০৩:০৫ পি.এম
কমলগঞ্জ পৌরসভায় বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প গড়ে ওঠেনি জায়গার অভাবে। ফলে পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার সুফল থেকে কমলগঞ্জ পৌরসভার লোকজন বঞ্চিত রয়েছেন। তবে পৌর প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জমি পাওয়া গেলে বর্জ্য শোধনাগারের নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নাগরিক সেবার অন্যতম প্রতিষ্ঠান হলো কমলগঞ্জ পৌরসভা। এই প্রতিষ্ঠানের চালু হওয়ার পর দীর্ঘ সাতাশ বছর পর বাংলাদেশের মিউনিসিপালিটি ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় কমলগঞ্জ পৌরসভায় পানি ও স্যানিটেশন খাতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে পৌরবাসীর সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ৬ লাখ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ওভারহেড জলাধার (ট্যাংক) নির্মাণ করা হয়েছে।
এছাড়া ৩৫ কিলোমিটার পানি সরবরাহের পাইপলাইন নির্মাণ, ৩টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। সাথে সাথে ৩ কিলোমিটার ড্রেনেজ নির্মাণ ও সাড়ে তিনশো হাউজের জন্য আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে দুটি আধুনিক মানের পাবলিক টয়লেট কমলগঞ্জ উপজেলা চৌমুহনা ও ভানুগাছ বাজারে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। তাছাড়া মানব বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন সুবিধার্থে আধুনিক মানের দুটি ভ্যাকুয়াম গাড়িও প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। তবে পৌরবাসীদের পরিবেশ সুরক্ষায় বর্জ্য শোধনের জন্য বর্জ্য শোধনাগার এখনও স্থাপন করা যায়নি। এ বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের জন্য এক-একর জমির প্রয়োজন, কিন্তু এই এক-একর খাস জমি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বর্জ্য শোধনাগারের নির্মাণ কাজ আটকে আছে।
এতে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার সুষ্ঠু স্যানিটেশন ব্যবস্থা ব্যাপক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গনমাধ্যম কর্মী এম এ ওয়াহিদ রুলু, রুমেলসহ অন্যান্যরা জানান, পৌর এলাকার সেপটিক ট্যাংক থেকে মানবদেহের বর্জ্য উত্তোলন করে তা শোধন না করেই যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে। শুধু পৌরবাসীর জন্য নয়, পুরো ভানুগাছ বাজারের ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। এতে পানি ও পরিবেশের দূষণ ঘটছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পৌরবাসী দ্রুত বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, কমলগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বেলাল চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রকল্পের একটি মাত্র কাজ বাকি থাকলেও অপর সব কাজ সম্পন্ন হওয়ায় পৌরবাসী ব্যাপক সুফল ভোগ করছেন। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, খাসজমি খোঁজা হচ্ছে এবং জমি পাওয়া গেলেই বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে কাজ শুরু হবে। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কমলগঞ্জ পৌরসভায় নয়টি ওয়ার্ডের লোকসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন