বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৫ পি.এম
শরৎ আসার সাথে সাথে নীল আকাশ, সাদা মেঘ এবং বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল ঋতু পরিবর্তনের সংকেত দেয়। ব্যস্ত রাজধানী ঢাকার কংক্রিটের ভিড়েও নগরবাসী এই সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না। ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন খোলা মাঠ, নদীর পাড় এবং জলাভূমিতে সাদা কাশফুল ফুটে উঠেছে। ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে এসব জায়গায় ঘুরে আসার সুযোগ রয়েছে নগরবাসীর।
ঢাকার নিকটবর্তী কাশফুল দেখার জন্য দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর, পূর্বাচল, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, বসিলা-ওয়াশপুর এবং কেরানীগঞ্জের সারিঘাট আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।
ঢাকার ভেতর থেকেই কাশফুল দেখতে চাইলে উত্তরা দিয়াবাড়ি সহজ একটি গন্তব্য হতে পারে। উত্তরা ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় শরতের সময়ে কাশফুল দেখা যায়।
কাশবনের পাশে হাঁটা, ছবি তোলা অথবা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি লেকের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে। দিয়াবাড়ি বটতলা থেকে সামনে ৩ নম্বর সেতুর দুই পাশে লেকের পাড়ে নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে। আশপাশে খাবারের দোকান থাকায় বিকেলের ছোট ভ্রমণে বাড়তি আয়োজন করা সম্ভব।
দিয়াবাড়িতে যেতে মেট্রোরেল ব্যবহার করে উত্তরা উত্তর বা উত্তরা কেন্দ্র এলাকায় নেমে রিকশা অথবা স্থানীয় যানবাহনে যাওয়া যেতে পারে।
রাজধানীর ভেতর থেকেই শরতের আবহ উপভোগ করতে চাইলে আফতাবনগরও একটি ভালো বিকল্প। রামপুরা সেতুর দিক থেকে আফতাবনগরের ভেতরে বিভিন্ন খোলা জায়গায় কাশফুল দেখা যায়।
বিশেষ করে বিকেলের দিকে নরম সূর্যের আলোয় কাশফুলের সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে এসব এলাকার অনেক কাশবন অনির্ধারিত বা খোলা জমিতে হওয়ায় সেখানে যাওয়ার আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে পথ ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।
কিছুটা দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে পূর্বাচল এবং ৩০০ ফিট এলাকার খোলা জায়গাগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফিট সড়ক ধরে পূর্বাচলের দিকে এগোলে বিভিন্ন স্থানে কাশফুলের দেখা মেলে।
বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তর, বড় আকাশ এবং সাদা কাশফুল সব মিলিয়ে শরতের আবহ উপভোগের সুযোগ রয়েছে এখানে। তবে ছবি তুলতে গিয়ে ব্যস্ত সড়কের পাশে দাঁড়ানো বা রাস্তার ওপর অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ঢাকার কাছাকাছি একটু দীর্ঘ সময় নিয়ে ঘুরতে চাইলে আশুলিয়ার পথে যাওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে। মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে আশুলিয়ার দিকে যেতে যেতে বিভিন্ন জায়গায় কাশবনের দেখা মিলতে পারে।
এই পথে কাশফুলের পাশাপাশি খোলা জায়গা, জলাভূমি এবং গ্রামীণ পরিবেশও উপভোগ করা সম্ভব। নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় আটকে না থেকে পথের সুবিধাজনক এবং নিরাপদ স্থানে কিছুক্ষণ থেমে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যেতে পারে। তবে বের হওয়ার আগে সড়কের পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো।
কাশফুল দেখার পাশাপাশি নৌভ্রমণের সুযোগ চাইলে বিরুলিয়া আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে। তুরাগ নদীর তীরে হওয়ায় এখানে নদীর পাড়ের সৌন্দর্যের সাথে নৌকায় ঘোরার সুযোগও রয়েছে।
বৃষ্টি এবং বর্ষার প্রভাবে কোথাও পানিতে ভরা জমি, আবার কোথাও নদীর পাড়ের সবুজের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে কাশফুল। ফলে বিকেলের ভ্রমণে কাশবন এবং নৌভ্রমণ দুটিই উপভোগ করা সম্ভব।
ঢাকার একেবারে কাছেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে কেরানীগঞ্জের সারিঘাটও পছন্দের জায়গা হতে পারে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এই এলাকায় শরতের সময়ে বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে কাশফুল দেখা যায়।
নদী, সবুজ এবং সাদা কাশফুল মিলিয়ে সারিঘাটে তৈরি হয় অন্যরকম শরতের আবহ। বিকেলের দিকে গেলে রোদের তীব্রতাও কিছুটা কমে আসে। পরিবার বা বন্ধুদের সাথে গেলে নির্দিষ্ট পথ ধরে হাঁটা এবং ছবি তোলাই ভালো।
খুব বেশি দূরে যেতে না চাইলে মোহাম্মদপুরের বসিলা সেতুর ওপার, ওয়াশপুর এবং ঘাটারচরের দিকের খোলা জমি এবং নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতেও কাশফুলের দেখা মিলতে পারে।
তবে এসব এলাকার কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, নির্মাণাধীন এলাকা অথবা অনির্ধারিত খোলা জায়গা হতে পারে। তাই স্থানীয়দের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত জমিতে প্রবেশ না করাই নিরাপদ।
সাধারণত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শেষভাগ পর্যন্ত ঢাকার আশপাশে কাশফুলের সৌন্দর্য বেশি চোখে পড়ে। তবে জায়গাভেদে ফুল ফোটার সময় এবং স্থায়িত্বে পার্থক্য হতে পারে। বৃষ্টি এবং বাতাসের কারণে কাশফুল নুয়ে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সেদিনের আবহাওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতি দেখে নেওয়া ভালো।
বিকেলের শেষভাগ কাশফুল দেখার জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক সময়। এই সময় ছবি তোলার জন্যও পাওয়া যায় নরম আলো।
তবে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে কাশফুল ছেঁড়া অথবা গাছ মাড়িয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত। কাশবন অক্ষত থাকলেই শরতের এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন উপভোগ করা সম্ভব।
শরতের স্থায়িত্ব খুব বেশি নয়। তাই নীল আকাশ, সাদা মেঘ এবং দুলতে থাকা কাশফুলের এই মৌসুমে ব্যস্ত শহর থেকে অল্প সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়তে পারেন ঢাকার আশপাশের এসব গন্তব্যে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো একটি বিকেল হয়ে উঠতে পারে ছুটির দিনের দারুণ স্মৃতি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় অটোরিকশা ও ই-বাইক চলাচলে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি উল্লেখ করেন, দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন চারটি করে মোট আটটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইকের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে।
এছাড়া, প্রতিটি জোনে এসব যানবাহনের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হবে। নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে নতুন করে কোনো রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সরকার ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এর মধ্যে উত্তরে চারটি এবং দক্ষিণে চারটি জোন থাকবে।
চারটি জোনে অটোরিকশা ও ই-বাইক পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি বিধি ও নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
তিনি জানান, প্রতিটি জোনের অটোরিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। যেমন, একটি জোনে সবুজ রঙের রিকশা থাকবে, অন্য জোনে থাকবে কমলা রঙের। এভাবে চারটি জোনে ভিন্ন ভিন্ন রং ব্যবহার করা হবে, যাতে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে গিয়ে চলাচল করতে না পারে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে একটি অটোরিকশা নিয়ে রাজধানী থেকে কুমিল্লা, দিনাজপুর কিংবা জয়পুরহাট পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব। এই কারণে অটোরিকশা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, যারা বর্তমানে অটোরিকশা চালাচ্ছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তারা যাতে গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে রাজধানীতে যানজট সৃষ্টি করে মানুষের চলাচলে বাধা তৈরি করতে না পারেন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অটোরিকশাচালকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও ছিলেন। ফলে এটি শুধু অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন, নাকি সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য কোনো মহলের চেষ্টা, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের ভোট নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। সরকারের প্রধান শক্তি জনগণ। অতএব কোনো ধরনের অরাজকতা বা অপশক্তিকে মোকাবিলা করা হবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার প্রতিবাদ করা হবে।
অটোরিকশা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, জোনভিত্তিক চাহিদার তালিকা করা হবে। সেই চাহিদা অনুযায়ী অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি জোনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকবে এবং সেই সংখ্যার বাইরে নতুন করে কেউ নিবন্ধনের সুযোগ পাবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জর্জিয়া এবং পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য কনস্যুলার সেবা আবারও নিয়ে আসছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই সেবা প্রদান করা হবে, যা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল জানিয়েছেন, সেবার তারিখ ও স্থান ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। জর্জিয়া বা পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যারা কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহী, তাদের নির্ধারিত তারিখ দুটি ক্যালেন্ডারে উল্লেখ করে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরিফিন বাবুল জানান, কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জন্য আগ্রহীদের নির্ধারিত দিনে যথাসময়ে সেবাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসার পাশাপাশি আয়োজকদের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের সহযোগিতায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এবারের আয়োজনে শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরিফিন বাবুল জানিয়েছেন, কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। সবাইকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সেবা গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কনস্যুলার সেবা অনুষ্ঠিত হবে 3150 Holcomb Bridge Road, 1st Floor, Norcross, GA 30071 ঠিকানায়। আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর দুই দিন সেখানে মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে সেবা দেওয়া হবে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা এই আয়োজনে পাওয়া যাবে না। এনআইডি সেবার জন্য সংশ্লিষ্টদের মায়ামিতে অবস্থিত কনস্যুলেটে যেতে হবে।
জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডা থেকেও বাংলাদেশিরা এই কনস্যুলার সেবা নিতে পারবেন বলে জানান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। তিনি বলেন, এসব অঙ্গরাজ্য থেকে যারা আটলান্টায় এসে কনস্যুলার সেবা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্য ভালোভাবে দেখে প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন। নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেবাকেন্দ্রে আসার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনস্যুলার সেবার বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য নির্দেশনা পরবর্তীতে জানানো হবে। তাই সেবা নিতে আগ্রহীদের এখন থেকেই ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ নিজেদের ক্যালেন্ডারে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সেবা গ্রহণ করলে পুরো কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
কনস্যুলার সেবা আয়োজনসংক্রান্ত প্রয়োজনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুলের সঙ্গে 404-552-3241 নম্বরে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান শান্তর সঙ্গে 404-542-0717 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জর্জিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর বাংলাদেশিদের নির্ধারিত দুই দিন মনে রাখার এবং কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন করার জন্য আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
পদের নাম: সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন টেকনোলজি অথবা সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
অন্যদিকে, প্রার্থীদের জন্য অন্যান্য যোগ্যতা হিসেবে তফসিলি ব্যাংকের আইটি বিভাগে, সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অথবা ডেটা সেন্টার পরিচালনার কাজে দক্ষতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৬ থেকে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: কমপক্ষে ২৭ বছর
কর্মস্থল: যেকোনো জায়গায়
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ (৮ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হচ্ছে, যা পুষ্টির সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী উৎস হিসেবে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরে। এই বছর দিবসটির ৩০তম বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। প্রতিদিনের উৎপাদন ৬ কোটির বেশি ডিম।
দেশে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা প্রায় ১৩৭টি। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ২০০টিতে উন্নীত করা।
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুষ্টিবিষয়ক কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হবে।
৩০ বছরে বিশ্ব ডিম দিবস
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সেই অনুযায়ী ২০২৬ সালে দিবসটির ৩০ বছর পূর্ণ হবে।
৩০তম বার্ষিকীতে ‘এগউইন’ নামে একটি মাসকট চালু করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সব বয়সী মানুষের মধ্যে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বিশ্ব ডিম দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যে ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পেশি গঠন, মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং সুস্থ বার্ধক্যে এই প্রোটিনের ভূমিকা তুলে ধরা হচ্ছে।
কম দামে পুষ্টির বড় উৎস
ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন ছাড়াও কোলিন, আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ রয়েছে। বিশেষ করে ডিমের কুসুমে থাকা কোলিন শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিমে থাকা লুটিন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করার ওপরও এবারের দিবসে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিম বা মুরগি উৎপাদনে গ্রোথ হরমোন ব্যবহারের ধারণাটি সঠিক নয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় গ্রোথ হরমোন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তারা দাবি করেছেন।
ডিমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিবেশগত সুবিধা। গরু বা খাসির মাংসের তুলনায় ডিম উৎপাদনে কার্বন ফুটপ্রিন্ট ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কম। ফলে ডিমকে তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
উৎপাদন বাড়লেও চাপে খামারিরা
দেশে ডিমের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়লেও খামারিরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। পোল্ট্রি ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কারণে খামার পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে যাচ্ছে।
এতে অনেক সময় ভোক্তাকে বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে, কিন্তু খামারিরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ফলে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।
স্কুল ফিডিংয়ে ডিম
শিশুদের অপুষ্টি ও খর্বকায়তা কমানো এবং মেধার বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতেও ডিম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশ্বে চীন শীর্ষে, ব্যবহারে মেক্সিকো
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন করে চীন। দেশটিতে বছরে প্রায় ৬১৭ বিলিয়ন বা ৬১ হাজার ৭০০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
মাথাপিছু ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো। দেশটিতে বছরে গড়ে একজন মানুষ ৪০৯টি ডিম খান। জাপানে এই সংখ্যা ৩৩৭টি। উন্নত দেশগুলোতে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের ব্যবহার গড়ে ২৭০ থেকে ৩০০টির মধ্যে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিমের ব্যবহার এখনো কম।
আয়োজকেরা বলছেন, ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে দেশে ডিমের ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে একদিকে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে পোল্ট্রি খাতের খামারি ও উদ্যোক্তাদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ