প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ও সামরিক শাসক ইব্রাহিম তাওরে ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও ইমামদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে উগ্রবাদী ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এর আগে, তিনি কয়েকজন প্রভাবশালী ইমামকে আটক এবং একটি বিতর্কিত ধর্মীয় আইন পাস করার পর তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তাওরে মুসলিম ব্যক্তিত্বদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, যারা উগ্রবাদ প্রচার করবেন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাওরে আরও বলেন, “যদি এটি আপনাদের ইসলাম হয়ে থাকে, আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রবাদীদের অবশ্যই পরিবর্তন হতে হবে। যদি তারা পরিবর্তন না হয়, তাহলে যুদ্ধ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।”
এদিকে, তিনি বিতর্কিত ধর্মীয় আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানান, এই আইনের মাধ্যমে বুরকিনা ফাসোর ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, যারা খুতবায় উগ্রবাদ ছড়াবেন, তাদের বহিষ্কার করা হবে।
তবে, তিনি বলেন যে যারা ইসলামের শান্তির বার্তা প্রচার করবেন, তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি তিনি দেন। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তিগুলো ধর্মকে ব্যবহার করে বুরকিনা ফাসোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সামরিক সরকার এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত মে মাসে প্রসিদ্ধ সুন্নি ইমাম মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী, যিনি ধর্মীয় আইনের খসড়ার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
তাঁর আটকরণের পর থেকেই মুসল্লিরা মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এই অবস্থায়, রাজধানী ওগাদোগুর সবচেয়ে বড় সুন্নি মসজিদ নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোর স্থায়ী অবস্থান জানা যায়নি।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোর প্রায় 100 সমর্থককে আটক করে সেনাবাহিনীর বন্দিশালায় নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের ‘নাগরিক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, এপ্রিলের মাঝামাঝিতে একই ধরনের অভিযোগে মাহমুদ বারো নামের আরেক ইমামকে আটক করা হয়েছিল।
গত ২০ জুন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধর্মীয় আইন পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষা করানো, ধর্মের অপব্যবহার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলেও অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারের দাবি অনুযায়ী, ধর্মনিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ন রাখতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ রয়েছে যে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্দেশ্যেই এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউ আরব
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন