০৫:৩৮ পি.এম
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে চীনের পতাকাবাহী ‘ফান ঝৌ-৬’ জাহাজ সরাসরি এসে ভিড়েছে। জাহাজটি আজ সকাল ১০টার দিকে প্রথম টার্মিনালে নোঙর করে, যা বন্দরের কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও আধুনিক করার লক্ষ্যে পাঁচটি অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার (৭ অক্টোবর) জানায়, পায়রা বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও দক্ষ করতে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছে। নতুন ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ার ফলে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের সময় কমবে। একই সঙ্গে, জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমে যাবে এবং বন্দরের সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। প্রথম টার্মিনালের জন্য আনা পাঁচটি সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুটি শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন, ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুটি রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন এবং ৮০ টন ধারণক্ষমতার একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি)। এসব যন্ত্রপাতি নির্মাণ করেছে চীনের নানজিং পোর্ট অ্যান্ড হারবার মেশিনারি কোম্পানি (এনপিএইচএমসি) ও শুঝো কনস্ট্রাকশন মেশিনারি গ্রুপ (এক্সসিএমজি)।
পায়রা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজিজুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, নতুন এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড করা হবে। আরটিজি ক্রেন ব্যবহার করে ট্রেইলার থেকে কনটেইনার ওঠানামা এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, এমএইচসির মাধ্যমে বাল্ক কার্গো ও কনটেইনার খালাসের কার্যক্রম আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আগ্রহ
বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান, ১৭০ মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ৬ মিটার ড্রাফটের ‘ফান ঝৌ-৬’ জাহাজটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশে যাত্রা করে। নতুন সরঞ্জামগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে বন্দরের কার্গো অপারেশন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো গেলে, আরও বেশি ড্রাফটের বড় মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের জেটিতে আনা সম্ভব হবে। এতে বিপুল পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে।
পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ উল ইসলাম বলেন, পাঁচটি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ায় বন্দর পূর্ণ সক্ষমতার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। গাড়ি আমদানির জন্য ডেডিকেটেড ইয়ার্ড ও শেড ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন ক্রেন যুক্ত হওয়ার ফলে ৬৫০ মিটার মাল্টিপারপাস বার্থের সক্ষমতাও পূর্ণতা পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা জরুরি। নাব্যতা ঠিক রাখা গেলে বড় মাদার ভেসেল সরাসরি জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে এর বিকাশের পথও সুগম হবে।
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জামবাহী মাদার ভেসেলের সরাসরি জেটিতে বার্থিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় শুরু হলো বন্দরের সরাসরি জাহাজ বার্থিং কার্যক্রম।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানালেন ডেপুটি হাইকমিশনার
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার ৫০০ টন পাথর নিয়ে ‘এমভি জেইন’ এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার ৫১১ টন পাথর নিয়ে ‘এমভি দা হং-১৬’ নামের দুটি মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে বার্থিং করে পণ্য খালাস করেছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন