ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেহেন্দিগঞ্জে লুডু খেলার চাল নিয়ে তর্ক, যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা


মেহেন্দিগঞ্জে লুডু খেলার চাল নিয়ে তর্ক, যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ইউনিয়নের জালিরচর গ্রামে লুডুখেলাকে কেন্দ্র করে 'শাকিল পন্ডিত' (২৪) নামের এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শনি বার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী শান্ত, শুভ ও রাকিব জানান, তারা ৪ জন মিলে একসঙ্গে বাড়ির সামনে একটি ঘরের মধ্যে লুডুখেলছিলেন। স্বাভাবিকভাবে, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন প্রতিবেশী মৃত আলম মাতাব্বরের ছেলে 'সাইদুল মাতাব্বর'।

লুডুখেলার চাল নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাইদুল মাতাব্বর একটি হাতুড়ি নিয়ে শাকিল পন্ডিতের মাথায় আঘাত করেন। এ সময় শাকিল পন্ডিত মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শান্ত, শুভ ও রাকিব মিলে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিন উদ্দিন জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মর্গেপাঠানো হয়েছে। হত্যাকারী সাইদুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর ঘটনায় প্রতিবাদ সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ এম


সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর ঘটনায় প্রতিবাদ সভা

আসামির মৃত্যুর গুজবে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় মামলা দায়েরের ফলে হয়রানির উদ্দেশ্যে দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামসহ দুই সাংবাদিককে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ষড়যন্ত্র করে ওই দুই সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, হামলার ঘটনায় ৪৩ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিনশত জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি এফ.এম নাজমুল রিপনকে ২১ নাম্বার এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নাম্বার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। হয়রানির উদ্দেশ্যে ওই দুই সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে একটি প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি মো, শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, কে.এম আজাদ রহমান, সহ-সভাপতি এইচ.এম মাসুম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর বিশ্বাস ননী, সদস্য বরুন বাড়ৈ, মানিক হাওলাদার, স্বপন দাস প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ষড়যন্ত্র করে এই দুই সাংবাদিককে মামলায় জড়ানো হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক হামলার ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে হাসপাতালে ও পরবর্তীতে থানায় গিয়ে ভাংচুরের দৃশ্য ও আহত পুলিশ সদস্যদের এবং ওসির বক্তব্য ভিডিও করেন। ওই দুই সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর ঘটনায় সকল সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। ওই দুই সাংবাদিক হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। আশা করা হচ্ছে, নিরপেক্ষ তদন্ত করলে ওই দুই সাংবাদিকের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না। বক্তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং ওই দুই সাংবাদিককে মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান। সংবাদ সংগ্রহের সময় ঘটনার বিষয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি মাদকসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ টাকার বিনিময়ে ৩ জনকে ছেড়ে দিয়ে ১ জনকে আদালতে সোপর্দ করেন।

এ সংবাদ যুগান্তরসহ ৪/৫টি দৈনিক এবং নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হলে থানা পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে এক মাদক বিক্রেতাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় ডিজি দায়ের করিয়ে। ষড়যন্ত্র করে হয়রানির উদ্দেশ্যে আমাকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি তথ্যমন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফ.এম নাজমুল রিপন বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদের জের ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র আমার বিরুদ্ধে থানায় ৬টি জিডি করেছে। থানায় হামলার ঘটনায় আমরা প্রশাসনের পাশে থেকে নিউজ দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। তারপরও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, হামলাকারী ও হামলায় উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ভিডিও ফুটেজ, প্রাথমিক তদন্ত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল কার্যরত রয়েছে। তদন্তে অবগতির ভিত্তিতে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে হয়রানির সম্মুখীন করা হবে না এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগভাবে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করা হবে। উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। থানা হাজতে দেয়ালের কাছে রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন রিয়াজ ফকির পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন এমন গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, আত্মীয়স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় হামলা, ভাংচুর ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করে, আদালতের বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ এম


প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা

আগামীকাল সোমবার বরিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের জন্য বরিশালে উচ্ছ্বাসের আমেজ বইছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা দফায় দফায় আনন্দ মিছিল, সভা-সমাবেশ এবং সফরের বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এদিকে, তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন এবং তোরণ স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতে দলের শীর্ষনেতারা প্রধানমন্ত্রীর আগমনে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সতর্ক হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল রাত ৮টায় বরিশাল সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মজিবর রহমান সরোয়ার (এমপি), বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, আবুল হোসেন এমপি, সরফুদ্দিন সান্টু এমপি উপস্থিত ছিলেন। সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন শীর্ষনেতারা। বিশেষ করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে এবং প্রধানমন্ত্রী বিব্রতবোধ করেন, এমন কোনো প্রশ্ন না করার জন্যও কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন শীর্ষনেতারা।

এ ছাড়া নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ত্রিশ গোডাউন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মীকে ওই কর্মসূচির বাইরে অন্য কোনো আয়োজনে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সার্কিট হাউসে থাকবেন সফরসঙ্গী ও দলের শীর্ষনেতারা। নেতারা আরও জানান, সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যেই নেতা-কর্মীদের সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবে না। সভায় বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, গত চার দিন ধরে নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানও একই প্রত্যাশার কথা জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেহেন্দিগঞ্জে হাতুড়িপেটায় কামাল হত্যা: মূলহোতাসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ এম


মেহেন্দিগঞ্জে হাতুড়িপেটায় কামাল হত্যা: মূলহোতাসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার

বরিশালের কাজিরহাট থানার মোস্তফা কামাল হত্যা মামলার মূলহোতা সহ দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে র‍্যাব-৮-এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বরিশাল র‍্যাব-৮ সদর কোম্পানির সদস্যরা র‍্যাব-১, সিপিসি-২-এর সহযোগিতায় ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার সেক্টর-১২ ও সেক্টর-১৩ এলাকার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন বরিশালের কাজিরহাট থানার চিলমারী এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে এবং মামলার মূলহোতা মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার (৪৮) এবং একই এলাকার আনিচ হাওলাদার।

র‍্যাব জানায়, নিহত মোস্তফা কামাল (৪৫) বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার রতনপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা সময় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শাহাবুদ্দিন, আল আবিরসহ অন্যান্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে কামালের পথরোধ করে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামদা, চাপাতি, লোহার রড ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা তার ওপর হামলা চালায়। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে শাহাবুদ্দিন তাকে জাপটে ধরে এবং হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে কামাল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্যান্য আসামিরাও হাতুড়ি দিয়ে তার দুই হাত ও দুই পায়ে এলোমেলোভাবে আঘাত করে। এছাড়া রামদা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

এ সময় স্থানীয় মন্টুবয়াতীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা কামালকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কাজিরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তরা স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্তকরার চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুই আসামীকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-৮-এর মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে জনশূন্য ফুলশ্রী গ্রাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ এম


থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে জনশূন্য ফুলশ্রী গ্রাম

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রাম এখন অনেকটাই জনশূন্য অবস্থায় পরিণত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি ওই গ্রামের রিয়াজ ফকিরের (২৬) পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজন এবং এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করেন। এ ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলার কারণে গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামের অধিকাংশ নারী ও পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে। ফলে গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে, থানা পুলিশের দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২২ জন নারী ও পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নামোল্লেখ করা আসামিদের নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে থানায় ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হামলার ঘটনার সাথে থানার সংলগ্ন বাকাল ইউনিয়নের ফুলশ্রী গ্রামের নারী ও পুরুষরা জড়িত থাকলেও মামলার এজাহারে রাজিহার ও গৈলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং যুগান্তর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলা টিভির বরিশাল প্রতিনিধি এফএম নাজমুল রিপনকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।

একইসাথে দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ এলাকা গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রাম থেকে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী যুবলীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি কামরুজ্জামান আজাদ সেরনিয়াবাত এবং জেলা যুবলীগ নেতা সাগর সেরনিয়াবাতকেও আসামি করা হয়েছে। এই দুই সাংবাদিক নেতাকে আলোচিত মামলায় আসামি করার বিষয়ে সম্পূর্ণ রহস্যজনক দাবি করে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে তথ্যমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তীতে থানার ওসির উপস্থিতিতে তথ্যমন্ত্রী সঠিক তদন্ত করার জন্য এবং পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় যেন হয়রানী করা না হয়, সেজন্য ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। পাশাপাশি তথ্যমন্ত্রী পুরো ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইন অনুযায়ী আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

অপরদিকে, বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, থানায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পুলিশ সুপার আরও বলেছেন, যদি কারো নাম ভুলবশত এজাহারে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে এবং তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তবে তাদের কোনো ধরনের হয়রানী বা গ্রেপ্তার করা হবে না। আপাতত ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সূত্রমতে, আলোচিত মামলায় গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে প্রেরিত ব্যক্তিরা হলেন রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তার, গিয়াস ফকির, সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাঈম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজুহাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার, তানজিলা আক্তারসহ মোট ২২ জন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১২ জন নারী এবং ১০ জন পুরুষ। নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফুলশ্রী গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত নাঈম ফকির ঘটনার দিন বাড়িতে ছিলেন না।

মিছিল কিংবা থানার কোন ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবুও তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। যার কারণে পুরো গ্রামে তরুণ ও যুব সমাজসহ সব বয়সের নারী-পুরুষের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে পুরো ফুলশ্রী গ্রাম এখন অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে। যার ফলে পুলিশের চলমান অভিযানের কারণে গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যরা অনেকটাই আত্মগোপনে চলে গেছেন। থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি মামলার সন্দেহভাজন আসামি ফুলশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় থাকার সময় রিয়াজ লোহার দরজায় নিজেই মাথায় আঘাত করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে ওই রাতে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় এবং গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে কয়েকশ’ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় থানার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরসহ কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। এ ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, গুরুতর আঘাত এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%