০৪:০৮ পি.এম
নির্বাচন কমিশন (ইসি) বহুল কাঙ্ক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠক শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় ইসি।
ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ৫ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের নির্বাচন ২১ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যা রোজার আগে হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
রোজার পর তৃতীয় ধাপের নির্বাচন ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপের নির্বাচন ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপের নির্বাচন ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সময় পার হয়ে গেছে বা এই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচনী চক্রের আইনি মেয়াদ পূর্ণ হবে, সেগুলোতে ২৭ মে’র মধ্যে ভোট সম্পন্ন করা হবে।
তিনি জানান, নির্বাচনে কোনো একক অঞ্চলকে আলাদা না করে সব জেলায় একযোগে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় জেলার সদর উপজেলাগুলো এবং যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পার হয়ে গেছে (ওভারডিউ) সেগুলোকে প্রথম দিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত ১৭ জানুয়ারি নির্ধারিত থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধ বিবেচনা করে প্রথম ধাপের ভোটের তারিখ ২১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এনআইডি অনুবিভাগ ও স্মার্টকার্ড প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, দ্বিতীয় বিষয় যেটা আমরা আলোচনা করেছি, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের আমাদের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক এবং আর্থিক কিছু ক্ষমতা নিয়ে। এখানে প্রাথমিক কিছু আলোচনা হয়েছে, বিস্তারিত একটি কমিটির মাধ্যমে সম্পাদন হবে। আমরা কিছু ইন্টার্নাল রিডিস্ট্রিবিউশন এলাও করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের পার্সোনালাইজেশন সেন্টার নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। চুক্তি ও অডিট অবজেকশনের ব্যাপারে আমরা সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছি, যাতে করে আগামী মাসের (নভেম্বর) মাঝামাঝি সময় থেকে পূর্ণ ক্যাপাসিটিতে পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে স্মার্টকার্ডগুলো প্রিন্ট করা যায়। একইসঙ্গে অডিট অবজেকশনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়গুলো সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
ইভিএম যন্ত্রাংশ ও ইভিএম ব্যবহার না করা নিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা তো ইতোপূর্বেই কমিশনের একদম শুরুর দিকের সভাতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ইভিএম আর ব্যবহৃত হবে না। কিন্তু, এই ইভিএমগুলো এখনো আমাদের কাছে রয়ে গেছে এবং ইভিএম সংক্রান্ত অনেক ঝামেলা এখনো পোহাতে হচ্ছে। ইভিএম সংক্রান্ত যে কমিটিগুলো ছিল তাদের বক্তব্য আমরা শুনেছি। চূড়ান্তভাবে ডিসপোজালসহ পূর্ববর্তী কমিটির সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বলবৎ করা যায়, সেজন্য কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আমরা চাচ্ছি দ্রুততম সময়ে এই ইভিএমগুলো যেন ডিসপোজাল হয়ে যায়। পাশাপাশি যে আইনি বিষয়গুলো আছে—দুদকসহ, সেগুলোর জন্য যে এভিডেন্স বা প্রমাণ রাখা দরকার সেগুলো রেখে বাকিগুলোকে দ্রুততম সময়ে ডিসপোজাল দেওয়াই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
মৃত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজীকরনের বিষয়ে তিনি বলেন, মৃত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে আমাদের এখন যে পদ্ধতি আছে, তাতে সুনির্দিষ্টভাবে পরিবারের সদস্য বা চেনা জানা কাউকে ১২ নম্বর ফর্মটি পূরণ করতে হয়। এতে দেখা যাচ্ছে সচেতনতার অভাব হোক বা অন্যান্য কারণে অনেক মৃত ভোটার তালিকাতে থেকে যান। আমরা এটাকে কিভাবে আরও যুগোপযোগী করা যায়, অন্যান্য সোর্স থেকে ইনফরমেশন নিয়ে মৃত ভোটারদের টাইমলি বাদ দেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা একটা প্রস্তাবনা শুনেছি, সেই প্রস্তাবনাটা পাইলট আকারে কিছু উপজেলা এবং ইউনিয়নে আমরা চালু করব। তারপরে এটার সাকসেস দেখার পরে ও রিভিউ করার পরে পূর্ণাঙ্গভাবে সারাদেশে ডেপ্লয় করা হবে।
এরপর নির্বাচন পদক সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫-এর একটা খসড়া আজকে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটাতে আজকে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। কমিশনের সদস্যবৃন্দ ব্যক্তিগতভাবে এটি আরও স্টাডি করে মতামত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, ততদিন পর্যন্ত আমরা ওয়েট করব। গত বছর এ পদক দেওয়া হয়নি, এই বছরেরটাও পেন্ডিং আছে। নীতিমালার আলোকেই তা দেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেও আমাদেরকে এমন অনেক কথা শুনতে হয়েছিল, তারপরও জাতীয় নির্বাচন স্মরণকালের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। আমরা মনে করি না বাংলাদেশ আর কোনো সংঘাতময় নির্বাচনের পথে হাঁটার জন্য প্রস্তুত আছে। আমরা আশা করব যে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি আমরা শুরু করেছি, তা বলবত্ত রাখব এবং সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার আমাদের সহায়তা করবেন।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
সোমবারের বৈঠকে সিইসি ছাড়াও অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন