ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সারের ডিলারশিপ পাননি যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন, বললেন ‘গুডবাই’


সারের ডিলারশিপ পাননি যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন, বললেন ‘গুডবাই’

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সারের ডিলারশিপ না পাওয়ার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন দড়গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই ঘোষণা দেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজ থেকে বিএনপি অঙ্গসংগঠনের সকল প্রকার পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। GOOD BYE।’

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

সাদ্দাম অভিযোগ করেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার পরও তিনি সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করে বঞ্চিত হয়েছেন। এই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আপাতত দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি জানান, তার বাবা প্রায় ৪০ বছর ধরে সারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সারের ডিলার নিয়োগের সময় তার বাবা বিএনপি এবং তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ডিলারশিপ পাননি বলে দাবি করেন। এরপর থেকে তারা অন্য এক ডিলারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে সারের ব্যবসা করে আসছেন। সম্প্রতি নতুন ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পরও তারা ডিলারশিপ পাননি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এখন বিএনপি ক্ষমতায়, নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা ডিলারশিপ পেলাম না। আমার বাবার ৪০ বছরের সারের ব্যবসা। দলের কাছে কখনো টাকা-পয়সা চাইনি। প্রয়োজনের সময় যদি কিছুই না পাই, তাহলে রাজনীতি করে লাভ কী? আমাদের তো ব্যবসা করে চলতে হবে। অনেক টাকা বাকি আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকলে এ নিয়ে কোনো ক্ষোভ থাকত না। এখন আমাদের পেটে লাথি দেওয়া হলো। এলাকায় মুখ দেখাতে পারছি না। দল থেকে নয়, আপাতত পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।’

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন

ডিলারশিপের বিষয়ে যোগাযোগের প্রসঙ্গে সাদ্দাম হোসেন জানান, আবেদন করার পর মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) দুলালকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে রেজা নামের একজন তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে সমস্যা নেই, সব ঠিক আছে।

এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেই ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় নতুন সারের ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী, সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়নে নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. রুহুল আমীন।

আরও পড়ুন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: ইশরাক ভাইয়ের মতলব ভালো ছিল

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরের পীরগঞ্জে নকল সার কারখানায় অভিযান, রাসায়নিক পদার্থ জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


রংপুরের পীরগঞ্জে নকল সার কারখানায় অভিযান, রাসায়নিক পদার্থ জব্দ

পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কালসার ডাড়া বাজারে মেসার্স মোখলেছুর ট্রেডার্সের প্রোপাইটার মাইদুল ইসলাম বাবুর গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেছে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল নকল সার, কীটনাশক এবং গরুর ভুসি তৈরির অভিযোগের তদন্ত করা।

অভিযানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, নকল সাদৃশ্য সার, নকল বালাই ছত্রাক নাশক, রং ক্যামিক্যাল, ইটের রাবিশ, কাঠের গুড়া, খালি প্যাকেট, যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। গোডাউনটিতে বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য প্যাকেটের পাশাপাশি সার ও ভুসি তৈরির ১ হাজার ১১২৬ বস্তার বেশি উপকরণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া, মাইদুল ইসলাম বাবু কালসারডারা সংলগ্ন এলাকায় একটি চাতালে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গো-খাদ্যে গমের ভুসির সঙ্গে ধানের ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে ‘বসুন্ধরা’ ও ‘মণ্ডল’সহ নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করে আসছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি এসব পণ্য নিরাপদে রাখতে পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার সংলগ্ন জায়গায় গোডাউন ভাড়া নিয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে, সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসন আব্দুল্লাহ্পুর বাজার সংলগ্ন সাদুল্লাপুর সীমানার আলী নগর বাদুরপুরে মাইদুল ইসলাম বাবুর নকল সার তৈরির কারখানায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নকল সারসহ সার তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয় এবং কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে রোববার (১০ অক্টোবর) পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন মাইদুল ইসলাম বাবুর দোকান সংলগ্ন কারখানায় অভিযান চালায়।

তবে অভিযানের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম বাবু ও আলহাজ্ব মোখলেছুর রহমান কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে স্থানীয় অনেকে জানিয়েছেন, তাদের ধারণা ছিল যে সেখানে কেঁচো-জৈব সার তৈরির কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। এ কারণে কারখানাটির কার্যক্রম নিয়ে তাদের তেমন সন্দেহ হয়নি। তবে প্রশাসনের অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের নকল সাদৃশ্য সার, বালাইনাশক কীটনাশক, ছত্রাকনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ তৈরির সরঞ্জাম দেখে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত উপকরণগুলো পরীক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর বোঝা যাবে, সেগুলো আসল না নকল। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে নকল পণ্য তৈরি হচ্ছিল। কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এজন্য তদন্ত সাপেক্ষে জব্দ করা পণ্যাদির পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা করা হবে।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, নকল সাদৃশ্য সার, নকল বালাই-ছত্রাকনাশক, রং ক্যামিক্যাল, ইটের রাবিশ, কাঠের গুড়া, খালি প্যাকেট এবং নামিদামি ব্র্যান্ডের খালি প্যাকেটসহ নানা উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়ে সার, কীটনাশক এবং ভুসি তৈরি করা হতো। প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। গোডাউনটি তালাবদ্ধ রাখার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে নকল সার কারবারিদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে ওই অঞ্চলের ভুক্তভোগী কৃষকরা। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযানে সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল রানা, পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তাজুল ইসলাম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো তাজমিন হত্যার যেসব তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো তাজমিন হত্যার যেসব তথ্য

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার মামলার তদন্তে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সুমন নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, গত ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর তাজমিন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার কথা থাকলেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানক্ষেতে। প্রাথমিক তদন্তে সেখানে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার উদ্দেশ্য অনেকটা পরিষ্কার হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাজমিন বাড়ি থেকে বের হয়। পরে সে কক্সবাজারে যায়। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরের পর বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় কিশোরীটি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ দেখা যায়।

এরপর বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চালক সুমন শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে গাড়ি চালাতে থাকে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাবাকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠায় তাজমিন এবং নিজের লাইভ লোকেশন শেয়ার করে। রাত ২টা ৫৮ মিনিটে পাঠানো ওই বার্তায় বাবাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে ঘুমিয়ে থাকায় তার বাবা আবদুল আলীম তখন বার্তাটি দেখতে পাননি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি বিজরা হয়ে রসুলপুর ও শিকারীপাড়া দিয়ে জগতপুরের ধানক্ষেতের দিকে যায়। সেখানে তাজমিনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, তাজমিনের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, প্রাণ বাঁচাতে সে পালানোর চেষ্টা করেছিল। একপর্যায়ে গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। শুরুতে চালক সুমন একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হলেও পরে মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার সকালে জগতপুরের ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। গাড়িটির নিবন্ধন ও মালিকের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে গাড়ির মালিক জানান, সুমন সেটি ভাড়ায় চালাতেন। পরে তার অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ার আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত সে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যাচ্ছিল না।

এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েছেন তাজমিনের মা কেয়া খাতুন। শুক্রবার যশোরের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ায় তাদের বাড়িতে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।

কেয়া খাতুন অভিযোগ করেন, মেয়ের এক বান্ধবী তাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত। মেয়েকে নিরাপদে রাখতে তিনি অনেক চেষ্টা করেছেন বলেও জানান। তার অভিযোগ, ওই বান্ধবীই তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে মেয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল। সে বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে মেয়ের পাঠানো বার্তা ও লাইভ লোকেশন দেখতে পান তিনি। পরে লোকেশন অনুসরণ করে মেয়ের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

তাজমিনের হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরার কথা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচি আয়োজন করেছে তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে প্লাটফর্মটি। পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করে এই বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে আটক হয়েছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, দিল্লির নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার আবাসন সমিতিতে ধ্রুব রাঠির বাসভবনে পুলিশের একাধিক দল উপস্থিত হয়।

ধ্রুব রাঠিকে দিল্লিতে গিয়ে প্রতিবাদে অংশ না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছিল। গুরুগ্রাম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পূর্বে জানিয়েছিলেন, "তিনি যদি নির্দেশ অমান্য করেন এবং দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তাকে আটক করা হবে।"

পুলিশের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ধ্রুব রাঠিকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিক্ষোভের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীজুড়ে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে দিল্লির যন্তরমন্তর ও তার চারপাশের ৪ কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত যন্তরমন্তর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।

এছাড়া, রাজধানী ও তার সংলগ্ন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে যেন লোকজন সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে না পারে, সেজন্য নয়াদিল্লির ৪৫টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে ২৫০টি ট্রেন।

দিল্লির কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা কয়েকগুণ জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার সড়কে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। শেষ দিকের কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো ভেঙে পার হওয়া আরও কঠিন হয়।

সংবেদনশীল স্থানগুলোতে লাউডস্পিকার বসানো হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে রেকর্ড করা ঘোষণায় জানানো হচ্ছে, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। লোকজনকে বিক্ষোভে জমায়েত না হওয়া, স্লোগান না দেওয়া, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করা এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা না চালানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকেও (আরডব্লিউএ) জানাতে বলা হয়েছে যে বিক্ষোভের অনুমতি নেই। বিক্ষোভে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে আসা ব্যক্তিদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন লজ ও হোটেলেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। হোটেল ব্যবস্থাপকদের অতিথিদের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করতে বলা হচ্ছে। এছাড়া, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেন এমন ব্যক্তিদের এবং সম্পত্তির মালিকদেরও বিক্ষোভে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন— এমন ব্যক্তিদের কাছে তাদের সম্পত্তি ভাড়া না দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই এলাকায় ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে। ফলে এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চলে পরিণত হবে।

নজরদারিও জোরদার করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি জেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে এগুলোর মাধ্যমে।

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সমাবেশ সংক্রান্ত অনলাইন পোস্ট ও বার্তাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খবর অনুযায়ী, ২০০ জনেরও বেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছেন।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোতে পুলিশের অসদাচরণ ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এবারের বিক্ষোভ মোকাবিলার প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।

ঘটনাগুলো বিভিন্ন দিক থেকে নথিবদ্ধ করতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ দায়িত্বে থাকা অন্য সদস্যদেরও বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের আশা, এসব ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে, যাচাইযোগ্য প্রমাণ দিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি মোকাবিলা করা যাবে এবং কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন দিল্লিতে বিমান থেকে আটক ‘তেলাপোকা পার্টির’ তিন শীর্ষ নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


নতুন দিল্লিতে বিমান থেকে আটক ‘তেলাপোকা পার্টির’ তিন শীর্ষ নেতা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ সফল করার জন্য সংগঠনটি ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু, দিল্লিতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দলের শীর্ষ তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে একটি বিমানে করে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান এই তিন তরুণ নেতা। তবে, তাদের বহনকারী বিমানটি রানওয়েতে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বিমানে উঠে তাদের আটক করে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার সকাল ১০টার দিকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। যদিও দিল্লি পুলিশ এ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি, তবুও সিজেপি জানিয়েছিল, কর্মসূচি যথাসময়ে শুরু হবে।

এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে উড়োজাহাজে করে মুম্বাই থেকে নয়াদিল্লি পৌঁছান অভিজিৎ, সৌরভ এবং আশুতোষ। তাদের ফ্লাইট স্থানীয় সময় বেলা ১০টা ১৯ মিনিটে অবতরণ করে এবং অবতরণের পরপরই তারা আটক হন।

পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে বিক্ষোভে যোগ দিতে চাওয়ায় গুরুগ্রামে নিজ বাসভবন থেকে আটক হন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিক্ষোভের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে রাজধানীজুড়ে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে। রাজধানী জুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে; বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত চার শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে দিল্লির যন্তরমন্তর ও তার চারপাশের ৪ কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত যন্তরমন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।

এছাড়া, রাজধানী ও তার সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে যেন লোকজন সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে না পারে, সেজন্য নয়াদিল্লির ৪৫টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে ২৫০টি ট্রেন।

দিল্লির কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার সড়কে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। শেষের কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো ভেঙে পার হওয়া আরও কঠিন হয়।

সংবেদনশীল স্থানগুলোতে লাউডস্পিকার বসানো হয়েছে। এসবের মাধ্যমে রেকর্ড করা ঘোষণায় জানানো হচ্ছে, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। লোকজনকে বিক্ষোভে জমায়েত না হওয়া, স্লোগান না দেওয়া, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করা এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা না চালানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকেও (আরডব্লিউএ) জানানো হয়েছে যে বিক্ষোভের অনুমতি নেই। বিক্ষোভে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে আসা ব্যক্তিদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন লজ ও হোটেলেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। হোটেল ব্যবস্থাপকদের অতিথিদের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করতে বলা হচ্ছে। এছাড়া, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেন এমন ব্যক্তিদের এবং সম্পত্তির মালিকদেরও বিক্ষোভে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন— এমন ব্যক্তিদের কাছে তাদের সম্পত্তি ভাড়া না দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছে দিল্লি পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই এলাকায় ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে। ফলে এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চলে পরিণত হবে।

নজরদারিও জোরদার করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি জেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে এগুলোর মাধ্যমে।

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সমাবেশ সংক্রান্ত অনলাইন পোস্ট ও বার্তাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খবর অনুযায়ী, ২০০ জনেরও বেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছেন।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোতে পুলিশের অসদাচরণ ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এবারের বিক্ষোভ মোকাবিলার প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।

ঘটনাগুলো বিভিন্ন দিক থেকে নথিবদ্ধ করতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ দায়িত্বে থাকা অন্য সদস্যদেরও বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের আশা, এসব ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে, যাচাইযোগ্য প্রমাণ দিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি মোকাবিলা করা যাবে এবং কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%