১১:০৫ এম
রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিন আজ রোববার (২৬ জুলাই) বঙ্গভবন ছাড়ছেন। এরপর তিনি সপরিবারে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে উঠবেন। চিকিৎসার প্রয়োজনেও তিনি শিগগিরই বিদেশে যাবেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সাবেক এই রাষ্ট্রপতি একটি গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককে যেতে পারেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে ইতোমধ্যে তার বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ। তাই চিকিৎসার জন্য তাকে সঙ্গে নিয়েই বিদেশে যাবেন তিনি।
এর আগে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি শনিবার রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি বাইপাস সার্জারি হওয়ার পর ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এ কারণে মাঝে মাঝে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
সাবেক রাষ্ট্রপতি আরও বলেন যে বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে কয়েক দিন আগে থেকেই তার ব্যক্তিগত মালপত্র গুলশানের বাড়িতে সরানো হচ্ছিল। গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে অনুযায়ী, বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ অধিবেশন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনা করে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
অপরদিকে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাত শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে। যথাসময়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আরেক অনুষ্ঠানে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করেন তাহলে তার অধিকার আছে। তিনি কেন পদত্যাগ করেছেন, সেটি আমি জানি না।’
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি অফিস করবেন বঙ্গভবনে এবং থাকবেন স্পিকারের বাসভবনে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে উঠবেন না। তবে, তিনি অফিস করবেন বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সৌজন্য ভিত্তিতে মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন