ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধানে পচাগলা মরদেহ উদ্ধার


দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধানে পচাগলা মরদেহ উদ্ধার

রংপুরের তারাগঞ্জের তিস্তা সেচ ক্যানেলের ধারে পুলিশ উদ্ধার করেছে একটি পচে-গলে যাওয়া মরদেহ এবং মানুষের মাথার খুলি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে খবর পেয়ে, উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কুঠিপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ এই মরদেহ ও মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার করে। স্থানীয় মানুষের ধারণা, এটি কোনো ব্যক্তিকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন আগে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে কুঠিপাড়া এলাকায় তিস্তা সেচ ক্যানেলের ধারের জমিতে কিছু কৃষক কাজ করতে যাওয়ার সময় কাজ করার বেশ কিছু পর তীক্ষ্ণ দুর্গন্ধ অনুভব করেন। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে একটি বিচ্ছিন্ন মাথার খুলি এবং পরে শরীরের অবশিষ্টাংশ এবং পচে-গলে যাওয়া কঙ্কাল দেখা যায়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

খবর পেয়ে, তারাগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ ও মাথার খুলি উদ্ধার করে এবং একটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মরদেহটি এতটাই পচে-গলে গেছে যে এটি চেনার কোনো উপায় নেই। জনমানবহীন এই সেচ ক্যানেলের ধারে আক্রমণকারীরা সম্ভবত অন্য কোথাও হত্যা ঘটিয়ে লাশটি এখানে লুকিয়ে রেখেছিল।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষার পরেই কেবল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলা কিউআর ডিজিটাল লেনদেনে নতুন দিগন্ত, শেষ হচ্ছে কি নগদ টাকার যুগ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


বাংলা কিউআর ডিজিটাল লেনদেনে নতুন দিগন্ত, শেষ হচ্ছে কি নগদ টাকার যুগ?

অবকাঠামো এবং প্রযুক্তির আধুনিকতায় দেশ এগিয়ে গেলেও, মাঠপর্যায়ের অর্থনৈতিক মডেলে এখনও রয়েছে বিস্তর ফারাক। এই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, কাগজে-কলমে নতুন এক যুগান্তকারী সমাধান নিয়ে এসেছে ইন্টারঅপারেবল বা সর্বজনীন লেনদেন মাধ্যম ‘বাংলা কিউআর’৷

এতদিন দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) যেমন বিকাশ, নগদ বা রকেটের নিজস্ব আলাদা কিউআর কোড থাকায়, এক অ্যাপের মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করা সম্ভব ছিল না। এই দৃশ্যমান জটিলতা দূর করে দেশের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে একক প্ল্যাটফর্মে আনতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সর্বজনীন সমন্বিত ব্যবস্থা।

এখন থেকে দেশের যেকোনো নাগরিক, যার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, কার্ড কিংবা সচল এমএফএস ওয়ালেট আছে, তিনি এই একটিমাত্র কোড স্ক্যান করেই সেরে নিতে পারবেন যাবতীয় লেনদেন। অন্যদিকে ফুটপাতের হকার, মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—সব স্তরের ব্যবসায়ীরা এই একটি কিউআর কোড প্রদর্শন করেই সবার কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।

এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে, দেশের ছোট-বড় খুচরা ব্যবসার ধরন অনেকটাই বদলে যাবে। আগে যেখানে একটি দোকানের ক্যাশ কাউন্টারে ৪-৫টি ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানির কিউআর কোডের স্ট্যান্ড সাজিয়ে রাখতে হতো, সেখানে এখন থেকে কেবল একটি ‘বাংলা কিউআর’ ঝুলিয়ে রাখলেই চলবে।

ফলে গ্রাহকের ফোনে যে অ্যাপই সচল থাকুক না কেন, তিনি ওই একটি কোড স্ক্যান করেই পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের সাথে হিসাব মেলাতে হবে না, একটিমাত্র ব্যাংক বা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই সব লেনদেন সম্পন্ন হবে।

এতে কাগজের নোট মুদ্রণ এবং তা রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের যে বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়, তা ধাপে ধাপে কমে আসবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই ব্যবস্থার নাম ‘ইউপিআই’ (ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস)। সেখানে সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় শপিংমল—সবাই একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করছে এবং প্রতিদিন সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন সম্পূর্ণ ক্যাশলেস বা নগদ টাকা ছাড়াই হচ্ছে।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই প্রযুক্তির নানামুখী অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধা রয়েছে। এর প্রধান সুবিধা হলো পকেটে নগদ টাকা বা প্লাস্টিক কার্ড বহনের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং যেকোনো কেনাকাটায় গ্রাহকের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা কোনো অতিরিক্ত হিডেন চার্জ ছাড়াই পেমেন্ট করার সুযোগ।

২ টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো অঙ্কের ভগ্নাংশ টাকাও এখানে নিখুঁতভাবে পেমেন্ট করা যায় এবং এর ফলে খুচরা টাকার সংকট দূর হবে। এছাড়া প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড অ্যাপে সংরক্ষিত থাকায় মাস শেষে ব্যক্তিগত খরচের হিসাব রাখা সহজ হয় এবং পকেটে টাকা হারিয়ে যাওয়া বা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি থাকে না।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে বড় লাভ হলো, ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে তাদের একটি নির্ভরযোগ্য 'ডিজিটাল ক্রেডিট প্রোফাইল' তৈরি হবে, যা পর্যালোচনা করে ব্যাংকগুলো পরবর্তীতে তাদের জামানতবিহীন ব্যবসা ঋণ দিতে উৎসাহিত হবে।

তবে এই নতুন পেমেন্ট প্রক্রিয়া ও এর কার্যকারিতার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মনে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। প্রথমত, পুরোনো একক কিউআর কোডগুলো হুট করে বন্ধ হচ্ছে না, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সেগুলোকে বাংলা কিউআর স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তর করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, গ্রাহক যিনি অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করে টাকা পাঠাবেন, তার ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ থাকা বাধ্যতামূলক। তবে বিক্রেতা বা মার্চেন্টের ফোনে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট না থাকলেও চলে, কারণ পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথে তার মোবাইলে সাধারণ এসএমএস নোটিফিকেশন চলে আসে।

তৃতীয়ত, বিদেশি নাগরিক বা প্রবাসীরাও এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, যদি তারা বাংলাদেশে সচল কোনো সিম ও স্থানীয় ব্যাংক/এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করেন কিংবা বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত কোনো ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভিসা বা মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে স্ক্যান করেন।

যদিও কাগজে-কলমে উদ্যোগটি অত্যন্ত সম্ভবনাময়, তবে মাঠপর্যায়ে এর সফল বাস্তবায়নে কিছু দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী এই প্রযুক্তিকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে বলেন, মানুষ দীর্ঘকাল ধরে নগদ লেনদেনে অভ্যস্ত থাকায়, এই দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলাতে রাষ্ট্রকে ব্যাপক গণ-প্রচারণা চালাতে হবে। জনগণ নিজে থেকে উদ্বুদ্ধ না হলে, এই প্রযুক্তি গতি পাবে না। তথ্যগুলো ডকুমেন্টেড হয়ে যাচ্ছে এবং এসব ব্যবহার করে তাদের উপর ট্যাক্স বসানো হতে পারে—এমন শঙ্কায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পিছুটান দিতে পারে।

যেখানে ভারতে ইউপিআই সম্পূর্ণ ফ্রি, সেখানে আমাদের যদি এটি প্রথমেই সমস্যা হিসেবে তাদের কাছে যায়, তবে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এই সংকট উত্তরণে মুস্তফা কামাল মুজেরী ‘ক্রস-সাবসিডাইজেশন’ বা ‘ডিফারেন্সিয়াল প্রাইসিং’-এর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ভারতে যেভাবে করে, ঠিক সেভাবে আমাদেরও বড় করপোরেট সেক্টর বা যাদের সামর্থ্য আছে তাদের জন্য চার্জের হার বেশি করা এবং ক্ষুদ্রদের জন্য রেট কম করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে সরকারকে হয়তো নতুন করে ভর্তুকি দিতে হবে না।

পলিসি ও চার্জ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু গুরুতর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন। বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন তার পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলা কিউআর-এর ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চার্জ, যা মূলত মার্চেন্ট বা ক্ষুদ্র দোকানিকে প্রদান করতে হবে। একজন প্রান্তিক দোকানি যেখানে নগদ টাকায় লেনদেন করলে পুরো টাকা হাতে নেন, সেখানে ডিজিটালি পেমেন্ট নিলে যদি টাকা কম পান, তবে তিনি এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংক মার্চেন্ট ফি ভ্যাটসহ ১ শতাংশ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। যার সহজ অর্থ প্রকাশ পায়—ক্রেতা বা ভোক্তা নয়, বরং বিক্রেতা বা মার্চেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকে এই ১ শতাংশ ফি কেটে নেয়া হবে। অর্থাৎ, একজন ক্রেতা কিউআর স্ক্যান করে ১ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১ হাজার টাকা কেটে যাবে, কিন্তু বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে হাজারে ১০ টাকা কেটে জমা হবে ৯৯০ টাকা।

বাকি প্রায় ১০ টাকা (ভ্যাটসহ ১ শতাংশ এমডিআর) সেবা ফি হিসেবে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক বা পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পাবে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর টাকা ছাপাতে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে জাকারিয়া স্বপন বলেন, সরকার যদি ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করে টাকা ছাপানোর খরচ অর্ধেকও কমাতে পারে, তবে সেই সাশ্রয় হওয়া ১০ হাজার কোটি টাকা আগামী ৩-৪ বছর এই খাতে ভর্তুকি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এটি কেবল একটি খরচ নয় বরং একটি 'সাবসিডি ইনভেস্টমেন্ট'। পদ্মা সেতুর মতো অবকাঠামোতে বিনিয়োগ হলে, এই ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারে কেন বিনিয়োগ করা হবে না? ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের ভয় দূর করতে যদি অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত লেনদেন খরচ শূন্য করা না হয়, তবে এটিও একটি ব্যর্থ প্রজেক্টে পরিণত হতে পারে।

প্রান্তিক মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং আইনগত অবকাঠামোগত জটিলতা বিশ্লেষণ করে অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রথমত এটাকে ঝামেলা মনে করবে। দ্বিতীয়ত, যদি দেখে এখানে কম বা বেশি বড় কথা নেই, তাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে, তাহলে তারা এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

চার্জের বোঝা দূর করা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং করের ভীতি দূর করে যদি সাধারণ ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করা যায়, তবেই হয়তো কাগজের নোটের নির্ভরতা কমিয়ে 'ক্যাশলেস বাংলাদেশ' গড়ার স্বপ্ন শহরের শপিংমলে সীমাবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে পড়বে দেশের প্রতিটি গলির মোড়ে, চায়ের দোকানে, সেখানেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিত্যপণ্যের বাজারে নজর রাখবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


নিত্যপণ্যের বাজারে নজর রাখবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

সরকার ক্রমবর্ধমান নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩০টি পণ্যের বাজার পরিস্থিতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন, আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানির প্রয়োজনীয়তা এবং সরবরাহব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার বিকেলে সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই বিষয়ে বলেন, এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে বাজার তদারকি আরও প্রাতিষ্ঠানিক, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে। এতে যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয় অথবা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, তাহলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সরকার এই দুটি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ করে বলা হয়েছে যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে বহুতল ভবন নির্মাণ করে এক ছাতার নিচে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি চা-বাগান এলাকায় বর্তমানে থাকা পাঠদান কেন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সেখানেও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রপ্তানি পরিস্থিতি সম্পর্কিত কথা বলতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও রপ্তানি কমেছে। বিশেষ করে জ্বালানিসংক্রান্ত কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকার কাজ করছে।

শিল্পায়নের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের দুটি বিসিক শিল্প এলাকাকে সম্প্রসারণ করে ২০০ একরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের শিল্পায়নের গতিতেও যে অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে সেটা উল্লিখিত।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী তার স্বেচ্ছাধীন তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ করেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য হুইলচেয়ার, অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য ছাগলের খাদ্য বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সদর কৃষি অফিস আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেস কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাল যার, জলা তার’ নীতিতে হাওর ব্যবস্থাপনা চলবে বলে জানালেন মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০২ পি.এম


জাল যার, জলা তার’ নীতিতে হাওর ব্যবস্থাপনা চলবে বলে জানালেন মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

‘জাল যার, জলা তার’ নীতিতে দেশের হাওর ও নদী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'নদী ও জলাশয়ের নাব্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে, যাতে মাছের উৎপাদন বাড়ে এবং মৎস্যজীবীরা মাছ ধরে খেতে পারেন। সব জলাশয়কে উন্মুক্ত করা হবে।'

হাওর পরিদর্শনের সময় মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচি ছাড়াও মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কৃষক ও জেলেদের নিয়ে পৃথক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি। এসব সমাবেশে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করে হাওরের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করেছেন।

সমাবেশগুলোতে বক্তারা হাওরাঞ্চলের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জেলে-কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা জানান, হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পরে মদন উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত জনসমাবেশেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। জনসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।

এদিকে, সকালে নেত্রকোনা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সম্প্রতি জলাবদ্ধতায় হাওরের ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা তালিকার অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি বলেন, 'আসলে এই তালিকাটা করা হয়েছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে। মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন প্রশাসন সময় পেয়েছে। এর মধ্যেই করেছে। এতে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে, আমিও জানি। একই পরিবারের অনেকের নামে যেগুলো হয়েছে, ওগুলো সব স্থগিত করা হয়েছে। নতুন করে তালিকা করা এখন আর সম্ভব না। আর ক্ষতিগ্রস্ত মোটামুটি সবাই পেয়েছে।'

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'অতীত নিয়ে ভাবছি না, সরকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

বাংলাদেশের পার্লামেন্টের স্পিকার, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরহুম খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।

শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তেহরানে ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির (পার্লামেন্ট) স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে, স্পিকার গালিবাফ বাংলাদেশের স্পিকার তথা তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।

বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই জাতীয় শোকের সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে ইরানের সরকার এবং দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি জানানো হচ্ছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন বন্ধুত্ব, গভীর সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বৈঠকে সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইরানের স্পিকারের গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ইরানসহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বাংলাদেশ এই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন বজায় রাখবে এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাটি বজায় রাখতে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে ইরানের ডেপুটি স্পিকারসহ দেশটির ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্যরা এবং তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%