বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪২ পি.এম
কাশিয়ানী উপজেলা, গোপালগঞ্জ, একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এই পানিতে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা ফুল জন্ম নেয়। বর্ষাকালে, উপজেলার প্রায় তিন হাজার মানুষ শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
বর্ষা মৌসুমে কৃষকদের তেমন কোনো কাজ না থাকায়, অনেক কৃষক, বেকার এবং অন্যান্য পেশার লোকজন বর্তমানে শাপলা সংগ্রহের পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই শাপলা একদিকে সবজির চাহিদা পূরণ করছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে কাজ না থাকা বেকারদের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
উপজেলার সিংগা, রাহুথড়, হাতিয়াড়া, শিল্টাসহ বিভিন্ন বিলে, খুব ভোরে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষরা নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করেন। কোনো পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায়, এই পেশা বেশ লাভজনক বলে মনে হচ্ছে।
শাপলা ফুল সাধারণত বর্ষায় ডুবে যাওয়া বোরো ধানক্ষেত, পাটক্ষেত ও আমন ধানক্ষেতে বেশি জন্মায়। শাপলা শুধু জাতীয় ফুলই নয়, বরং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে সবজি হিসেবেও জনপ্রিয়।
শাপলা বিক্রির জন্য উপজেলার রাহুথড়ে একটি পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। ভোরের আলো ফুটতেই, আশপাশের গ্রামসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শাপলা সংগ্রহকারীরা এখানে জড়ো হন। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে বাজার মুখরিত হয়ে ওঠে। শাপলা ফুলের সাদা আভায় পুরো বাজার আচ্ছাদিত হয়ে যায়। পাইকাররা এসব শাপলা কিনে জেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল ও লোহাগড়ায় বিক্রি করেন।
রাহুথড় শাপলার পাইকারি আড়তের ইজারাদার শংকর কুমার বসু জানান, "প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষরা শাপলা সংগ্রহ করে নৌকায় করে পাইকারি দামে বিক্রির জন্য এখানে নিয়ে আসে।" পাইকাররা এসব শাপলা কিনে ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমন করে কাশিয়ানী সদরসহ যশোর, খুলনা, আলফাডাঙ্গা ও ভাটিয়াপাড়া নিয়ে বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০ গাড়ী শাপলা এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় যায়।
শাপলা সংগ্রহকারী গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, "আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বর্ষাকালে শাপলা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় ৫-৭শ’ টাকার শাপলা সংগ্রহ করতে পারি। ভোরে রাহুথড় বাজারে পাইকারি দামে বিক্রি করে দেই।"
কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এজাজুল করীম বলেন, "শাপলা একদিকে যেমন মানুষের পুষ্টির দাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। কাশিয়ানীর বিলাঞ্চলে বর্ষাকালে কোনো ফসল হয় না। তখন কৃষকদের কোনো কাজ থাকে না। তারা তখন বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ যোগান। প্রায় তিন হাজার পরিবার শাপলা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।" সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আদালত আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।
পুলিশ ইতিমধ্যে এই মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বৃহস্পতিবার আবারও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামির জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মৃত নারী খুবই আবেগী ছিলেন। তিনি অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন এবং পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আসামি দাবি করেছেন। মামলাটি চাঞ্চল্যকর এবং এর মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের জন্য আসামিকে পুনরায় সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া অপরিহার্য।
এর আগে, ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ শেরে বাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমান—এই তিনজনকে আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর, ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানিকেতন দারুল উলুম চৌমুহনী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের সংবর্ধনা, আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সবক প্রদান। এই অনুষ্ঠানে এ-প্লাস প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের ক্রেস্টও প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদরাসার হলরুমে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক মো. জুবাইর ইসলাম ও সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন। মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহা. আনওয়ারুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।
অনুষ্ঠানে তিনি আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি সবকও প্রদান করেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, আশাশুনি জামায়াতের আমির আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, মাদরাসার সভাপতি ও রোকেয়া মুনসুর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক চৌধুরী মোশাররফ হোসাইন, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের হোসেন, আবু রাসেল আসকারী, অভিভাবক মাওলানা নাজমুল আমান, মো হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. আছাদুল্লাহকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারকারী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
এ অনুষ্ঠানে সকল পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, অভিভাবকসহ মাদরাসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলমান পরিস্থিতিতে, সেপ্টেম্বর মাসটি এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর জন্য ভয়াবহতম মাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, এবার একদিনে ৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায়ও ১১ জনের মৃত্যু ঘটেছে এই ডেঙ্গুর কারণে।
এখন পর্যন্ত চলতি বছরে মোট ২০৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে, সেপ্টেম্বর মাসের ২৩ দিনে ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ২৩ দিনে ১১২ জনের মৃত্যুর আগে আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে দুজন করে মারা গেছেন ডেঙ্গুর কারণে।
এই হিসেবে, চলতি বছরে এডিস মশাবাহিত রোগটি মোট ২০৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া, খুলনা বিভাগে ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪, চট্টগ্রামে ২৮৮ জন, ময়মনসিংহে ১০৮, রংপুরে ৭৩ জন, রাজশাহী ১৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিতে না পারলেও চলতি মৌসুমে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া রীতিমতো উড়ছেন। ইতোমধ্যে ৮ ম্যাচে ১৪টি গোল করে ফেলেছেন তিনি। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে রাফিনিয়ার প্রতি নজর পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।
আসন্ন জানুয়ারির দলবদলের বাজারে ওল্ড ট্রাফোর্ডে এই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দলে টানার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ফিচাহেসে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইকেল ক্যারিকের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রাফিনিয়াকে তাদের আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। তাকে রাজি করাতে ইউনাইটেড একটি অবিশ্বাস্য রেকর্ড-ব্রেকিং প্রস্তাবের পরিকল্পনা করছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রাফিনিয়ার জন্য প্রায় ১২০ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল বিড প্রস্তুত করছে, যা তাদের ইতিহাসে অন্যতম রেকর্ড দলবদল হতে পারে।
ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটি রাফিনিকে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় বানাতে চায়। এমনকি ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডের চেয়েও তাকে বেশি সাপ্তাহিক বেতন দেওয়ার প্রস্তাব ভাবা হচ্ছে।
তবে বার্সেলোনা এই তরুণ ফুটবলারকে ছাড়বে কিনা, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। কারণ, বর্তমানে স্ট্রাইকার পজিশনে রাফিনিয়ার থেকে ভালো অপশন নেই হান্সি ফ্লিকের সামনে।
যদিও স্ট্রাইকার হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজকে দলে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে কাতালান ক্লাবটি। কিন্তু রাফিনিয়া বর্তমানে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর অবিশ্বাস্য ফর্মে আছেন। লা লিগায় তার টানা হ্যাটট্রিকসহ গোল বন্যা করেছে ক্লাবটি।
তবে এই ঐতিহাসিক মেগা চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়া অনেকটাই নির্ভর করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ালিফাই করার ওপর। এখনও পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ