০৫:১৮ পি.এম
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি কার্যক্রম আয়োজন করে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মনিরের সহপাঠী এবং রংপুর ডিভিশনাল অ্যাসোসিয়েশনের (আরডিএ) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩ এর সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদর্শন শেষে প্রক্টর কার্যালয়ে ৬ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল— বিল্ডিং কোড ভঙ্গ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মেস মালিক এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে ফৌজদারি মামলা করতে, নিহত মনিরুজ্জামান মনিরের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, ২৪ ঘণ্টার কার্যকর ‘ওয়ান কল সার্ভিস’ চালুর ব্যবস্থা এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি। অপরদিকে, ২৩ জুলাইয়ের ঘটনায় দায়ের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, খাজা ছাত্রাবাসে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপদ আবাসনের প্রয়োজন এবং ক্যাম্পাস সংলগ্ন সব মেসের অবকাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিরাপদ মেসে শিক্ষার্থীদের বসবাস বন্ধ করা। তাদের দাবির মধ্যে ক্যাম্পাস সংলগ্ন হোটেল ও খাবারের দোকানের খাদ্যের মান নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হবে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সেই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন খাজা ছাত্রাবাস পরিদর্শন করতে আসেন। উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
পরিদর্শনের শেষে খাজা ছাত্রাবাসের মালিককে প্রক্টর কার্যালয়ে ডেকে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে নিহত মনিরের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়। এ সময় মেস মালিক দুই দিনের সময় চান বাস্তবায়নের জন্য। আগামী সোমবার প্রক্টর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে বৈঠক যেখানে ক্ষতিপূরণ সহ অন্যান্য বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, মাভাবিপ্রবি শাখা। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ছাত্রশক্তি, মাভাবিপ্রবি শাখাও পৃথক স্মারকলিপি দিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
এছাড়া, গত ২৩ জুলাই রাত প্রায় ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন খাজা ছাত্রাবাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আইসিটি বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজামান মনির তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনিরের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায়।
ঘটনাটি কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা থেকে বাঁচাতে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন