বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৭ পি.এম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। এই কারণে ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সাধারণ সদস্য ও সাধারণ সদস্য আসনের জন্য প্রতীক বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে আজ বুধবার সেই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানদের জন্য ২০টি, সংরক্ষিত আসনে ১০টি এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থীর জন্য ১২টি প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
কোন পদে থাকছে কী প্রতীক
চেয়ারম্যান পদের জন্য বরাদ্দকৃত ২০টি প্রতীক হলো: কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা এবং হাঁস।
সাধারণ আসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১২টি প্রতীক হলো: উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব এবং মোরগ।
সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টি প্রতীক হলো: আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ এবং হেলিকপ্টার।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নিজস্ব ও নির্ভরশীলদের সম্পদের হিসাবও দিতে হবে।
বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়ে যাবে।
এদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যয়ের সীমা বৃদ্ধি করে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য পদপ্রার্থীদের ব্যয় ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাছ ধরার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেদের জন্য একের পর এক সংকট দেখা দিয়েছে। সামনে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসন্ন। নিষেধাজ্ঞার শুরুতে কয়েকটি দিন মেঘনায় মাছ শিকার করে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন মনপুরার জেলেরা। কিন্তু তাদের সেই আশায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ।
৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে নদীতে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মনপুরার অনেক জেলে। তাদের প্রত্যাশা ছিল, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মাছ ধরতে না পারার ফলে যে আয়-রোজগারের ঘাটতি হবে, তার কিছুটা আগে মাছ ধরে পূরণ করবেন।
তবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নদী ও সাগরে মাছ ধরার ব্যাপারে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে জেলেদের মধ্যে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার আগে কয়েকদিন নদীতে মাছ ধরে সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন মনপুরার জেলেরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরতে না পারলে তাদের সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলেদের ভাষ্য, বছরের বড় একটি সময় নদী ও সাগরে মাছ ধরেই তাদের সংসার চলে। মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা, বৈরী আবহাওয়া এবং নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ার কারণে অনেক সময় ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। নিষেধাজ্ঞার আগে মাছ ধরার সুযোগটুকুও যদি আবহাওয়ার কারণে নষ্ট হয়, তাহলে পরিবারের খাবার, নৌকার জ্বালানি, জাল মেরামত ও অন্যান্য খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় জেলেরা বলছেন, একদিকে সামনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে তার আগেই গভীর নিম্নচাপ সব মিলিয়ে তাদের জীবনে যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা মাছ ধরতে না পারলে নিষেধাজ্ঞার সময় ও পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
মেঘনার তীরে এখন তাই একটাই প্রশ্ন, নিষেধাজ্ঞার আগে যে ক’দিন মাছ ধরে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন জেলেরা, গভীর নিম্নচাপের বৈরী আবহাওয়া সেই স্বপ্নকে কতটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নারীকাণ্ডে বিতর্কিত জামায়াতে ইসলামীর এমপি (সাতক্ষীরা-৪) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলায় মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, আসামির পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ আসামি ভিকটিম মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তকর্তা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার প্রার্থণা করেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতের মধ্যেই আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর নজরুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠনের এবং হালনাগাদ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কমিটিগুলো থেকে আওয়ামীপন্থীদের সরিয়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পুনর্গঠিত কমিটিগুলোতে তিনজন করে গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বলা হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে ৯৮টি কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। বেশিরভাগ কমিটি কয়েক বছর আগে গঠিত হয়েছে এবং কিছু কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্য অনুপস্থিত। এ কারণে পুরোনো কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে সরকারি কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি কমিটিতে তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন বা দেশের বাইরে চলে গেছেন। ফলে তারা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকতে পারছেন না। কোথাও কোথাও তাদের ডাকা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কারণে পুরোনো কমিটি বহাল রেখে সরকারি কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন বাস্তবতায় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এসব কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যাদের মনোভাব ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে মেলে না। তাদেরকেও এখন কমিটিগুলো থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন এসব কমিটিতে তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, তাই বিভিন্ন কমিটি অনেক দিন পুনর্গঠন করা হয়নি। আগের সরকারের প্রতিনিধিরাও রয়ে গেছেন। এখন সেসব কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি নতুন করে গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক এ তিনজনকে মনোনয়ন দেবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করার কথাও চিঠিতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
আগের সরকারের আমলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধির বাইরেও পাঁচজন সদস্য রাখা হতো। তাদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সাংবাদিক এবং বাকি তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। এবারও সমানসংখ্যক প্রতিনিধি রেখে কমিটি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় ৯৮টি কমিটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিরা। এসব কমিটিও পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্যাপন কমিটি, আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ–সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন ডিসিরা।
জেলা প্রশাসকেরা বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি, ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি। জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদান দেওয়ার আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতিও ডিসিরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন এসব কমিটি পুনর্গঠনে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, অনেক কমিটি দীর্ঘদিন সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। দ্বিতীয়ত, অনেক কমিটিতে আওয়ামীপন্থীরা রয়ে গেছে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মো. ইকরাম ওয়াহিদ তোহা (২৫) নামের এক শিক্ষার্থীকে, যিনি ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, "তথ্যটি সঠিক।" বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাটহাজারীর বাসা থেকে ওই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।
তথ্য অনুযায়ী, আসামী তোহা হাটহাজারীর ১১ নং ফতেপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন আনোয়ার ম্যানশনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। বাদীও চবির একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ৫ দিন আগে ভুক্তভোগী ওই নারী হাটহাজারী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তির পর থেকে গ্রেপ্তার আসামি তোহার সঙ্গে বাদীর পরিচয় হয় এবং ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৩ আগস্ট ও ১৩ সেপ্টেম্বর তোহা বিয়ের প্রলোভনে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে বাদীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে বিয়ের কথা বললে তোহা নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ