প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কালসার ডাড়া বাজারে মেসার্স মোখলেছুর ট্রেডার্সের প্রোপাইটার মাইদুল ইসলাম বাবুর গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেছে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল নকল সার, কীটনাশক এবং গরুর ভুসি তৈরির অভিযোগের তদন্ত করা।
অভিযানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, নকল সাদৃশ্য সার, নকল বালাই ছত্রাক নাশক, রং ক্যামিক্যাল, ইটের রাবিশ, কাঠের গুড়া, খালি প্যাকেট, যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। গোডাউনটিতে বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য প্যাকেটের পাশাপাশি সার ও ভুসি তৈরির ১ হাজার ১১২৬ বস্তার বেশি উপকরণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া, মাইদুল ইসলাম বাবু কালসারডারা সংলগ্ন এলাকায় একটি চাতালে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গো-খাদ্যে গমের ভুসির সঙ্গে ধানের ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে ‘বসুন্ধরা’ ও ‘মণ্ডল’সহ নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করে আসছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি এসব পণ্য নিরাপদে রাখতে পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার সংলগ্ন জায়গায় গোডাউন ভাড়া নিয়েছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে, সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসন আব্দুল্লাহ্পুর বাজার সংলগ্ন সাদুল্লাপুর সীমানার আলী নগর বাদুরপুরে মাইদুল ইসলাম বাবুর নকল সার তৈরির কারখানায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নকল সারসহ সার তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয় এবং কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে রোববার (১০ অক্টোবর) পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন মাইদুল ইসলাম বাবুর দোকান সংলগ্ন কারখানায় অভিযান চালায়।
তবে অভিযানের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম বাবু ও আলহাজ্ব মোখলেছুর রহমান কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে স্থানীয় অনেকে জানিয়েছেন, তাদের ধারণা ছিল যে সেখানে কেঁচো-জৈব সার তৈরির কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। এ কারণে কারখানাটির কার্যক্রম নিয়ে তাদের তেমন সন্দেহ হয়নি। তবে প্রশাসনের অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের নকল সাদৃশ্য সার, বালাইনাশক কীটনাশক, ছত্রাকনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ তৈরির সরঞ্জাম দেখে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত উপকরণগুলো পরীক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর বোঝা যাবে, সেগুলো আসল না নকল। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে নকল পণ্য তৈরি হচ্ছিল। কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এজন্য তদন্ত সাপেক্ষে জব্দ করা পণ্যাদির পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা করা হবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, নকল সাদৃশ্য সার, নকল বালাই-ছত্রাকনাশক, রং ক্যামিক্যাল, ইটের রাবিশ, কাঠের গুড়া, খালি প্যাকেট এবং নামিদামি ব্র্যান্ডের খালি প্যাকেটসহ নানা উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়ে সার, কীটনাশক এবং ভুসি তৈরি করা হতো। প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। গোডাউনটি তালাবদ্ধ রাখার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে নকল সার কারবারিদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে ওই অঞ্চলের ভুক্তভোগী কৃষকরা। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযানে সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল রানা, পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তাজুল ইসলাম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন