বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০০ পি.এম
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে প্রযুক্তি, জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও মানসম্মত পণ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "একজন মানুষ কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে যাতে ভেজাল, নিম্নমানের বা ক্ষতিকর পণ্য কিনতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।" তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ১৭ থেকে ১৮ কোটি মানুষের ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় অধিদপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় তিনি আরও জানান, অধিদপ্তরকে আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রশিক্ষণ, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সেবাগুলো ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "কোনো প্রতিষ্ঠানের আকার বা পরিচিতির চেয়ে মানুষের জীবনে তার কার্যক্রমের বাস্তব প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" এই দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাজের গুরুত্ব অনেক বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের কাঠামো, জনবল ও সেবা কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (বিআইডিএস) দিয়ে গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গবেষণার সুপারিশের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "খুব শিগগিরই বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।" এর মাধ্যমে ভোক্তারা অধিদপ্তরের সেবা আরও সহজে ও কার্যকরভাবে পাবেন।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফও সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম, প্রযুক্তির ব্যবহার, জনবল কাঠামো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ভোক্তা সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের পর একটি নতুন চক্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তরুণদের সমন্বয় করে দলের পুনর্গঠন করছেন। এই নতুন যাত্রার সূচনায় আর্জেন্টিনা দলে বেশ কিছু নতুন মুখের উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেন রোমান ভেগা।
জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গের এই লেফট-ব্যাক প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে ডাক পেয়েছেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার নতুন অধ্যায় শুরু হবে। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে বুরকিনা ফাসো এবং ৬ অক্টোবর এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শেষ ম্যাচটি বিশেষ কারণ বেনিনের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার কথা লিওনেল মেসির। ফলে, একদিকে কিংবদন্তির বিদায়ের আবেগ থাকবে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আর্জেন্টিনার ফুটবলে ভেগা সম্পূর্ণ অপরিচিত নন। আর্জেন্তিনোস জুনিয়র্সের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই ডিফেন্ডার বয়সভিত্তিক দলের হয়ে নজর কাড়েন। তিনি আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলের সদস্য ছিলেন এবং অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও অংশগ্রহণ করেছেন।
ক্লাব ফুটবলে আর্জেন্তিনোস জুনিয়র্সের পর ভেগা বার্সেলোনা বি দলের হয়ে খেলেছেন। এরপর ২০২৫ সালে রাশিয়ায় পাড়ি জমান। তাকে দলে নিতে জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ প্রায় ৯০ লাখ ডলার খরচ করেছে। রুশ ক্লাবটি তার ৯০ শতাংশ স্বত্ব কিনেছে এবং এই চুক্তির মাধ্যমে আর্জেন্তিনোস জুনিয়র্সের নিট আয় হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ ডলার।
বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভেগাকে কাছ থেকে দেখেছেন আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফরা। এবার সিনিয়র দলে সুযোগ দিয়ে স্কালোনি সেই পরিচিত মুখকে বড় মঞ্চে যাচাই করতে চান।
নতুন চক্রে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ডান প্রান্তে নাহুয়েল মোলিনার সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকল্প হিসেবে অগুস্তিন জিয়াই ও হুয়ান ফোইথকে দলে ডেকেছেন স্কালোনি।
ফোইথের ফেরায় অভিজ্ঞতার ছাপ রয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই ডিফেন্ডার চোটের কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি। শারীরিক সমস্যার পরও স্কালোনি তাকে দলে রেখেছেন। অন্যদিকে, জিয়াইকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় লেফট-ব্যাক পজিশনে ভেগার অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের মতে, এই পজিশনে নতুন বিকল্প তৈরির লক্ষ্যেই তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। টিওয়াইসি স্পোর্টস এবারের স্কোয়াডে ভেগাকে অন্যতম বড় চমক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আর্জেন্টিনার নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে মেসির বিদায় অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের হয়ে তার অর্জনের তালিকায় রয়েছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ।
বেনিনের বিরুদ্ধে মাঠে নামলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ম্যাচসংখ্যা দাঁড়াবে ২০৮-এ। দেশের হয়ে ১২৫ গোল করে তিনি ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা।
মেসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্ল Claudio Tapia। মনুমেন্তালে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
একদিকে মেসির বিদায়, অন্যদিকে নতুনদের আগমন আর্জেন্টিনার ফুটবলে প্রজন্ম বদলের এই মুহূর্ত একই মঞ্চে ধরা পড়তে যাচ্ছে। সেই নতুন অধ্যায়ের অন্যতম মুখ হতে পারেন রোমান ভেগা। এখন দেখার বিষয়, প্রথম ডাক পাওয়ার পর জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের জায়গা কতটা পাকাপোক্ত করতে পারেন জেনিতের এই তরুণ লেফট-ব্যাক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনা করে ফ্লেভারিং ক্যাপসুল সিগারেটের নিম্ন মূল্যস্তরে সরবরাহের উপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই ধরনের সিগারেট এখন থেকে মধ্যম মূল্যস্তরের নিচে বাজারে সরবরাহ করা যাবে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিভাগ ১৫ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, সিগারেটের সংখ্যা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য সুস্পষ্টভাবে, লক্ষণীয়ভাবে ও অনপনীয়ভাবে মুদ্রিত থাকতে হবে।
এছাড়া, ফ্লেভারিং ক্যাপসুল সিগারেটের নিম্ন মূল্যস্তরে সরবরাহের ফলে ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে, এই বিবেচনায় এ ধরনের সিগারেট মধ্যম মূল্যস্তরের নিচে সরবরাহ না করার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
গেজেটে সিগারেটের মূল্যস্তরও নির্ধারিত হয়েছে। নিম্ন মূল্যস্তরে প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব, মধ্যম মূল্যস্তরে ৯২ টাকা ও তদূর্ধ্ব, উচ্চ মূল্যস্তরে ১৬০ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং অতি উচ্চ মূল্যস্তরে ২১০ টাকা ও তদূর্ধ্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বিধানের ফলে ফ্লেভারিং ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেট ৬৫ টাকা থেকে শুরু হওয়া নিম্ন মূল্যস্তরে সরবরাহ করা যাবে না। এসব সিগারেটের ক্ষেত্রে অন্তত মধ্যম মূল্যস্তরের অর্থাৎ প্রতি ১০ শলাকার ৯২ টাকা বা তার বেশি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রযোজ্য হবে।
এনবিআর জানিয়েছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ১৩৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং একই আইনের ৫৮ ধারার উপধারা (২)-এর সঙ্গে পঠিতব্য বিধান অনুযায়ী ৮ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনটি অধিকতর সংশোধন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের সর্বউত্তরের সীমান্তবর্তী এলাকা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা থেকে শুরু করে দক্ষিণের কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে ৯৫৬ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন মানিকগঞ্জের দুই যুবক। এই দীর্ঘ যাত্রায় একের পর এক জেলা, সড়ক এবং নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হয়েছে। তাদের যাত্রা কোনো যানবাহনে নয়, বরং পায়ে হেঁটেই সম্পন্ন হয়েছে।
মাত্র ২৮ দিনে তারা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছেছেন। এই পথে তারা ১৬টি জেলা অতিক্রম করেছেন। তাদের এই ব্যতিক্রমী ভ্রমণে কখনো ক্লান্তি, কখনো শারীরিক অসুস্থতা, আবার কখনো রাতের থাকার জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারেনি।
এই দুই তরুণ হলেন মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স শেষ করা শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ হৃদয় এবং অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রুবাই হাসান।
গত ৯ আগস্ট দুপুরে তাদের যাত্রা শুরু হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে। তাদের লক্ষ্য ছিল দেশের সর্বদক্ষিণের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জিরো পয়েন্টে পৌঁছানো। ২৮ দিনের পথচলা শেষে তারা গত ৭ সেপ্টেম্বর গন্তব্যে পৌঁছান।
তাদের এই যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল শুধু দূরত্ব অতিক্রম করা নয়, বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন কাছ থেকে দেখা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নতুন জায়গা সম্পর্কে জানার আগ্রহ।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের পথ ছিল সহজ নয়। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় হাঁটতে গিয়ে পায়ে ব্যথা ও ক্লান্তির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। রাতে থাকার জায়গা খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জও ছিল। কখনো তারা মসজিদে থেকেছেন, আবার কখনো পুলিশের সহায়তায় থানায় আশ্রয় নিতে হয়েছে।
এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসেননি। সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ হৃদয় বলেন, "আমরা ৯ আগস্ট দুপুরে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করি। প্রথমদিকে বেশ ভালোই যাচ্ছিল। পরবর্তীতে রাতে থাকা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। একদিন ছিলাম মসজিদে, অন্যদিন একটি থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তায় আশ্রয় পেয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "পথিমধ্যে বিভিন্ন রকমের শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও পড়তে হয়েছে। এর আগেও আমি ৪৯টি জেলা ভ্রমণ করেছি।" তাদের ব্যক্তিগত আগ্রহও ছিল দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পেছনে। ভ্রমণের মাধ্যমে নতুন স্থান দেখা এবং দেশের মানুষ ও জনপদকে কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি করতেই তারা এই ব্যতিক্রমী পথ বেছে নেন।
সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রুবাই হাসান বলেন, "আমার মূলত বিভিন্ন হবিস বা শখ এক্সপ্লোর করার নেশা। যার জন্য হচ্ছে বর্তমানে এই ঘোরাফেরার প্রতি প্যাশন কাজ করছে।" তিনি জানান, "ভাই বলল চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি। সবাই তো ঘুরাফেরা করে, আমরা একটা এক্সট্রিম কিছু করার প্ল্যান করলাম।"
আব্দুল আহাদ হৃদয় ও মো. রুবাই হাসানের এই যাত্রার পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের ভ্রমণপ্রীতি। আহাদ হৃদয় এর আগেও দেশের ৪৯টি জেলা ভ্রমণ করেছেন। এবার ছোট ভাই ও সহপাঠী রুবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পায়ে হেঁটে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
এই দীর্ঘ যাত্রায় তাদের প্রতিদিনের খরচও নিজেদের বহন করতে হয়েছে। পুরো যাত্রায় জনপ্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। শুরুতে পরিবারের পক্ষ থেকে খুব একটা উৎসাহ না থাকলেও শেষ পর্যন্ত সফলভাবে যাত্রা শেষ করে বাড়ি ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত হন।
আব্দুল আহাদ হৃদয়ের পরিবার থেকেও এই যাত্রায় সহযোগিতা ছিল বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, "মানুষের জীবনযাপনকে কাছ থেকে দেখা এবং নতুন মানুষ ও নতুন স্থান সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই এমন যাত্রার চিন্তা আসে।"
তাদের এই ব্যতিক্রমী যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বন্ধু, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মাত্র ২৮ দিনে পায়ে হেঁটে ৯৫৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়াকে তারা দেখছেন ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতা হিসেবে।
দেবেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী দীপক বলেন, "তাদের এই অর্জন তরুণ যুবকদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।" মো. রুবাই হাসানের সহপাঠী সাদিয়া বলেন, "আমরা খুবই প্রাউড ফিল করছি, আমাদের দুজন বন্ধু তারা কিন্তু অনেক বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল।"
বাংলাবান্ধা থেকে টেকনাফ-দীর্ঘ এই পথচলায় তারা শুধু একটি দূরত্বই অতিক্রম করেননি; পথে দেখেছেন দেশের নানা প্রান্তের মানুষের জীবনযাপন, পরিচিত হয়েছেন নতুন মানুষের সঙ্গে, পেয়েছেন নানা ধরনের অভিজ্ঞতা।
কখনো শারীরিক কষ্ট, কখনো থাকার অনিশ্চয়তা, আবার কখনো মানুষের কটু কথার মধ্যেও হাঁটা থামাননি মানিকগঞ্জের এই দুই যুবক। শেষ পর্যন্ত ২৮ দিনের সেই পথচলা শেষ হয়েছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জিরো পয়েন্টে গিয়ে।
তাদের কাছে ৯৫৬ কিলোমিটারের এই যাত্রা হয়ে থাকল দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তকে পায়ে হেঁটে দেখার এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারের অঙ্গীকার হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং লক্ষ্য হলো সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, এবং অন্যান্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। এই প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।
তিনি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও সেই নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধুমাত্র আইনজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী, প্রয়োগযোগ্যতা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানও একটি ক্লাসিক বিতর্কের বিষয়- শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের চায়ের দোকানেও। গ্রামের চায়ের দোকানে মানুষ সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সাংবিধানিক সংশোধনী, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের আলোচনা মানুষের সাংবিধানিক সচেতনতা বাড়ায়। এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এ কারণেই আমরা গর্বিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু সাদৃশ্য তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট যে এখতিয়ার প্রয়োগ করে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মিল রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আর্টিকেল ১০২-এর অধীনে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনও কখনও এই এখতিয়ার অপব্যবহার ও ভুলভাবেও ব্যবহার করা হয়।
সংবিধান প্রণয়নে দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা জন লক, থমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এসব রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে যে ভিত্তিগত কাজগুলো করেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমাদেরও সেই তাত্ত্বিক ভিত্তির অনেকটাই অনুসরণ করতে হয়েছে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারের কিছু নীতিগত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতির ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াইকে উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মানুষ স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত হয়েছে।
দেশের বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং এসব মানুষের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী।
বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে- এমন কোনো অভিযোগ বর্তমান সময়ে পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘের ঐচ্ছিক প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ তা করেছে।
মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচন কমিটির কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রেসক্লাব এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী কিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বীকৃতি থাকলেও তাদের নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব স্পিকারের হাতে রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক শাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে সুশাসন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার এমন একটি সময় পার করছে, যখন অর্থনীতি ও আইনের শাসন উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজও চলছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ