প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
শরৎ আসার সাথে সাথে নীল আকাশ, সাদা মেঘ এবং বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল ঋতু পরিবর্তনের সংকেত দেয়। ব্যস্ত রাজধানী ঢাকার কংক্রিটের ভিড়েও নগরবাসী এই সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না। ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন খোলা মাঠ, নদীর পাড় এবং জলাভূমিতে সাদা কাশফুল ফুটে উঠেছে। ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের সাথে এসব জায়গায় ঘুরে আসার সুযোগ রয়েছে নগরবাসীর।
ঢাকার নিকটবর্তী কাশফুল দেখার জন্য দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর, পূর্বাচল, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, বসিলা-ওয়াশপুর এবং কেরানীগঞ্জের সারিঘাট আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।
ঢাকার ভেতর থেকেই কাশফুল দেখতে চাইলে উত্তরা দিয়াবাড়ি সহজ একটি গন্তব্য হতে পারে। উত্তরা ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় শরতের সময়ে কাশফুল দেখা যায়।
কাশবনের পাশে হাঁটা, ছবি তোলা অথবা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি লেকের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে। দিয়াবাড়ি বটতলা থেকে সামনে ৩ নম্বর সেতুর দুই পাশে লেকের পাড়ে নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে। আশপাশে খাবারের দোকান থাকায় বিকেলের ছোট ভ্রমণে বাড়তি আয়োজন করা সম্ভব।
দিয়াবাড়িতে যেতে মেট্রোরেল ব্যবহার করে উত্তরা উত্তর বা উত্তরা কেন্দ্র এলাকায় নেমে রিকশা অথবা স্থানীয় যানবাহনে যাওয়া যেতে পারে।
রাজধানীর ভেতর থেকেই শরতের আবহ উপভোগ করতে চাইলে আফতাবনগরও একটি ভালো বিকল্প। রামপুরা সেতুর দিক থেকে আফতাবনগরের ভেতরে বিভিন্ন খোলা জায়গায় কাশফুল দেখা যায়।
বিশেষ করে বিকেলের দিকে নরম সূর্যের আলোয় কাশফুলের সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে এসব এলাকার অনেক কাশবন অনির্ধারিত বা খোলা জমিতে হওয়ায় সেখানে যাওয়ার আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে পথ ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।
কিছুটা দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে পূর্বাচল এবং ৩০০ ফিট এলাকার খোলা জায়গাগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ৩০০ ফিট সড়ক ধরে পূর্বাচলের দিকে এগোলে বিভিন্ন স্থানে কাশফুলের দেখা মেলে।
বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তর, বড় আকাশ এবং সাদা কাশফুল সব মিলিয়ে শরতের আবহ উপভোগের সুযোগ রয়েছে এখানে। তবে ছবি তুলতে গিয়ে ব্যস্ত সড়কের পাশে দাঁড়ানো বা রাস্তার ওপর অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ঢাকার কাছাকাছি একটু দীর্ঘ সময় নিয়ে ঘুরতে চাইলে আশুলিয়ার পথে যাওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে। মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে আশুলিয়ার দিকে যেতে যেতে বিভিন্ন জায়গায় কাশবনের দেখা মিলতে পারে।
এই পথে কাশফুলের পাশাপাশি খোলা জায়গা, জলাভূমি এবং গ্রামীণ পরিবেশও উপভোগ করা সম্ভব। নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় আটকে না থেকে পথের সুবিধাজনক এবং নিরাপদ স্থানে কিছুক্ষণ থেমে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা যেতে পারে। তবে বের হওয়ার আগে সড়কের পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো।
কাশফুল দেখার পাশাপাশি নৌভ্রমণের সুযোগ চাইলে বিরুলিয়া আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে। তুরাগ নদীর তীরে হওয়ায় এখানে নদীর পাড়ের সৌন্দর্যের সাথে নৌকায় ঘোরার সুযোগও রয়েছে।
বৃষ্টি এবং বর্ষার প্রভাবে কোথাও পানিতে ভরা জমি, আবার কোথাও নদীর পাড়ের সবুজের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে কাশফুল। ফলে বিকেলের ভ্রমণে কাশবন এবং নৌভ্রমণ দুটিই উপভোগ করা সম্ভব।
ঢাকার একেবারে কাছেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে কেরানীগঞ্জের সারিঘাটও পছন্দের জায়গা হতে পারে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এই এলাকায় শরতের সময়ে বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে কাশফুল দেখা যায়।
নদী, সবুজ এবং সাদা কাশফুল মিলিয়ে সারিঘাটে তৈরি হয় অন্যরকম শরতের আবহ। বিকেলের দিকে গেলে রোদের তীব্রতাও কিছুটা কমে আসে। পরিবার বা বন্ধুদের সাথে গেলে নির্দিষ্ট পথ ধরে হাঁটা এবং ছবি তোলাই ভালো।
খুব বেশি দূরে যেতে না চাইলে মোহাম্মদপুরের বসিলা সেতুর ওপার, ওয়াশপুর এবং ঘাটারচরের দিকের খোলা জমি এবং নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতেও কাশফুলের দেখা মিলতে পারে।
তবে এসব এলাকার কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, নির্মাণাধীন এলাকা অথবা অনির্ধারিত খোলা জায়গা হতে পারে। তাই স্থানীয়দের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত জমিতে প্রবেশ না করাই নিরাপদ।
সাধারণত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শেষভাগ পর্যন্ত ঢাকার আশপাশে কাশফুলের সৌন্দর্য বেশি চোখে পড়ে। তবে জায়গাভেদে ফুল ফোটার সময় এবং স্থায়িত্বে পার্থক্য হতে পারে। বৃষ্টি এবং বাতাসের কারণে কাশফুল নুয়ে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সেদিনের আবহাওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতি দেখে নেওয়া ভালো।
বিকেলের শেষভাগ কাশফুল দেখার জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক সময়। এই সময় ছবি তোলার জন্যও পাওয়া যায় নরম আলো।
তবে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে কাশফুল ছেঁড়া অথবা গাছ মাড়িয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত। কাশবন অক্ষত থাকলেই শরতের এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন উপভোগ করা সম্ভব।
শরতের স্থায়িত্ব খুব বেশি নয়। তাই নীল আকাশ, সাদা মেঘ এবং দুলতে থাকা কাশফুলের এই মৌসুমে ব্যস্ত শহর থেকে অল্প সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়তে পারেন ঢাকার আশপাশের এসব গন্তব্যে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো একটি বিকেল হয়ে উঠতে পারে ছুটির দিনের দারুণ স্মৃতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন