ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডিএমপিতে ৩ হাজার ২৫৭ মামলা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে


ডিএমপিতে ৩ হাজার ২৫৭ মামলা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে

রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে যারা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে গত দুই দিনে ৩ হাজার ২৫৭টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।

বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার (২৪ জুলাই) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করে এবং এসব মামলাগুলো জমা করে।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি এ তথ্য জানায়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে মোট ১৬৮টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২৬টি বাস, ৩টি ট্রাক, ৬টি কাভার্ডভ্যান, ২০টি সিএনজি এবং ৪৮টি মোটরসাইকেল। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে মোট ২৪৬টি মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে রয়েছে ২৫টি বাস, ৫টি ট্রাক, ২টি কাভার্ডভ্যান, ২৩টি সিএনজি এবং ১৪৮টি মোটরসাইকেল।

ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১০১টি বাস, ২৪টি ট্রাক, ৩৪টি কাভার্ডভ্যান, ৬৮টি সিএনজি ও ১৯৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৯২টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে মোট মামলা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫০টি, যার মধ্যে ৮৭টি বাস, ৪৪টি ট্রাক, ২৮টি কাভার্ডভ্যান, ৩৯টি সিএনজি এবং ১৪৩টি মোটরসাইকেল রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে মোট ৩৭২টি মামলা হয়েছে; এখানে ৩৪টি বাস, ৩টি ট্রাক, ১৮টি কাভার্ডভ্যান, ৪০টি সিএনজি এবং ১৫৫টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৬৯টি বাস, ২২টি ট্রাক, ৪০টি কাভার্ডভ্যান, ৫৯টি সিএনজি এবং ৩৫৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৬৭০টি মামলা দায়ের হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে মোট ৪০১টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৬২টি বাস, ৩৩টি ট্রাক, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ৪০টি সিএনজি এবং ১২৬টি মোটরসাইকেল রয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে মোট মামলা সংখ্যা ৪৫৮টি, যেখানে ৮৬টি বাস, ৬টি ট্রাক, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ৪৮টি সিএনজি এবং ১২৭টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত।

এই অভিযানের অংশ হিসেবে মোট ৯০৮টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ৪২৬টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওয়াসার পানিতে ক্যান্সারের উপাদান শনাক্ত, কমিটি গঠনেই কি শেষ দায়বদ্ধতা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


ওয়াসার পানিতে ক্যান্সারের উপাদান শনাক্ত, কমিটি গঠনেই কি শেষ দায়বদ্ধতা?

প্রতিদিন যে পানি আমরা পান করছি, রান্নায় ব্যবহার করছি বা শিশুদের খাবার তৈরি করছি— সেই পানি কতটা নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঢাকা ওয়াসার পানিতে একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ‘পিফাস’ শনাক্ত হয়েছে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলছেন গবেষকরা। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আলাদা দুটি গবেষণায় ‘পিফাস’ ধরা পড়লে ওয়াসা কমিটি গঠন করে। অথচ ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বর্তমানে রাধানীতে ওয়াসার বিশুদ্ধ পানির এটিএম বুথের সংখ্যা ৩৫২টি, এবং গ্রাহকের সংখ্যা ৮ লাখেরও বেশি। প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ লিটার পানি বিক্রি হয়, যা পান ও রান্নায় এবং শিশুদের খাবার তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু উদ্বেগ আছে এই পানিতে এমন কিছু রাসায়নিকের উপস্থিতি নিয়ে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইডেনের উমেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন জোন থেকে সংগৃহীত পানির নমুনায় ‘পিফাস’, বিভিন্ন কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং ওষুধজাত রাসায়নিক শনাক্ত করা হয়েছে। অথচ নগরবাসী এ সম্পর্কে অবগত নয়।

পিফাসকে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বলা হয়। কারণ এই রাসায়নিকটি সহজে ভাঙে না এবং দীর্ঘদিন পরিবেশে টিকে থেকে মানবদেহেও জমা হতে পারে। আগের গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, ঢাকার ওয়াসার কলের পানিতে উচ্চমাত্রার পিফাস রয়েছে। নমুনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটি সহ আন্তর্জাতিক গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিছু নমুনায় পিএফওএ ও পিএফওএসের মতো উচ্চঝুঁকির ‘পিফাস’ এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ কিছু পিফাসও পাওয়া গেছে।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো এর গবেষক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ওয়াসার পানিতে ‘পিফাস’ কোথা থেকে আসছে তা শনাক্ত করতে হবে। তবে ২০২৬ সালেও ওয়াসার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘকাল এ ধরনের রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিছু ‘পিফাস’ দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

গবেষক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, এই পানি পান করলে আমরা ধীরে ধীরে ক্যান্সারের দিকে ধাবিত হবো যা আমাদের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং লিভারকে নষ্ট করবে। তাই জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

এদিকে, গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওয়াসা কমিটি গঠন করেছে। আট মাস অতিবাহিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনও কোনো ফলাফল প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছেন, গবেষণার ফলাফল তারা পর্যালোচনা করছেন।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তারা নিজেদের লেভেল এবং ‘এপারেটাস’ ইউরোপীয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী দেখছেন।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—একের পর এক গবেষণায় একই ধরনের দূষণ তথ্য সামনে আসার পরও কার্যকর পদক্ষেপ কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না?

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিপীড়ক নয়, জনগণের আস্থার পুলিশ হতে চাই: সিএমপি কমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


নিপীড়ক নয়, জনগণের আস্থার পুলিশ হতে চাই: সিএমপি কমিশনার

চট্টগ্রাম, ২৫ জুলাই, ২০২৬ : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য জনগণের পুলিশ হওয়া, নিপীড়ক হওয়া নয়।

তিনি আরো বলেন, পুলিশের ভালো কাজের মাপকাঠি হলো নাগরিক সন্তুষ্টি। সাধারণ মানুষের যদি পুলিশের সেবা ও আচরণে সন্তুষ্টি থাকে, তাহলে বুঝতে হবে পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

আজ (শনিবার) চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সাথে সাংবাদিকদের মধ্যে মতবিনিময় সভায় সিএমপি কমিশনার এ সকল কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আয়োজনে ভিআইপি লাউঞ্জে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাসান মো. শওকত আলী আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর পুলিশিংয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ। জনগণের পুলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যত বাড়ে, পুলিশ তত ভালোভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে।

বাহিনীর আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পুলিশ আলাদা, এটি শুধু আমাদের মনে করলে হবে না; সাধারণ মানুষকে পুলিশ কীভাবে কাজ করে এবং পুলিশের আচরণে সেটি উপলব্ধি করতে হবে।

সিএমপি কমিশনার আরো বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। যদি কোনো সাংবাদিক পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, তবে সেটি নেতিবাচকভাবে দেখার কোন সুযোগ নেই। বরং ওই প্রতিবেদনটি গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অনুধাবন করতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, কাজী আবুল মনসুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান।

সিএমপির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুইয়া প্রমুখ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাহারোলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে অনুদান বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


কাহারোলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে অনুদান বিতরণ

দিনাজপুরের কাহারোলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সহায়তা প্রদানের কাজের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করতে দেখা গেছে।

শনিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে এসব উপকরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোকলেদা খাতুন মীম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. মনজুরুল ইসলাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, মোট ৪০ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার টাকা করে, ২৪ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে, আর ১৬ জনকে ৭ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া, ১২ জন ছাত্র-ছাত্রীকে ১২টি বাইসাইকেল এবং ৮টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মধ্যে ৮টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কাহারোল উপজেলার ১৫টি ঝড়াক্রান্ত ও অসহায় পরিবারের মধ্যে ১৫ বান ঢেউটিন বিতরণ করেন এবং ঘর মেরামতের জন্য প্রতিটি পরিবারের জন্য ৩ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করেন।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. শামীম আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোত্তালেব সরকার, উপজেলা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নারায়ন মার্ডী, উপজেলা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সদস্য সচিব রনিব মার্ডী, এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুলা উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা, ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ গাঁটের লক্ষ্য সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


তুলা উৎপাদনে বড় পরিকল্পনা, ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ গাঁটের লক্ষ্য সরকারের

তুলার আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য এবং স্থানীয় বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশীয় তুলার আঁশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৯ লাখ গাঁটে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বর্তমানে, বাংলাদেশ ২.২৪ লাখ গাঁট তুলার আঁশ উৎপাদন করে, যা দেশের বস্ত্র খাতের চাহিদার প্রায় ১৬-১৭ শতাংশ পূরণ করে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনার ধারাবাহিকতায়, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার আঁশ উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে পৌঁছানোর পর, ২০৫০ সালের মধ্যে এটি আরও বেড়ে ১৯ লাখ গাঁটে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) উপ-পরিচালক কুতুব উদ্দিন মন্তব্য করেন, হাইব্রিড তুলার জাত উদ্ভাবন, চাষযোগ্য জমির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের ধারাবাহিক প্রণোদনা সহায়তার মাধ্যমে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তিনি আরও বলেন, উপযুক্ত জমির ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করে বাংলাদেশে তুলার উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে দেশটি আমদানিকৃত তুলার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে এবং পোশাক খাতের সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন)কে আরও শক্তিশালী করা যাবে।

সিডিবির তথ্যমতে, বর্তমানে সারাদেশে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলার চাষ হয়, যদিও প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমি চাষের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার প্রধানত চরাঞ্চল, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য অনুপযোগী উপযুক্ত সমতল ভূমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

কর্মকর্তাদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব না ফেলেই তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের জন্য প্রতি বছর ৯০ লাখ গাঁট কাঁচা তুলার প্রয়োজন হয়, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তুলা আমদানিকারক দেশে পরিণত করেছে। এই চাহিদা পূরণ করতে বাংলাদেশ বছরে আনুমানিক ৭৫-৮০ লাখ গাঁট তুলা আমদানি করে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় চাহিদার যোগান দিতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ে প্রায় ৭৩ লাখ গাঁট কাঁচা তুলা আমদানি করা হয়েছে, যা দেশের তুলা উৎপাদন বাড়ানোর গুরুত্বকে তুলে ধরে।

সিবিডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার আঁশের উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে উন্নীত করতে পারলেই আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব এবং বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যাবে।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তুলা চাষীদের প্রণোদনা দেওয়া, ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় তুলা চাষীদের আনা এবং কার্বন ট্রেডিং উদ্যোগের মাধ্যমে ঋণ সুবিধার সম্প্রসারণ।

বিশ্বের তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৪০তম। অন্যদিকে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও ব্রাজিল বিশ্বে তুলা উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

তুলা কেবল দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল নয়, এটি থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপজাতও পাওয়া যায়। তুলার বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল তৈরি করা হয় এবং খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা এই ফসলের অর্থনৈতিক মূল্য আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎপাদনে ধারাবাহিক অগ্রগতি সত্বেও বাংলাদেশে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে এখনো একটি বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।

সিডিবি উপ-পরিচালক ড. মো. তাসদিকুর রহমান বলেন, তুলা চাষ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি- এর মধ্যে রয়েছে নীতিগত পর্যালোচনার অভাব, ফসলের তুলনামূলক দীর্ঘ উৎপাদন সময়, অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফসলের সাথে প্রতিযোগিতা, চাষযোগ্য জমির অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, মূল্যের ওঠানামা এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ।

তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। সরকার ইতোমধ্যে তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব বস্ত্র খাতকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

উৎপাদন ত্বরান্বিত করার জন্য তুলা চাষের এলাকা আরও সম্প্রসারণ, সিডিবির সাংগঠনিক সংস্কার, বৃহত্তর নীতিগত সহায়তা, তুলা চাষিদের জন্য মূল্য ভর্তুকি এবং বিশেষ কৃষি ঋণের প্রয়োজনীয়তার ওপরেও জোর দেন তিনি।

সরকারের সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলা চাষের জন্য প্রণোদনা হিসেবে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিবিডি) মৃত্তিকা উর্বরতা ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. এম গাজী গোলাম মুর্তুজা বলেন, ২৬টি জেলার প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক এক বিঘা জমিতে আন্তঃফসল হিসেবে তুলা চাষের জন্য উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন। উৎপাদন খরচ কমিয়ে মুনাফা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের আরও বেশি তুলা চাষে উৎসাহিত করাই এই প্রণোদনা কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

তুলাকে বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত করে ড. মুর্তুজা বলেন, পাট চাষ কমে যাওয়ায় এই ফসলটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খুব কম ফসলই আছে যা তুলার সমতুল্য আয় দেয়। কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করলে তাদের আয় বাড়ে এবং দেশের আমদানি ব্যয়ও কমে।

সিবিডির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বলেন, কৃষকদের জন্য তুলা চাষ অর্থনৈতিকভাবে আকর্ষণীয়। তার মতে, এক বিঘা জমিতে তুলা উৎপাদন করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, যেখানে কৃষকরা প্রায় ১৫ মণ কাঁচা তুলা সংগ্রহ করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত প্রতি কেজি তুলা সরকারের প্রায় ৪ মার্কিন ডলার আমদানি খরচ সাশ্রয় করে। যা স্থানীয় উৎপাদনকে কৃষক ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে।

সাধারণত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তুলার বীজ বপন করা হয় এবং ডিসেম্বরে তা কাটা হয়। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, উন্নত বীজ প্রযুক্তি এবং উন্নত চাষাবাদের পদ্ধতির পাশাপাশি জিনগতভাবে পরিবর্তিত তুলার জাতের প্রবর্তন উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক এবং জলবায়ুগত পরিস্থিতি তুলা চাষের জন্য অনুকূল। বিশেষ করে দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর এবং মধ্য অঞ্চলের ৩২টিরও বেশি জেলায় উঁচু ও পাহাড়ি এলাকায় তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।

কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকারের ধারাবাহিক সহায়তা, চাষাবাদ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষকদের বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দশকগুলোতে অভ্যন্তরীণ তুলা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে, আমদানিকৃত কাঁচা তুলার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%