তিনি বলেন, 'কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি। '

যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।'

এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাঁদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

তিনি অভিযোগ করেন, 'দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।'

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।'

তিনি বলেন, 'সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।'

ছবি : পিএমও
ছবি : পিএমও

শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলবে, আপাতত হামলা বন্ধে সম্মত দুই পক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলবে, আপাতত হামলা বন্ধে সম্মত দুই পক্ষ

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬  : যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান পরস্পরের ওপর হামলা বন্ধে সম্মত হয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতেও দুই দেশ একটি পরিকল্পনা করছে।

রোববার রাতে একটি মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্যটি জানিয়েছেন।

গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনী পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। অথচ ১৭ জুন স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী উভয় পক্ষ সংঘাতের একটি সামগ্রিক অবসানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এ সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি প্রকাশ করেছে।

ওই সমঝোতা অনুযায়ী, তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে রাজি হয়েছে।

সিএনএন ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, আপাতত উভয় পক্ষ হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং মঙ্গলবার দোহায় পরবর্তী দফার আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

সর্বশেষ উত্তেজনা সৃষ্টি হয় রোববার ভোরে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে ইরানের অব্যাহত হামলার’ জবাবে তারা ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীর সাবেক এমপি আনোয়ারুল আশরাফের স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ এম


নরসিংদীর সাবেক এমপি আনোয়ারুল আশরাফের স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দ

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬: নরসিংদী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশরাফ খানের স্ত্রী আফরোজা সুলতানার আয়কর নথি জব্দের জন্য ঢাকার একটি আদালত আদেশ দিয়েছেন।

আজ দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে, ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ প্রদান করেন।

আবেদনে জানানো হয়েছে যে, আফরোজা সুলতানা ও তার স্বামী আনোয়ারুল আশরাফ খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারায় এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় দুর্নীতি দমন কমিশন গত বছরের ৯ জানুয়ারি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দায়ের করেছে। তদন্তের সময়ে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র ও তথ্যাদি পর্যালোচনা করার পর দেখা যায়, আসামি আফরোজা সুলতানা একজন আয়করদাতা।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সালের ১২ নম্বর আইন)-এর ৩০৯(৩)ক ধারায় আদালতের আদেশ প্রয়োজন, যাতে আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা যেতে পারে। উক্ত আইনের নির্দেশনা অনুযায়ী, আফরোজা সুলতানার আয়কর রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের মূলকপি জব্দ করা এবং মামলার তদন্তকালে পর্যালোচনার জন্য সত্যায়িত অনুলিপি সরবরাহ করা একান্ত প্রয়োজন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ এম


হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেছে ইরান

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পর, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

ইরান ও ওমানÑ উভয় দেশই উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার দাবি করে। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে।

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘মাসকাট সফরকালে যৌথ হরমুজ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে প্রণালী সংক্রান্ত বর্তমান বিষয়গুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতবিনিময় করেছি।’

হরমুজ প্রণালী হচ্ছে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ জলপথ। এর প্রস্থ মাত্র প্রায় ৩০ কিলোমিটার বা ১৮ মাইল।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত অবসানের আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ অন্যতম প্রধান অচলাবস্থার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইরান এখন হরমুজ প্রণালীতে ‘সার্ভিসেস ফি’ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালীতে কোনো ধরনের ফি বা টোল ছিল না।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। তাই সেখানে কোনো ধরণের ফি আরোপ করা উচিত নয়।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ বিষয়ে ওমানের অবস্থান কিছুটা অস্পষ্ট ছিল।

গত মঙ্গলবার ইরানি কর্মকর্তাদের মাসকাট সফরের পর ওমান ও ইরান যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় নিয়ে তারা পর্যালোচনা করছে।

তবে সপ্তাহের শেষ দিকে ওমান জানায়, কোনো ‘নৌপথ ব্যবহার ফি’ আরোপের কোন পরিকল্পনা তাদের নেই।

একই সঙ্গে তারা এও জানায়, জাতিসংঘের সমন্বয়ে তাদের উপকূলসংলগ্ন একটি ‘অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডর’ চালু করা হয়েছে।

এর জবাবে ইরান জানায়, তাদের উপকূলঘেঁষা করিডরই একমাত্র অনুমোদিত নৌপথ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার সতর্ক করে বলেন, বিকল্প কোনো নৌপথ ব্যবহারের চেষ্টা এ অঞ্চলে ‘উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।’

এর আগে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো ও সামুদ্রিক সেবা নির্ধারণে ইরান ওমান সালতানাতের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেবে। পারস্য উপসাগর-সংলগ্ন অন্যান্য দেশের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন ও হরমুজ প্রণালীর উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।’

সমঝোতা স্মারকে আরও বলা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর কেবল ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে টোল ছাড়া জাহাজ চলাচল করা যাবে। ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%