প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, পবিত্র রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ। ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং সুফি অনুসারীদের কাছে এই দিনটি ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ নামে পরিচিত। কাদেরিয়া সুফি ধারার প্রতিষ্ঠাতা, প্রখ্যাত আলেম এবং আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শেখ আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর স্মরণে বিভিন্ন স্থানে দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত, ইসালে সওয়াব এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে দোয়া, মোনাজাত বা কোনো বুজুর্গ ব্যক্তির রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন তিলাওয়াত ও ইসালে সওয়াব করা। ফারসি ‘ইয়াজদহম’ শব্দের অর্থ এগারো। সুতরাং ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ বলতে রবিউস সানির ১১ তারিখে আয়োজিত ফাতিহা বা ইসালে সওয়াবের অনুষ্ঠানকে বোঝানো হয়।
কে ছিলেন আবদুল কাদির জিলানি
হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ৪৭০ হিজরি বা ১০৭৮ খ্রিষ্টাব্দে ইরানের জিলান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তিনি বাগদাদে যান জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে। সেখানে তাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং আরবি সাহিত্যে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন এবং পরবর্তীকালে একজন বিশিষ্ট আলেম ও আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
কাদেরিয়া তরিকার সঙ্গে তার নাম গভীরভাবে যুক্ত। সুফি ঐতিহ্যে তিনি ‘গাউসুল আজম’ এবং ‘বড়পীর’ নামে পরিচিত। তার নামে প্রচলিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘গুনিয়াতুত তালিবিন’, ‘ফাতহুল গাইব’ এবং ‘আল-ফাতহুর রাব্বানি’।
তার বয়ান, ধর্মীয় শিক্ষা এবং আধ্যাত্মিক নসিহত তৎকালীন বাগদাদে ব্যাপকভাবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ইসলামী জ্ঞান, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক জীবনযাপনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কেন পালিত হয় ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম
প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তার স্মরণে রবিউস সানির ১১ তারিখে কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-সদকা এবং ইসালে সওয়াবের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনই ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ নামে পরিচিত।
এ উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলে তার জীবন, দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিক আদর্শ এবং সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভক্ত এবং অনুসারীরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।
আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব
ফাতিহা-ই-ইয়াজদহমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আলোচনা এবং ইসালে সওয়াবের আয়োজন হলেও, এ দিনের মূল শিক্ষা হিসেবে আত্মশুদ্ধি, সততা, আমানতদারিতা, নৈতিকতা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।
আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর জীবন এবং শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তিজীবনে সত্যবাদিতা, সংযম এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তার অনুসারীরা। তাদের মতে, নির্দিষ্ট একটি দিনে স্মরণ নয়, বরং সারা বছর এসব নৈতিক এবং ধর্মীয় শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়ন করাই হওয়া উচিত এ স্মরণের মূল উদ্দেশ্য।
তবে ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম উপলক্ষে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা এবং আয়োজনের শরয়ি বৈধতা নিয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত আড়ম্বর, অপচয় অথবা ধর্মীয়ভাবে ভিত্তিহীন কোনো রীতিকে এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক করেন অনেক আলেম।
আজকের এই দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআনখানি, দোয়া-মাহফিল, আলোচনা সভা এবং ইসালে সওয়াবের আয়োজন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন