বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:০৬ পি.এম
নওগাঁর পোরশায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে বাস্তবায়িত বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত) শীর্ষক কর্মসূচির (২০২৫-২৬) অর্থবছরের আওতায় গত বুধবার শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও রাকিবুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে থানা অফিসার ইনচার্জ জিয়াউর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা মামুনূর রশিদ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি তৌফিকুর রহমান শাহ্ চৌধুরীসহ আরও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আধুনিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন আছে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি শিক্ষাবৃত্তি হিসাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬৪ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার টাকা করে, উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে এবং কলেজ পর্যায়ের ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে ৭ হাজার টাকা করে প্রদান করেন। এছাড়াও ৩৩ জন শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে বাইসাইকেল তুলে দেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়ন মুলক অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশু শিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে একটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থী হয়ে পার পাবার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দ শুনে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে এক খণ্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে শুরু করেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩টি শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহত হন। শিশুরা যখন বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়, তখন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আমাদের আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করতে বলেন। দল হেরে যাওয়ার কারণে আমরা কিছু শিক্ষার্থী মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’ আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এই গানটি বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’ স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবো।’ জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শ্রাবণের অবিরাম বৃষ্টির ফলস্বরূপ, পাবনার চাটমোহর পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এলাকায় চলাচলের রাস্তা এখন জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে মহল্লাবাসী দুর্ভোগে পড়েছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুরো চেহারা দেখে মনে হয় যেন একেকটি জলাশয়। এটি শুধু মহল্লায় সীমাবদ্ধ নয়, পৌরসভার প্রধান সড়কটিও সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। এর ফলে পথচারী ও যানবাহন চালকরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েন। চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের সামনে, নতুন বাজার, পুরাতন বাজার এবং আরও বিভিন্ন এলাকায় প্রধান সড়কে পানি জমে রয়েছে। এলাকা বাসীর অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মই এই দুর্গতির কারণ। কারণ এখানে সামান্য বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে যায়। পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লায় জলাবদ্ধতার কারণে বহু বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালের বৃষ্টিতে পৌরসভার প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এছাড়া অন্য মহল্লাগুলিতেও হাঁটু পানি জমে গেছে। ভুক্তভোগীরা মনে করেন, পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নোংরা পানি পেরিয়ে এলাকাবাসীকে চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এটি একটি জলাশয়। পানি অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায়, পৌরসভার উদাসিনতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা তলিয়ে যায়।
এলাকা বাসীর অভিযোগ, পৌরকর আদায়ে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেমন ব্যস্ততা দেখান, তেমনি জলাবদ্ধতা দূরীকরণের বিষয়ে তাদের ন্যূনতম মাথাব্যথা নেই। নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করার পরেও ক শ্রেণীর এই পৌরসভার নাগরিকরা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে অবৈধভাবে পাঁতা হয়েছে শত শত চায়না দুয়ারি জাল। এর ফলে মা ও পোনা মাছ, এমনকি দেশি প্রজাতির মাছও ছেঁকে তোলা হচ্ছে। এতে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, পানি নরবরাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছে ফসলি জমিগুলি। পুরো চলনবিল বর্তমানে চায়না দুয়ারি জালের দখলে।
চাটমোহর উপজেলার ডিকসি বিল, বিল কুড়ালিয়া, বগা বিল, খলিশাগাড়ি বিল, আফরার বিলসহ নিমাইচড়া, হান্ডিয়াল, ছাইকোলা, ডিবিগ্রাম, বিলচলন ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। প্রতিটি বিল ও জলাশয়ে শত শত চায়না দুয়ারি জালের মাধ্যমে পেঁতে মাছ ধরা হচ্ছে। মাছের প্রजनন মৌসুমে দেদারছে মা মাছ নিধন করায় দেশি মাছের উৎপাদন হুমকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে বিলের ঝলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্যও বিনষ্ট হচ্ছে। কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন যে, চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন বিলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই অঞ্চলে প্রতিদিন চায়না দুয়ারি জালের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ দেশি প্রজাতির মাছ নিধন করা হচ্ছে। স্বল্প পানি থেকে শুরু করে গভীর পানিতেও পেঁতে রাখা হচ্ছে এই জাল। ফলে, চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চল মাছ শুন্য হয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে চাটমোহরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন বলেছেন, “ইতোমধ্যে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করেছি। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে গত ১১ জুলাই বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন, দেড় লক্ষাধিক টাকার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে প্রকাশ্যে পোড়ানো হয়েছে।” এই কর্মকর্তা জানান, চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাকা দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লুডু খেলায় ঝুঁকছে পাবনার সুজানগরের যুবসমাজ। এদিকে, একশ্রেণির স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও এই খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সময় এলাকার বেকার ভবঘুরে যুবকদের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা শখেরবসে বাসা-বাড়িতে আ্যন্ড্রয়েড ফোনে লুডু খেলতো। কিন্তু বর্তমানে এই যুবক এবং শিক্ষার্থীরা শখের বিজয় নয়, টাকা দিয়ে জুয়ার মতো আ্যন্ড্রয়েড ফোনে লুডু খেলছে। নাজিরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ওই যুবক এবং শিক্ষার্থীরা উপজেলার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে, বাড়ির আশপাশের বাগানে এবং বৈঠকখানায় বসে আ্যন্ড্রয়েড ফোনে টাকা দিয়ে লুডু খেলে থাকে।
তারা ১‘শ টাকা থেকে শুরু করে মোটা অংকের টাকা বাজি ধরে মোবাইল ফোনে লুডু খেলছে। বিশেষ করে আ্যন্ড্রয়েড ফোনে টাকা দিয়ে লুডু খেলার বিষয়টি সুজানগর থানা পুলিশের নজরে না আসার সুযোগে তারা কখনও রাতে আবার কখনও দিনে নির্বিঘ্নে ওই খেলা খেলে থাকে।
উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ময়েন উদ্দিন মোল্লা মত প্রকাশ করে জানান, টাকা দিয়ে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। বিশেষ করে তাদের খেলার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে চুরিসহ অন্যান্য আইনের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সুজানগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ লালবুর রহমান বলেন, জুয়া খেলা যেভাবেই খেলা হোক না কেন, সেটি অপরাধ। কাজেই জুয়াড়িদের ধরতে পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ