ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্থানীয় নির্বাচন: ২৭ আগস্ট প্রকাশ করবে ইসি চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা


স্থানীয় নির্বাচন: ২৭ আগস্ট প্রকাশ করবে ইসি চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে। এর পরে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) নির্বাচন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

এতে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের (জেলা পরিষদ ব্যতীত) নির্বাচন আয়োজনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ এবং এর সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করার বিধান রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভোটার এলাকার নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এরপর ওই তালিকার ওপর দাবি-আপত্তি গ্রহণ ও ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা অনুযায়ী সেসব দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করে ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

এ ক্ষেত্রে আগামী ১০ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে। ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকার ওপর দাবি-আপত্তি গ্রহণের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। প্রাপ্ত দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৩ আগস্ট এবং সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৭ আগস্ট।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উল্লিখিত সময়সূচি এবং ভোটকেন্দ্র স্থাপনের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন সহায়তা-৩ শাখায় পাঠাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তফসিল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকার হার্ড কপি ও সফট কপি বাহকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্থায়ী ভোটকক্ষ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভবনের অভ্যন্তরে ভোটকক্ষ স্থাপন সম্ভব হলে অস্থায়ী ভোটকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব পরিহার করে সে অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আহ্বান জানাল অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ পি.এম


ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আহ্বান জানাল অ্যামনেস্টি

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের অন্তত তিনটি প্রাণঘাতী হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে এই হামলাগুলো ঘটে, যা বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস করে এবং একটি পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, এই হামলাগুলোর ফলে মোট ২৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জন শিশু ছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। হামলার ফলে বিভিন্ন বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন।

এদিকে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরাইল এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করতে পারেনি। পাশাপাশি অ্যামনেস্টির নিজস্ব তদন্তেও হামলার সময় ওই এলাকায় কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু বা সামরিক কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সংঘাতের সময় বেসামরিক নাগরিক এবং তাদের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো হামলায় সামরিক প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত না হয় এবং বেসামরিক মানুষের ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি হয়, সে ক্ষেত্রে সেটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।

এই কারণে, অ্যামনেস্টি একটি ‘স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের’ আহ্বান জানিয়েছে, যাতে হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি, দায়ীদের পরিচয় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়।

অন্যদিকে, ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করছে। তারা বেসামরিক হতাহতের জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করে, কারণ সংগঠনটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে।

২ মার্চ, হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর, ইসরাইল লেবাননের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক হতাহতের পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের মতে, ইসরাইলি হামলায় ২৫০ জনেরও বেশি শিশুসহ ৪,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং তারা এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতচ জীবনযাপন করছেন।

দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অ্যামনেস্টি বলছে, দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কার্যকর রাখতে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩২ পি.এম


খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন পরিচালনা করেছেন সাংবাদিকরা। যাচাই করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয় কর্মসূচির মাধ্যমে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন ও খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

মানববন্ধনে সাংবাদিকরা সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, "সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ।" হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেন তারা।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, "জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।" অতীতে সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হলে এ ধরনের হামলার সাহস সন্ত্রাসীরা পেত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সাথে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানান।

পরে খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এ নিয়ে মতবিনিময় করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। তিনি এ সময় জানান, "সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।" তিনি যোগ করেন, "দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ১২টা ৫ মিনিটে খুলনা নগরের জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে জলিলের চায়ের দোকানের সামনে সাংবাদিকদের নিয়মিত আড্ডাস্থলে মোটরসাইকেলে এসে দুই দুর্বৃত্ত গুলি ছোড়ে। তখন সেখানে কয়েকজন সাংবাদিক অবস্থান ছিল। গুলির স্প্লিন্টারের আঘাতে এক সাংবাদিক সামান্য জখম হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে কয়েকজন সাংবাদিক ওই স্থানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় সাত রাস্তার দিক থেকে মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুই যুবক তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে কোনো ধরনের চরমপন্থা ও উগ্রবাদের ঠাঁই হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


বাংলাদেশে কোনো ধরনের চরমপন্থা ও উগ্রবাদের ঠাঁই হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে কোনো ধরনের চরমপন্থা ও উগ্রবাদের ঠাঁই হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারা এমন এক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন যেখানে চরমপন্থার স্থান থাকবে না এবং ন্যায়পরায়ণতাই হবে শেষ কথা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আর কাউকে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে দেওয়া হবে না। এই বিষয়ে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তব্যে সরকারী নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেন। কুইক রেন্টাল ও জ্বালানি খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য বিদ্যুৎ খাতকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিল।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিল উপস্থাপনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু সংসদে অত্যন্ত প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল ও সরকারি দল–উভয় পক্ষই নিজ নিজ চিন্তা উপস্থাপন করতে পেরেছে। এই সংসদ সত্যিই জনগণের সংসদ হয়ে উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিগত ১৭ বছরে এবং জুলাই বিপ্লবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে আমরা সব রকম অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াব।’

জাতীয় সংসদে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৩১ দফা এখন আর কেবল বিএনপির ৩১ দফা নেই, এটি এখন সমগ্র দেশের ৩১ দফা। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’

দেশের অর্থনীতিকে ঋণনির্ভরতা থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে চাই। কেবল জনশক্তি রফতানি নয়, দেশে ইকো-টুরিজম, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্লু-ইকোনমি খাতে ১০ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিবছর ৫ কোটি করে মোট ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এই লক্ষ্যে চারা উৎপাদনের জন্য ১০ হাজার নতুন নার্সারি গড়ে তোলা হবে, যা আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এ ছাড়াও তরুণদের জন্য চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সেন্টার তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাকে অটো প্রমোশন ও নকল দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদ পরিকল্পিতভাবে এই কাজটি করেছে। আমরা বিতর্কিত বিষয়গুলো সিলেবাস থেকে সরিয়ে এনে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মানসম্মত শিক্ষায় জোর দিচ্ছি। আগামী বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হবে।’

দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ‘১০১ ভাগ অসুস্থ’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার এ দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়েছিল। আমরা স্বাস্থ্য খাতের বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছে।’ গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচটি বিভাগে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুর্নীতিকে হাত বেঁধে হোক কিংবা টুঁটি চেপে ধরে হোক–নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তর করতে চাই। এরইমধ্যে ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে দেশের ৩০০ সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার দায়িত্ব নিতে হবে, তাহলে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সংসদ অধিবেশন চলাকালীন নিরলস কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অগ্রিম ভাতা দেওয়ার জন্য স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সবশেষে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, কিন্তু শত্রুতা নয়। বাংলাদেশে আর যাতে কখনও ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং দেশ যাতে কখনও তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়–এই প্রশ্নে আমাদের সবার মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় শিশু ইয়াসিন হত্যায় আসামি বিল্লাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


কুমিল্লায় শিশু ইয়াসিন হত্যায় আসামি বিল্লাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বহুল আলোচিত শিশু ইয়াসিন ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আদালত একমাত্র আসামি বিল্লাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

সেক্ষেত্রে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। আদালত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক আলামত ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার কারণে এই রায় প্রদান করে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় ঘোষণা করেন কুমিল্লার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হান্নান। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এর পর আদালতের জারি করা মৃত্যুদণ্ড পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের হারুনুর রশীদের ছেলে।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে সংঘটিত এ মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রথমে ঘটনাটি নিখোঁজের জিডি হিসেবে নথিভুক্ত হলেও তদন্তে এটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। তদন্তে উঠে আসে যে, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের চা-ব্যবসায়ী আক্কাস মিয়ার নয় বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ১ অক্টোবর বুড়িচং থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর ছয় দিন পর, ৫ অক্টোবর বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার পরিহলপাড়া এলাকার একটি পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পরদিন ৬ তারিখে নিহতের বাবা আক্কাস মিয়া বিল্লাল হোসেন ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইয়াসিন নিখোঁজ হওয়ার আগে স্থানীয়রা তাকে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে একটি দোকানে নাস্তা করতে দেখেছিলেন। এছাড়াও ইয়াসিন নিজেও তার মা খোদেজা বেগমকে জানিয়েছিল যে, সে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে নিমসার বাজারে যাবে। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তদন্তে গ্রেপ্তারের পর বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি শিশুটিকে বাজারে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন নির্যতন করেন। পরে ইয়াসিন বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ পাশের একটি পুকুরে ফেলে রাখেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এই রায়ে নিহত শিশুর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%