০৮:১৩ পি.এম
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আট বছর বয়সী একটি শিশুকে চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই নির্যাতন অব্যাহত ছিল। এ ঘটনায় শিশুটির মা শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজারহাট থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায়কে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি কুমারগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় কৃষক। স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এজাহার এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় ভুক্তভোগী শিশুটির দূরসম্পর্কের দাদা (দাদু)। পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন। তিনি চকলেট, চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে প্রায়ই কোলে তুলে নিতেন বা দোকানে যাওয়ার বাহানায় ডেকে আনতেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অবুঝ শিশুটিকে ফুসলিয়ে তিনি প্রায়ই নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতেন। সেখানে হাত-পা টিপানোর অজুহাতে তিনি তার ওপর বিকৃত যৌন নিপীড়ন চালাতেন। লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে শিশুটি বিষয়টি দীর্ঘদিন পরিবারে গোপন রেখেছিল।
সর্বশেষ ১৫ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অভিযুক্ত নারায়ণ চন্দ্র রায় শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে সেখানে হাত-পা টেপানোর অজুহাতে শিশুটির ওপর চরম যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এই সময় শিশু প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথায় চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত বৃদ্ধ ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য কঠোর হুমকি দেন এবং শিশুটিকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
নির্যাতনের শিকার শিশুটি বাড়িতে ফিরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও অসুস্থতায় ভুগতে থাকলে বিষয়টি তার মায়ের নজরে আসে। এক পর্যায়ে শিশুটি তাকে সকল ঘটনা বলে দেয়।
এই ঘটনার কারণে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয় কমিটির সভাপতির এমন বিকৃত লালসার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনাটির সত্যাতা নিশ্চিত করে জানান, শিশু নির্যাতনের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন