১১:২২ পি.এম
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাবের ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামপুর ডাকবাংলোতে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক পরামর্শ সভার সময় এই ঘটনা ঘটে।
ইসলামপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নবাব জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবু গত সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার বড় মেয়ে নাফিসা শাফিস বিন্তী এককভাবে এমপি ও দলীয় স্থানীয় নেতাদের ওপর খবরদারি করে আসছিলেন। উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হওয়ার সুবাদে, তিনি ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ, টিআর, কাবিখা, খাল খনন থেকে শুরু করে সরকারি সকল বরাদ্দ বণ্টনে একক আধিপত্য চালিয়ে আসছিলেন। এই কারণে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি বলেছেন, শুক্রবার উপজেলার মলমগঞ্জ মডেল কলেজে একটি মতবিনিময় সভা ছিল। এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এমপি কন্যার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ডাকবাংলোতে নতুন ইউএনও ও ওসি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পরামর্শ সভা করার সময় হঠাৎ এমপির মেয়ে বিন্তীর কর্মী সমর্থকরা ইসলামপুর ডাকবাংলোতে থাকা তার ব্যবহৃত এক্স নোয়া গাড়িটি ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে সেখানে থাকা এমপির একটি নোয়া গাড়িও তারা ভুলবসত ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন ইউএনওর যোগদান উপলক্ষে পরিচিত সভার উদ্দেশ্যে তিনি ডাকবাংলোতে পরামর্শ সভা করছিলেন। এসময় ডাকবাংলোতে থাকা তার গাড়িটি কে বা কারা ভাঙচুর করে।
তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি ওসিকে তার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি থানায় নিয়ে যেতে বলেন এবং তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন এমপি জানান, ঘটনাটি শোনার পর বিস্তারিত জানার জন্য তিনি এমপি সুলতান মাহমুদ বাবুকে ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু এমপি তার ফোন রিসিভ করেননি।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তিনি বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানার পর পরবর্তীতে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, এমপি ও দলের সাধারণ সম্পাদকের দুটি গাড়িই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে। দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন