প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ। হাজারো মানুষের প্রাণ প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে মহাদেশটিতে নতুন আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘ভিব্রিও’ (Vibrio) নামের একটি মাংসখেকো ও প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া। এই বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ এখন শুধু ইউরোপের মূল ভূখণ্ডেই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের সৈকতগুলোর জন্যও একটি বড় হুমকি তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এমনই ভয়ংকর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিব্রিও একটি ধরণের ব্যাকটেরিয়া, যা সাধারণত উষ্ণ বা নোনা পানিতে জন্মায় এবং গ্রীষ্মের তীব্র গরমে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিএস) স্যাটেলাইট ডেটা ও সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে একটি ম্যাপ তৈরি করেছে। এই ম্যাপটি সংক্রমণের ঝুঁকির জায়গাগুলো চিহ্নিত করছে।
সংস্থাটি বলছে, এ বছর সংক্রমণের ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধির জন্য ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, জার্মানি ও পোল্যান্ডের উপকূলবর্তী এলাকাগুলো বেশ উপযোগী হয়ে উঠেছে এবং এর কারণ হল বাল্টিক সাগরের লবণাক্ততা কমে যাওয়া ও তাপমাত্রার বৃদ্ধি। এছাড়া ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরে লবণাক্ততা বেশি থাকার কারণে সাধারণত ঝুঁকি কম থাকে, তবে ভারী বৃষ্টির পর নদীর মোহনাগুলোতে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো সম্পর্কে ইসিডিএস জুলাই মাসের শুরুতে আটটি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই দেশগুলো হলো— বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও সুইডেন। এছাড়া জার্মানির, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে গত মাসে স্পেনের কিছু সৈকতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে সেগুলোকে সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পানি কোনও ক্ষত বা কাটাছেঁড়ার সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। দূষিত সামুদ্রিক খাবার খেলে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমি ও জ্বর হতে পারে। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হলে লালচে হওয়া, ফোলা ও ব্যথার উপসর্গ দেখা দিতে পারে এবং এটি কানের সংক্রমণও ঘটাতে পারে। সঠিক চিকিৎসা না হলে এই সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে সেপসিস সৃষ্টি করতে পারে, যা জীবননাশের কারণ হতে পারে। শিশুদের জন্য সাঁতারের সময় ভুলবশত পানি গিলে ফেলা ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফ্রান্সিস হাসার্ডের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম হলেও লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিদের জন্য এটি বিপজ্জনক হতে পারে। নতুন ট্যাটু, সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের ক্ষত বা কাটাছেঁড়া শরীর নিয়ে সমুদ্রে নামা উচিত নয়। এছাড়া কাঁচা বা অর্ধেক রান্না করা শেলফিশ (যেমন অয়েস্টার) খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি সমুদ্রের পানি থেকে উঠার পর ক্ষতস্থানে দ্রুত ফোলা, লালচে ভাব বা প্রচণ্ড ব্যথা হয়, তবে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন