০৯:৩০ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এক বড় সাইবার নিরাপত্তা বিপর্যয় উঠে এসেছে। যুদ্ধ চলাকালে সরাসরি ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ককে হ্যাক করে মার্কিন সেনা এবং সামরিক ঠিকাদারদের অবস্থান ও গতিবিধি নজরদারি করেছে ইরান। লন্ডনভিত্তিক একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বুধবার (১৪ জুলাই) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটি মূলত 'মোবাইল সার্ভেইল্যান্স মনিটর' নামের একটি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পের টেলিযোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের উপরে ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করছে সংবাদমাধ্যমটি, তবে এটি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা খাতের নীতিপ্রণেতারা এখন আশঙ্কা করছেন যে আন্তর্জাতিক রোমিং ব্যবস্থা এবং স্মার্টফোনভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির ফলে মার্কিন সামরিক সদস্যরা প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে যেতে পারেন।
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে, যেকোনো স্থানে অবস্থান নেওয়ার পর স্মার্টফোনের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের মাধ্যমে তাঁদের ট্র্যাক করা খুব সহজ হয়ে উঠেছে। একটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই এ বিষয়ে সন্দিহিত ছিলেন। তাদের ধারণা, ইরান অথবা তাদের সহযোগী মিত্র গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক রোমিং চুক্তির ত্রুটিগুলি প্রতিস্থাপন করেছে। এই প্রযুক্তিগত ফাঁকফোকর ব্যবহার করে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সংশ্লিষ্ট নজরদারির পদ্ধতি শুধুমাত্র নেটওয়ার্ক হ্যাকিং পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান-সহযোগী সামরিক গোষ্ঠীগুলি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত মোবাইল বিজ্ঞাপন তথ্যের ভাণ্ডার ব্যবহার করেছে। তারা ইরাকের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কর্মরত মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোনের অবস্থান অনুসরণে এই বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে কাজ করেছে।
বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক গ্যারি মিলার এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ইরানের কাছে যেকোনো মোবাইল ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি অত্যন্ত আধুনিক এবং শক্তিশালী। মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ও সামরিক বাহিনীকে নিয়মিত অনুসরণ করা হচ্ছে, এতে সাইবার বিশেষজ্ঞদের অবাক হওয়ার কিছুই নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে শারীরিক লড়াইয়ের তুলনায় সাইবার ও ডিজিটাল নজরদারির যুদ্ধ অনেক বেশি কার্যকরী হয়ে উঠছে। একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধার মাধ্যমেই হারানো দক্ষতায় মার্কিন সেনাদের সুরক্ষিত তথ্য চলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সমরাস্ত্র নীতিতে এবং সেনা মোতায়েন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনবে। এই ঘটনার পর ওয়াশিংটনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর স্মার্টফোন ব্যবহারের নীতিমালা কঠোর করতে দাবি ওঠেছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন