০৪:৫৩ পি.এম
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনার কারণে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফার সঙ্গে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যদি ফিফা তাদের প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বা অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে বিশ্বকাপসহ ফিফার নানা টুর্নামেন্ট বয়কটের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে যে, বিষয়টি নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ৫৫টি সদস্য দেশকে নিয়ে একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসবে উয়েফা। বৈঠকে ফিফার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে করণীয় এবং সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
ফিফা বিশ্বকাপসহ নিজেদের বৃহৎ টুর্নামেন্টগুলোর পরিচালনার জন্য একটি নতুন বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই প্রতিষ্ঠানে বাইরের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার সুযোগ পাবেন। ফিফার দাবি হলো, এখান থেকে অর্জিত অর্থ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন এবং সদস্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
কিন্তু উয়েফার আশঙ্কা হচ্ছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বেসরকারি স্বার্থের হাতে চলে যাবে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে আসলে উয়েফা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থাটির মন্তব্য, ফিফা এবার "সীমা লঙ্ঘন করেছে"।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, জরুরি বৈঠকে ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে। এরই মধ্যে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) অভিযোগ করেছে, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি।
বিশ্ব ফুটবলে উয়েফার প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিফার সদস্যসংখ্যার তুলনায় উয়েফার সদস্য দেশ সংখ্যা কম হলেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ জাতীয় দলই ইউরোপের অন্তর্ভুক্ত। ফলে ইউরোপীয় দলগুলো অংশ না নিলে ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর প্রতিযোগিতামূলক মান ও বাণিজ্যিক মূল্য উভয়ই বড় ধাক্কা খেতে পারে।
এদিকে ফিফার দাবি হলো, বৈশ্বিক ফুটবলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই নতুন অর্থায়নের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের মাঝে আশঙ্কা রয়েছে, অতিরিক্ত আয়ের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ, নারী বিশ্বকাপ কিংবা ক্লাব বিশ্বকাপ আরও ঘন ঘন এবং বেশি দল নিয়ে আয়োজন করা হতে পারে। এতে বর্তমান সময়কে নিয়োগকৃত ফুটবলারদের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইংলিশ ফুটবলের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ফিফার এই পরিকল্পনা ২০২১ সালের বিতর্কিত ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্পের মতো ফুটবলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যদিও সুপার লিগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভেস্তে গেলেও ফিফা এত সহজে পিছু হটবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ সংস্থাটি উন্নয়ন তহবিল ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পাশাপাশি ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটিকে সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত এককালীন অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনাও জানিয়েছে।
ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কের টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালে প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান ও আর্সেনালের সাবেক কোচ আর্সেন ভেঙ্গার। তখনও কড়া বিরোধিতা করেছিল উয়েফা। সাম্প্রতিক সময়েও দুই সংস্থার মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে, যা নতুন এই বিতর্কে আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন