ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের বিল সংসদে পেশ হচ্ছে


সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের বিল সংসদে পেশ হচ্ছে

সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। নতুন এই স্কিমের জন্য আইনের খসড়া তৈরি করে তা জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে স্কিমটি চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। বর্তমানে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে জানান, ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনগত খসড়া তৈরি করে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

তিনি বলেন, শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের কাঠামো, পরিচালন পদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় নির্ধারণের কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি স্কিমটির আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগনীতির ভিত্তিতে নতুন স্কিম চালু করা হবে। এতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একটি পৃথক বিনিয়োগ ও পরিচালনা কাঠামো যুক্ত হবে, যা শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন সুবিধা নিতে আগ্রহী জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, নতুন স্কিমে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে পেনশন তহবিল পরিচালনার কাঠামো তৈরি করা হবে। তহবিলের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে, পরিচালন ব্যয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কী হবে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে কার্যকর কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন

শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী অথবা নির্ধারিত সুবিধাভোগীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অন্যতম।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এ সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। পেনশনার নিজে জীবদ্দশায় আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। এ অর্থবছরের জন্য মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ হারে মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়াতে সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধা পান না, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে।

আরও পড়ুন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: ইশরাক ভাইয়ের মতলব ভালো ছিল

একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশগামী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এ বয়সসীমা কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং ঋণ দেওয়ার ফলে পেনশনভোগীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। কোন মডেলে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা যেতে পারে এবং এতে পেনশন তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন: জামায়াতের আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

নতুন গ্রাহক বাড়াতে নিবন্ধন কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনে গ্রাহক নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগে একজন নতুন গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তহবিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরীক্ষা কাঠামো যুক্ত হবে।

দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরু পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। তাদের জমা করা মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন এবং এ স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: গাড়ি থেকে নিজেই সরকারি লোগো খুলে ফেললেন ইশরাক

তবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত হারে অংশগ্রহণ না বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক নতুন স্কিম চালু, পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের মুনাফা নির্ধারণ, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিবন্ধনে প্রণোদনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিদ্যমান চারটি স্কিমের পাশাপাশি নতুন একটি কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ স্কিম চালুর আগে আইনগত কাঠামো প্রণয়ন, সংসদীয় প্রক্রিয়া, বিনিয়োগনীতি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল ও কারিগরি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন স্কিম চালুর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।

ফলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম শুধুমাত্র নতুন একটি স্কিম সংযোজনের উদ্যোগ নয়; বরং বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার বিনিয়োগ কাঠামো, অংশগ্রহণের পরিধি ও সুবিধার ধরন আরও বিস্তৃত করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটি সামনে এসেছে। আইনগত কাঠামো চূড়ান্ত করে জাতীয় সংসদে পাঠানো এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপরই এর বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে।

আরও পড়ুন: রিজভী: উৎসব সামাজিক সীমানায় আবদ্ধ নয়, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি দুই দিন, হিন্দু কর্মীদের জন্য আরও দুই ঐচ্ছিক ছুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি দুই দিন, হিন্দু কর্মীদের জন্য আরও দুই ঐচ্ছিক ছুটি

২০২৬ সালের দুর্গাপূজার জন্য সরকারি ছুটি দুটি দিন নির্ধারিত হয়েছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থাৎ, দুর্গাপূজার সময় সরকারি ছুটি মূলত দুই দিন। তবে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পূজা উপলক্ষে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। ঐচ্ছিক ছুটির আওতায় ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছুটি থাকবে। তবে, প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির সময়সূচিতে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজের ছুটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে পূজার ছুটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত হতে পারে। এজন্য শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ছুটির নোটিশ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে, প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় কিছু নির্দিষ্ট শাখা বা সেবা চালু রাখা হতে পারে।

এদিকে, এটিএম, কার্ডভিত্তিক লেনদেন ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকে। এসব সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

যদিও সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তবে তা সকল কর্মীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মীকেই ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।

হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন জরুরি সেবার কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্বে থাকতে হতে পারে।

এভাবে, দুর্গাপূজায় সাধারণ সরকারি ছুটি দুটি দিন হলেও সবার ছুটির হিসাব এক নয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং জরুরি সেবার কর্মীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক নির্দেশনা অনুযায়ী ছুটি কার্যকর হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি-এসএসসি পাসে শ্রম মন্ত্রণালয়ে ১৫ পদে চাকরির সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


এইচএসসি-এসএসসি পাসে শ্রম মন্ত্রণালয়ে ১৫ পদে চাকরির সুযোগ

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ১৫ জনকে সরাসরি নিয়োগের জন্য চারটি ক্যাটাগরির পদে আবেদন গ্রহণ করা হবে। হিসাবরক্ষক, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং অফিস সহায়ক পদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন জমা দিতে পারবেন। পদভেদ অনুযায়ী বেতন গ্রেড-১২ থেকে গ্রেড-২০ এর মধ্যে নির্ধারিত হবে। অফিস সহায়ক পদে আবেদন করার জন্য এসএসসি বা সমমান পাস প্রার্থীদেরও সুযোগ রয়েছে।

পদের বিবরণ

হিসাবরক্ষক

পদসংখ্যা: ১টি

গ্রেড: ১২

যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসিং, ই-মেইল এবং ফ্যাক্স পরিচালনায় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক।

সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ৩টি

গ্রেড: ১৩

যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। সাঁটলিপিতে ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ৭০ শব্দ ও বাংলায় ৪৫ শব্দ এবং কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে ইংরেজিতে ৩০ শব্দ ও বাংলায় ২৫ শব্দের গতি থাকতে হবে। ওয়ার্ড প্রসেসিং, ই-মেইল ও ফ্যাক্স পরিচালনায় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা লাগবে।

অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৩টি

গ্রেড: ১৬

যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমান পাস হতে হবে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ আবশ্যক। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ২০ শব্দের গতি থাকতে হবে। ওয়ার্ড প্রসেসিং, ই-মেইল ও ফ্যাক্স পরিচালনায় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

অফিস সহায়ক

পদসংখ্যা: ৮টি

গ্রেড: ২০

যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পাস।

বয়সসীমা

প্রার্থীর বয়স ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স প্রমাণের জন্য এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ২ ও ৩ নম্বর পদের বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

আবেদন যেভাবে

আবেদন শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টায়। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। mole.teletalk.com.bd

আবেদনের সময় ৩০০×৩০০ পিক্সেলের রঙিন ছবি এবং ৩০০×৮০ পিক্সেলের স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ছবির সর্বোচ্চ সাইজ ১০০ কিলোবাইট এবং স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ সাইজ ৬০ কিলোবাইট হতে হবে।

আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করতে হবে। আবেদন সাবমিটের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দিতে হবে।

আবেদন ফি

হিসাবরক্ষক পদের জন্য মোট ১৬৮ টাকা এবং সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের জন্য মোট ১১২ টাকা ফি দিতে হবে। অফিস সহায়ক পদের ক্ষেত্রে মোট ফি ৫৬ টাকা।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের সব পদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি ও সার্ভিস চার্জসহ মোট ৫৬ টাকা দিতে হবে।

পরীক্ষার ধরন

সরকারি বিধি অনুযায়ী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো টিএ/ডিএ প্রদান করা হবে না।

মৌখিক পরীক্ষার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদের মূল কপি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে।

প্রবেশপত্র ও পরীক্ষার সময়সূচি টেলিটক ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হবে। যোগ্য প্রার্থীদের মোবাইল ফোনেও এসএমএস পাঠানো হবে।

বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে শাটডাউন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে শাটডাউন

শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে।

সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সদ্য অব্যাহতি পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে প্রধান ফটকে অবস্থান করছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউনসহ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। উপাচার্য নিয়োগ ও অব্যাহতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে প্রত্যাহার করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য পদে বহালের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘ভিসির চেয়ার কারে চায়, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে পুনর্বহালের দাবিতেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। অধ্যাপক সায়েম গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে চুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শতবর্ষে বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


শতবর্ষে বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের

২০২৮ সালে শতবর্ষ পূর্ণ হতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। ঐতিহাসিক এই মাইলফলক উদযাপন উপলক্ষে সংস্থাটি বছরের বিভিন্ন সময় নানা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে ভারতীয় দলের বিপক্ষে একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব সামনে এসেছে বিশ্ব একাদশের।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শতবর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় এই আয়োজনের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিসিসিআইয়ের শতবর্ষ উদযাপন ২০২৭ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালজুড়ে চলতে পারে। এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ভারত ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে ম্যাচটি আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে।

তবে, ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সম্ভাব্য তারিখ, ভেন্যু কিংবা দুই দলের খেলোয়াড়দের তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অর্থাৎ, পুরো পরিকল্পনাটি আপাতত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের ধারণাটি নতুন নয় ভারত ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে। অতীতে বিভিন্ন উপলক্ষে এমন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদি বিসিসিআইয়ের শতবর্ষ উদযাপনে এবারও এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করা হয়, তাহলে এটি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য উদযাপনের একটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%