মোঃ জাহিদ মিয়া (নরসিংদী) প্রতিনিধি
০২:২৮ পি.এম
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় হঠাৎ করেই পাগলা ঘোড়ার বেগে ছুটছে কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। এই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
আজ শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র। বিশেষ করে ব্যস্ততম ঘোড়াশাল বাজারসহ স্থানীয় খুচরা বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ যেন ক্রেতাদের চোখে জল এনে দিয়েছে। বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, হঠাৎ করেই কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে গেছে। আগে যেখানে এক কেজি কাঁচা মরিচ সাধ্যের মধ্যে কেনা যেত, এখন অতিরিক্ত দামের কারণে তা গ্রাম বা পোয়া হিসেবে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সাব্বির হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, "সব জিনিসেরই তো একটা সীমা থাকে। যেভাবে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে ৪০০ টাকায় ঠেকেছে, তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে মরিচ কেনাও বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।" ক্রেতা আম্বিয়া বেগম বলেন, "১০০ টাকার মরিচ কিনতাম। এখন ৫০ টাকায় ২০-৩০টা কিনে আনতে হয়। সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"
এদিকে দামের এমন লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। অনেকেই এখন রান্নায় কাঁচা মরিচের বদলে শুকনা মরিচ বা অন্যান্য মশলা ব্যবহার করছেন। ঘোড়াশাল বাজারের বিক্রেতা ফারুক বলছেন, "টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কাঁচামরিচ চাষিরা। অনেক ক্ষেতের মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।" একই বাজারের ব্যবসায়ী আমিনুল বলেন, "পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এবং গ্যাসের সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারেই দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বলে জানান তারা।"
দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করে কাঁচা মরিচের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভোগান্তিতে পড়া ক্রেতারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর হাত ধরে টিকটক ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে পুলিশ একটি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবক মোজাম্মেল হোসেন (১৯) কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মনির হোসেনের পুত্র। তিনি গোবিন্দপুর এলাকার মাদানিয়া মাদ্রাসার সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার সময় এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য দুই আসামি হলেন সিলোনিয়া গ্রামের মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে সালমান (২০) এবং মো. মাহফুজ (১৯)। তারা বর্তমানে পলাতক অবস্থায় আছে।
পুলিশ জানায়, ফেনী সদর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ফেরার পথে কয়েকজন যুবক তার হাত ধরে উত্ত্যক্ত করে। এই সময় তারা ওই শিক্ষার্থীর ভিডিও ধারণ করে টিকটক তৈরি করে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর তা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শিশুটির বাবা ঘটনাটি জানার পর ফেনী মডেল থানায় বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
শিশুটির বাবা নুরুল আফসার বলেন, "আমার ছোট মেয়ের সঙ্গে যারা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমি নিশ্চিত করতে চাই যে, আইনের মাধ্যমে এমন শাস্তি নিশ্চিত হওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।" সেই সঙ্গে তিনি পলাতক দুই আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্যও দাবি জানান।
এখন স্থানীয় জনগণের দাবি, ঘটনার সঙ্গে আরও দুই সহযোগী ছিল। তবে পুলিশ বলেছে, মামলার এজাহার অনুযায়ী বাকি দুই আসামীকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রযোজ্য সাইবার আইনের ধারায় মামলাটি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া টিকটক ভিডিওটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এছাড়া, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার প্রতিরোধে পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাস বলেন, "ছয় বছর বয়সী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর আমরা গোবিন্দপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল আসামী মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছি। পলাতক অন্য দুই আসামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকার মূল্যের বিদেশি ব্র্যান্ডের ৮ হাজার ৫৯০ প্যাকেট চোরাই সিগারেট জব্দ করেছে র্যাব-৭।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) র্যাব-৭ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কোতোয়ালী থানার নূর আহমদ রোডের কাজীর দেউড়ি এলাকায় এসএ পরিবহনের (প্রা.) লিমিটেডের পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ির পার্কিং এলাকায় সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশি সিগারেট ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ৪৭০ কার্টনে ৪ হাজার ৭০০ প্যাকেট ORIS, ২৯৪ কার্টনে ২ হাজার ৯৪০ প্যাকেট PATRON, ৩৭ কার্টনে ৩৭০ প্যাকেট ESSE LIGHT, ২৩ কার্টনে ২৩০ প্যাকেট MILANO BLACK, ১২ কার্টনে ১২০ প্যাকেট MOND SUPER SLIMS, ৫ কার্টনে ৫০ প্যাকেট MOND SILVER এবং ১৮ কার্টনে ১৮০ প্যাকেট MANCHESTER ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করা হয়।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, জব্দ করা ৮ হাজার ৫৯০ প্যাকেট বিদেশি সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা। এই মালামালের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৭।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে একাধিক মামলার আসামি ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক ইসমাইল, নগরীর বড় খালপাড় এলাকার শাজাহান ওরফে পাগলা শাজাহানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি হত্যা, পুলিশ অ্যাসল্টসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন। এছাড়া তাকে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি যুবলীগের একজন কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ইসমাইল রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ঠিক তখনই একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই গুলিতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ইসমাইলের মাথায় গুলি করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে বালুবাহী ট্রাক ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছে। এই সংঘর্ষের ফলে আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার রক্তিপাড়ায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার সময় রক্তিপাড়া এলাকায় ঢাকা থেকে মাদারগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুভর্তি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মৃত্যু ঘটে। আরও অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে স্থানীয় এবং পুলিশরা মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত দের পরিচয় জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ