০৯:৩৯ পি.এম
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় প্রকাশ্যে হামলা চালানোর ঘটনায় মামলায় আসামি হয়েছেন দুইজন সাংবাদিক নেতা। অভিযোগ উঠেছে ভাঙচুর, লুটপাট, এবং পুলিশ সদস্যদের মারধর করার। মামলার বিষয়টি নিয়ে যখন সাংবাদিক মহল থেকে বিভিন্ন স্তরে বিতর্ক শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই সামনে এসেছে মামলা বানিজ্যের অভিযোগ।
৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে ১৯ হাজার টাকা নিয়ে আসামি করা হয়েছে এক যুবলীগ নেতাকে। অপর এক যুবলীগ নেতাও একই মামলায় আসামি হয়েছেন। সাংবাদিকদের কাছে পাওয়া প্রমাণ অনুযায়ী, টাকা লেনদেনের কিছু জুড়ি প্রমাণও রয়েছে।
হামলা-ভাঙচুরের মামলার বাদি উপ-পরিদর্শক ওমর ফারুকের পরিচয় ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে, যে নম্বর থেকে টাকা দাবি করা হয়েছে এবং যেখান থেকে লেনদেন করা হয়েছে, সেই দুটি নম্বর এখন বন্ধ রয়েছে। পুলিশ বলছে, বন্ধ থাকা নম্বর দুটির মেরুজো স্থান নীলফামারি এলাকায়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সূত্র জানায়, ৯ জুলাই মাদক ও চুরি মামলায় গ্রেপ্তার এক সন্দেহভাজন আসামির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে প্রকাশ্যে মিছিল নিয়ে থানায় হামলা চালায় ফুলশ্রী গ্রামের বাসিন্দারা। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক নেতাদের আসামি করা হয়েছে, এবং মামলা করা হয়েছে মোট ৪৩ জনের নামোল্লেক। ৩শ' জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মাহমুদুল ইসলাম সাগর সেরনিয়াবাত অভিযোগ করেন, মারধরের মামলায় তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে। থানায় মামলার আবেদন করার পর ওসি স্বাক্ষর দেওয়ার আগে এক ব্যক্তির ফোন আসলে তিনি বলেন, ৪০ হাজার টাকা পুলিশ পরিদর্শকের কাছে পাঠাতে হবে।
সাগর বলেন, প্রতারণা মনে করে প্রথমে তিনি অভিযোগটি হালকা করে নিয়েছিলেন। তবে পরে ওসি তদন্ত পরিচয় দিয়ে তাকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। সাগর জানাচ্ছেন, প্রথমে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও পরে ১৯ হাজার টাকায় সমঝোতা করা হয়।
১০ জুলাই মামলা এজাহারভুক্ত হওয়ার পরও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাগর অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর নাম এজাহারে ওঠে। উপ-পরিদর্শক ওমর ফারুক অবশ্য বলেছেন, তার নাম ভাঙিয়ে কেউ প্রতারণা করতে পারে। ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাত ও সাবেক ইউপি সদস্য বাদল সেরনিয়াবাত ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলে দাবি করছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার বলেন, এরকম কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে ২৯ জন নারী-পুরুষ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন