১০:৩৯ পি.এম
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এক বিরল প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হতে হল পর্যটকদের। গভীর সমুদ্রে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানের পরে একটি টর্নেডো উপকূলের দিকে ধেয়ে এসে আঘাত হানে। টর্নেডোটি সমুদ্রসৈতের সুগন্ধা ও সী-গাল পয়েন্ট এলাকায় আক্রমণ করে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ২ টা ২০ মিনিটের দিকে এটি উপকূলে আঘাত হানলেও স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড।
দুর্বল প্রকৃতির এই টর্নেডোতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন, যার মধ্যে পর্যটক, হকার এবং ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ী রয়েছেন, এছাড়া বেশ কিছু ছাতা ও চেয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় লাইফ গার্ড সদস্যরা দ্রুত সতর্কতা জারি করে পানিতে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে বের করে আনেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বে থাকা সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টো জানান, ১৭ জুলাই ২০২৬ সালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী পয়েন্টের সোজা গভীর সমুদ্রে একটি টর্নেডো সৃষ্টি হয়। এটি প্রায় ২০ মিনিট গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছিল, এই সময় সৈকতে থাকা অসংখ্য পর্যটক বিরল এই প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।
পরবর্তীতে টর্নেডোটি উপকূলের দিকে আসতে শুরু করায় লাইফ গার্ড সদস্যরা সতর্কতা হিসেবে বাঁশি (উইসেল) বাজিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে উঠে আসার জন্য সতর্ক করেন। তবে অনেকে প্রথমে সেই সতর্কসূচক বার্তাগুলো গুরুত্ব দেননি।
জয়নাল আবেদীন ভূট্টো আরও বলেন, একপর্যায়ে টর্নেডোটি সুগন্ধা পয়েন্ট অতিক্রম করে সিগাল পয়েন্ট দিয়ে উপকূলে উঠে আসে। উপকূলে অবস্থানের সময় এটি প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রয়ে যায়। এ সময় পর্যটক, হকার ও ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ীসহ আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। এছাড়া সৈকতে থাকা ১০ থেকে ২০টি ছাতা ও চেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছে দেখা দেওয়া ঘূর্ণিবাতাসটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। তিনি জানান, এই বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
তিনি বলেন, টর্নেডো সাধারণত অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়া উচিত। টর্নেডোর মূল ঘূর্ণি বা ফানেল অংশের সংস্পর্শে আসলে মানুষ ও বিভিন্ন বস্তু বাতাসে ১০০ ফুট উঁচুতে উঠে যেতে পারে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। তাই এই পরিস্থিতিতে বিন্দুমাত্র কৌতূহলবশত কাছাকাছি অবস্থান করাটা উচিত নয়।
আব্দুল হান্নান আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টর্নেডোর ঘটনা দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে এর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটে। বাংলাদেশেও অতীতে কয়েকটি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী টর্নেডোর ঘটনা ঘটে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রবণতা বেশি দেখা যায়, তবে অনুকূল আবহাওয়া এবং বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির সৃষ্টিতে বছরের অন্য সময়েও টর্নেডো সৃষ্টি হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন