বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১৬ পি.এম
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, এবং দুবাইয়ের শাসক মহামহিম শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ছোট ভাই শেখ আহমদ বিন রশিদ আল মাকতুম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ৭৬ বছর বয়সে রাজপরিবারের এই জ্যেষ্ঠ সদস্য ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক পালনকালীন পুরো আমিরাতের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় দুবাইয়ের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড জাবিল মসজিদে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমসহ আল মাকতুম রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে তাকে রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী উম্মে হুরাইর কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। দাফন পরবর্তী তিন দিন জাবিল মজলিসে বিকেল ৪টা থেকে মাগরিব পর্যন্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শোক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ আহমদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে দুবাইয়ের রাজপরিবার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামহিম শেখ আহমেদ বিন রশিদ আল মাকতুমের ইন্তেকালের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।’
মরহুমের রহের মাগফিরাত কামনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘মহান আল্লাহ তার বিদেহী রুহের ওপর অসীম রহমত বর্ষণ করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। একইসঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন।’
দুবাই শাসকের আবেগঘন শ্রদ্ধা
প্রিয় ছোট ভাইয়ের বিদায়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আহমদ, তুমি আমাদের চোখের আড়ালে চলে গেছ, কিন্তু আমাদের দোয়া ও হৃদয় থেকে কখনো হারিয়ে যাবে না। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতের সুবিস্তৃত স্থানে স্থান দিন এবং আমাদের ধৈর্য ধারণের শক্তি দিন।’
এ ছাড়া দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হামদান বিন মোহাম্মদও তার চাচার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে প্রার্থনা করেছেন।
মরহুম শেখ আহমদ ছিলেন আধুনিক দুবাইয়ের রূপকার ও প্রাক্তন শাসক শেখ রাশিদ বিন সাঈদ আল মাকতুমের কনিষ্ঠ সন্তান। ১৯৫৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শেখ রাশিদের শাসন আমলে দুবাইয়ের যে আধুনিক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, তার অগ্রযাত্রায় শেখ আহমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত রয়্যাল একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে উচ্চতর সামরিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজান। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দুবাই পুলিশ ও জননিরাপত্তা বিভাগের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা খাতের বাইরেও দুবাইয়ের আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক হাবে রূপান্তরের পেছনে তার অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি দুবাইয়ের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘এআরএম হোল্ডিং’ এবং দুবাই রিয়েল এস্টেট সেন্টারের গ্রুপ চেয়ারম্যান ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে আবাসন, আতিথেয়তা (হসপিটালিটি), হেলথ টেক, টেলিকম ও ব্যাংকিং খাতে দুবাইয়ের অর্থনীতি বিশাল গতি লাভ করে।
ক্রীড়াক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম শীর্ষ পৃষ্ঠপোষক। তিনি দুবাইয়ের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ‘আল ওয়াসল স্পোর্টস ক্লাব’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার দিকনির্দেশনাতেই ক্লাবটি আমিরাতের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে একের পর এক সাফল্য লাভ করে।
ঘোড়দৌড় ও অশ্বারোহণ অঙ্গনেও শেখ আহমদের বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছিল। তিনি জেবেল আলি রেসকোর্স এবং জেবেল আলি স্টেবলস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আন্তর্জাতিক রেসিং কমিউনিটিতে সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার মালিকানাধীন ঘোড়াগুলো আইরিশ ২০০০ গিনির মতো মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক রেসিং প্রতিযোগিতায় বহুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্বনেতারা এই প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আমিরাতের গণমাধ্যমগুলো একে দেশটির জাতীয় ও ক্রীড়া ইতিহাসের একটি যুগের অবসান বলে অভিহিত করেছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অ্যাপল, আইফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচারের সক্ষমতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রাহকদের ২৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি মামলা নিষ্পত্তির জন্য এই অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অ্যাপলের বিজ্ঞাপনে ‘সিরি’র বিভিন্ন এআই সক্ষমতার কথা বলা হলেও, সেসব ফিচারের কিছু বাস্তবে কার্যকর ছিল না। ফলে, ওই বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে গ্রাহকেরা আইফোন কেনার জন্য প্ররোচিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যেভাবে ক্ষতিপূরণের আবেদন
নির্দিষ্ট কিছু আইফোন মডেলের ক্রেতারা এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর। আগামী ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
যোগ্য গ্রাহকেরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে পারবেন। একই সময়ের মধ্যে চাইলে তারা মামলা থেকে নিজেদের প্রত্যাহারও করতে পারবেন।
কারা ক্ষতিপূরণ পাবেন
২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে বিক্রি হওয়া আইফোন ১৬ সিরিজ, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স কিনেছেন এমন গ্রাহকেরা এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়বেন।
তবে, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। গ্রাহককে সংশ্লিষ্ট আইফোনের মূল বা প্রথম মালিক হতে হবে এবং ফোনটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হতে হবে।
যোগ্য গ্রাহকেরা প্রতি ডিভাইসের জন্য ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে, চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ কত হবে, তা কতজন যোগ্য গ্রাহক দাবি জমা দেন তার ওপর নির্ভর করবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ফাইভ নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণের আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি আদালতে শুনানি হবে। আদালত নির্ধারণ করবে নিষ্পত্তিটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পর্যাপ্ত কি না।
এ বিষয়ে আগামী বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, পবিত্র রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ। ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং সুফি অনুসারীদের কাছে এই দিনটি ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ নামে পরিচিত। কাদেরিয়া সুফি ধারার প্রতিষ্ঠাতা, প্রখ্যাত আলেম এবং আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শেখ আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর স্মরণে বিভিন্ন স্থানে দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত, ইসালে সওয়াব এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে দোয়া, মোনাজাত বা কোনো বুজুর্গ ব্যক্তির রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন তিলাওয়াত ও ইসালে সওয়াব করা। ফারসি ‘ইয়াজদহম’ শব্দের অর্থ এগারো। সুতরাং ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ বলতে রবিউস সানির ১১ তারিখে আয়োজিত ফাতিহা বা ইসালে সওয়াবের অনুষ্ঠানকে বোঝানো হয়।
কে ছিলেন আবদুল কাদির জিলানি
হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ৪৭০ হিজরি বা ১০৭৮ খ্রিষ্টাব্দে ইরানের জিলান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি বাগদাদে যান জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে। সেখানে তাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং আরবি সাহিত্যে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন এবং পরবর্তীকালে একজন বিশিষ্ট আলেম ও আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
কাদেরিয়া তরিকার সঙ্গে তার নাম গভীরভাবে যুক্ত। সুফি ঐতিহ্যে তিনি ‘গাউসুল আজম’ এবং ‘বড়পীর’ নামে পরিচিত। তার নামে প্রচলিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘গুনিয়াতুত তালিবিন’, ‘ফাতহুল গাইব’ এবং ‘আল-ফাতহুর রাব্বানি’।
তার বয়ান, ধর্মীয় শিক্ষা এবং আধ্যাত্মিক নসিহত তৎকালীন বাগদাদে ব্যাপকভাবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ইসলামী জ্ঞান, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক জীবনযাপনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কেন পালিত হয় ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম
প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তার স্মরণে রবিউস সানির ১১ তারিখে কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-সদকা এবং ইসালে সওয়াবের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনই ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ নামে পরিচিত।
এ উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলে তার জীবন, দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিক আদর্শ এবং সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভক্ত এবং অনুসারীরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব
ফাতিহা-ই-ইয়াজদহমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আলোচনা এবং ইসালে সওয়াবের আয়োজন হলেও, এ দিনের মূল শিক্ষা হিসেবে আত্মশুদ্ধি, সততা, আমানতদারিতা, নৈতিকতা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।
আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর জীবন এবং শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তিজীবনে সত্যবাদিতা, সংযম এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তার অনুসারীরা। তাদের মতে, নির্দিষ্ট একটি দিনে স্মরণ নয়, বরং সারা বছর এসব নৈতিক এবং ধর্মীয় শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত এ স্মরণের মূল উদ্দেশ্য।
তবে ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা এবং আয়োজনের শরয়ি বৈধতা নিয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত আড়ম্বর, অপচয় অথবা ধর্মীয়ভাবে ভিত্তিহীন কোনো রীতিকে এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক করেন অনেক আলেম।
আজকের এই দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআনখানি, দোয়া-মাহফিল, আলোচনা সভা এবং ইসালে সওয়াবের আয়োজন করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুবদল রাজপথে থাকবে বলে জানিয়েছেন যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। তিনি বলেন, "পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় যুবদল রাজপথে থাকবে।"
মোনায়েম মুন্না জানান, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে যুবদল কাজ করছে। তিনি বলেন, "দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে।"
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুবদল সভাপতি বলেন, "গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার ভিত্তিতে বিএনপি বিজয় অর্জন করেছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপি এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ম্যান্ডেট দিয়েছে।"
মোনায়েম মুন্না বলেন, "বর্তমানে তারেক রহমান জনগণের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।" তিনি যোগ করেন, "জনগণের জন্য কাজ করার পাশাপাশি দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেও কাজ করছে সরকার।"
তিনি আরও বলেন, "বিএনপি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছে।" মোনায়েম মুন্না জানান, "বর্তমান সরকার জনগণের জন্য কাজ করছে এবং যুবদল সেই লক্ষ্যকে ধারণ করে রাজপথে রয়েছে।"
মোনায়েম মুন্না বলেন, "বিভিন্ন সময়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জাতীয় সম্পদের ক্ষতি হলে সরকারকে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কঠোরভাবে তা প্রয়োগ করতে হবে।"
যুবদল সভাপতি বলেন, "আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার জন্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, "জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ১৭ বছর ধরে যুবদলের নেতাকর্মীরা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, "ক্ষমতা অর্জন তাদের লক্ষ্য ছিল না। লক্ষ্য ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।"
নুরুল ইসলাম নয়ন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের প্রতিটি থানা ও ইউনিটের নেতাকর্মীদের যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে, সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতারা দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সংগঠনের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। পরে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে যুবদলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে নিয়োগপত্র জারি করার জন্য ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে মন্ত্রণালয় থেকে এই রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আগামী ১ অক্টোবর তাদের যোগদান করতে হবে। এরপর ৪ অক্টোবর তাদের পদায়নের আদেশ জারি করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখে যোগদানের অনুমোদন প্রদান করেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ) অনুষ্ঠিত হয়।
এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। ৮ ফেব্রুয়ারি জেলাভিত্তিক চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ